শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২২, ০১:০২ রাত
আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২২, ০১:০২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খুব রসিয়ে রসিয়ে গরুর বর্ণনা দিচ্ছিলেন এক গরু-পালক

সুমন্ত আসলাম

সুমন্ত আসলাম: খুব রসিয়ে রসিয়ে গরুর বর্ণনা দিচ্ছিলেন এক গরু-পালক। গরুর হাটে তা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন এক সাংবাদিক। হঠাৎ পাশ থেকে একটা গরু গুতো মারে গরু-পালককে, ছিটকে বেশ কিছুটা দূরে পড়ে যান তিনি। চমৎকার করে গরু নিয়ে কথা বলছিলেন আপুটি। এটা-ওটা- সেটা, শেষে গরুর গায়ে একটা হাত রেখে বললেন, ‘শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয় এটাকে, প্রতিদিন কন্ডিশনার দিয়েও’। সাংবাদিক বিগলিত গলায় বললেন, ‘প্রতিদিন’। আপুটি প্রবল উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে বললেন, ‘জি, প্রতিদিন’। আমার এই গরুটি না মশা সহ্য করতে পারে না। তাই মশারি তো রাতে টাংগিয়েই দিতাম, দিনেরবেলা ওর দু পাশে কয়েল জ্বলত দুটো, ‘বাহ’। 

ভালো খাবার ছাড়া সাধারণ খাবার মুখে দেয় না সে। ওর জন্য আলাদাভাবে ঘাস চাষ করতে হতো আমাদের, ‘রুচিবান’। একা থাকতে পছন্দ করে, তাই আলাদা ঘর বানানো হয়েছিল ওর জন্য। মাঝবয়েসী শিক্ষিত গরুবিক্রেতা আরো ৬টা কথা বললেন হাটে বিক্রি করতে নিয়ে আসা তার গরু নিয়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, গরুর মোট ৯টা বিশেষ গুণকীর্তনের সঙ্গে ৮টা মিলে যায় আমার সঙ্গে। আমিও মশা সহ্য করতে পারি না, একা একা থাকতে ভালো  লাগে আমার, ইত্যাদি। কিন্তু শেষের কথাটা কিছুতেই মিললো না আমার সঙ্গে। কাছে কেউ দাঁড়ালে গরুটা চমৎকারভাবে লেজ নাড়ে। 

একটু ভেবে দেখলাম, লেজ মানুষের তথা আমারও আছে, একটা না, দুটো। কাউকে দেখে ও দুটো কারণ-অকারণে কচলাতে হয়, কারো কথা শুনে মোসাহেবি ঘষাঘষি করতে হয় ঘন ঘন, কেউ চাপাবাজি করলে ওই দুই হাতে তালি বাজাতে হয় আনন্দে। কিন্তু এসবের কিছুই পারি না আমি, একটা গরু লেজ নাড়াতে পারে, আর আমি কেবল সামান্যক্ষণের জন্য দুটো হাত এক করতে পারি না কারো মনরঞ্জনে। একটা গরু যা পারে, মানুষ  হয়ে আমি তা পারি না, তাই তো আমার কোনো মূল্য নেইÑ না ভোটের বাজারে, না বাজেটে, না এই সাধারণ জীবনযাপনে। পরজনমে গরু হওয়ার দরখাস্ত রইলো প্রভু। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ