শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২২, ১২:৩৯ রাত
আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২২, ১২:৩৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পলিটিক্যাল ফিলোসফি, লিবারেটারিয়ান সোশ্যালিস্ট ও সিঙ্গেল অথরেটেরিয়ান রিজিম

বাতেন মোহাম্মদ

বাতেন মোহাম্মদ: পলিটিক্যাল ফিলোসফিতে আমার অনেক অবস্থান এনার্কিস্ট হলেও বাস্তবে আমি নিজেকে লিবারেটারিয়ান সোশ্যালিস্ট ভাবতেই পছন্দ করি। আমার সেই ভাবনা থেকেই মনে হয় আমরা দিন দিন সমাজের সর্বনিম্ন স্তর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তরে একধরনের এনার্কিজমের দিকেই যাচ্ছি। তবে টেক্সটবুক এনার্কিজমের সাথে এ-ই এনার্কিজমের পার্থক্য হচ্ছে এটা অথরিটারিয়ান একটা রিজিমকে সাপোর্ট করার জন্য শত বছর ধরে গড়ে ওঠা সোশ্যাল হায়ার্কিকে ভেঙে ফেলছে। বিপরীতে একটা সিঙ্গেল পলিটিক্যাল অথরিটি কন্সট্রাক্ট করার চেষ্টা করছে। 

আরেকটু সহজ করে বলি। আগে আমাদের  গ্রাম পাড়া মহল্লা শহরে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিলো। যেখানে নানা মত, নানা পথের মানুষ সোশ্যাল কিংবা কালচারাল উদ্দেশে জড়ো হতো।  এটা সোশ্যাল কনফ্লিক্ট রেজুলেশনের একটা বেসিক বিল্ডিং ব্লক হিসাবে কাজ করতো। সামাজিক নানা বিবাদ মেটাতো সামাজিক সংগঠন গুলোর ভূমিকা একই সাথে সোশ্যাল কহেসন ও সোশ্যাল ক্যাপিটালের এক্সাম্পল হিসাবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু গত এক দশকে সোশ্যাল অর্গানাইজেশনে একটা বিশাল পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক সংগঠনগুলো তার সামাজিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে কিংবা তাদের থেকে হরণ করে নেওয়া  হয়েছে বলা যায়। জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিই সামাজিক সংগঠনগুলোকে ছিনতাই করে নিয়েছে। এতে সমাজের নানা মত, নানা পথ সৃষ্টি ও বিকাশের পথ পুরোটাই রুদ্ধ হয়ে গেছে।

এখন সামাজিক সংগঠন বলতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনকেই বুঝায়। সাংস্কৃতিক সংগঠন বলতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাংস্কৃতিক সহযোগী সংগঠনকেই বুঝায়। এ-র বাহিরে নানা নামে সংগঠন থাকলেও সেগুলো আসলে এইসব সংগঠনের আম্ব্রেলায় অপারেট করে। এতে নতুন কোন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা উঠে আসছে না। একটা সিংগেল ন্যারেটিভ বাকি সব ন্যারেটিভকে  গ্রাস করে সমাজকে গতিহীন করে তুলছে। এ-ই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থবিরতায় জন্ম নিচ্ছে কিশোর গ্যাং, অনলাইন বুলিং গ্রুপ, আন্ডারগ্রাউন্ড রিলিজিয়াস রেডিকাল ফোর্স। যেহেতু বাকি সব সোশ্যাল ফোর্সকে একটা সিঙ্গেল ফোর্স আইদার আউটকাস্ট করেছে নয়তো গ্রাব করেছে তাই এ ধরনের সোশ্যাল ডিজিজগুলোকে এড্রেস করতে একমাত্র উপায় থাকে স্টেট পুলিশের কোয়ার্সিভ পাওয়ার।

এ-ই অল এনগ্রোসিং রাজনীতিকরণের ফলে সোশ্যাল পাওয়ার পকেটগুলো অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় শুধু স্টেট কোয়ার্সিভ পাওয়ার ডমিনেট করছে। সামাজিক বিবাদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিবাদ, ব্যক্তিগত জীবন সবখানেই এখন স্টেট পুলিশিং ছাড়া অন্য কোনো মেকানিজম আর ইফেক্টিভলি ফাংশনাল নাই। এভাবেই শত বছর ধরে গড়ে ওঠা সোশ্যাল হায়ার্কি এখন সিঙ্গেল অথরেটেরিয়ান রিজিমে কনভার্ট হচ্ছে। এটাকে কি এনার্কিজম বলা যায় কিনা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবে সিঙ্গেল অথরেটেরিয়ান রিজিমে সমাজে যে চিন্তা ও মতপ্রকাশের ভয়েড (শূন্যতা) তৈরি হয় তাতে সমাজ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ে যার লক্ষণ প্রকাশ পায় সামাজিক বন্ধনগুলো হারিয়ে যাওয়া,স্বার্থপরতা, হিংস্রতা, জোচ্চুরী,শঠতা এইসব বেড়ে যাওয়া দেখে। আমি নিশ্চিত আপনারা অনেকেই অভিযোগ করবেন, সমাজে স্বার্থপর, জোচ্চোর ঠগ লোকের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু একটু সাহস করে বলতে পারবেন না, কেন বাড়ছে? এ-ই যে বলতে পারেছেন না কেন বাড়ছে এটাই সিঙ্গেল অথরেটেরিয়ান রিজিমের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ