শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই, ২০২২, ১২:২৬ রাত
আপডেট : ০৫ জুলাই, ২০২২, ১২:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাঙালির সমাজ আর দুর্নীতি

মঈন চৌধুরী

মঈন চৌধুরী: আমাদের ইতিহাস দুই নম্বর ইতিহাস। আমরা চুরি শুরু করি ছোট বেলায় বন্ধুদের পেন্সিল রাবার চুরি করে, পড়শির গাছের ফল চুরি করে আর একুশে ফেব্রুয়ারি ফুল চুরি করে। আমাদের বর্গা চাষি ভাইরা ধান ভাগের সময় চুরি করে নিজে একটু বেশি রাখে, ক্ষেতে পানি দেওয়ার পাম্প চালক তেল চুরি করে, তাকে কিছু টাকা ঘুষ দিলে ক্ষেতে বেশি পানি দেয়। মেম্বার আর চেয়ারম্যান সাহেব টিন ন চুরি করে, গম চুরি করে, রাস্তাঘাট উন্নয়নের টাকা মেরে দেয়। আমাদের স্কুল মাস্টার স্কুলে না পড়িয়ে বাসায় পড়ায়। তার কছে যারা পড়ে তারা পরিক্ষায় বেশি নম্বর পায়। তারপরেও ছেলেমেয়েরা নকল করে, বাজারের দোকানদার ওজনে কম দেয়, ভেজাল মেশায়, ফরমালিন দেয়। আমাদের পুলিশ, টিএনও অফিস, কাস্টম অফিস, ট্যাক্স অফিস, ইঙ্গিনিয়ারিং দপ্তর, তহশিলদারের অফিস, সবাই সবসময় ধর্মমতে জাকাত আর ফেতরা নেন। 

সব আমলা আর রাজনীতিবিদরা তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য, সংসার চালানোর জন্য জাকাত, ফেতরা নেন। ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস আর হুন্ডি করে দুই নম্বর টাকা নিয়মিত বিদেশে চালান করা হয়। চুরি ডাকাতি করার এই ইতিহাস আমাদের নতুন কিছুই না। ঐতিহাসিক ভাবে আমরা চোর। রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র মহাশয় আমাদের মতোই ছিলেন। যাহোক, আমরা লোক দেখানোর জন্য কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তা ভাত খাই, একুশ তারিখে দুঃখের গান গাই আর তারপর দেখি চোলি কা নিচে কেয়া হায়। আমরা ’ও আমার দেশের মাটি’ গান গেয়ে পুরা দেশ খেয়ে ফেলতে চাই। আমরা মীরজাফর হই, নুরুল আমিন হই, এরশাদ হই, আরও কত কিছু হই। আমরা অনেক কথা বলতে পারি, চোর হয়ার পরেও আমরা ভাল ভাল কথা বলি, টকশোতে গিয়ে আমরা মহামানব হই। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্নীতি ছাড়তে হবে, এই শোকে আমরা চেয়ার ছাড়তে চাই না। 

আমরা এমন কেন হই তা নিয়ে চিন্তা করি না। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা ধর্ম নিয়ে চিন্তা করেন, মার্ক্স নিয়ে চিন্তা করেন, লাকা নিয়ে বলেন, কিন্তু নিজেদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করেন না। আমি মনে করি আমাদের যৌথ মনস্তত্ত্ব না বুঝলে আর মনস্তত্ত্ব কেন্দ্রিক যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের দেশে শান্তি আসবে না। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ