শিরোনাম
◈ সরকার দূর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করেছে: মির্জা ফখরুল ◈ ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা, ইহুদি এজেন্সি বন্ধ করে দিচ্ছে রাশিয়া ◈ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ব্যক্তিগত, ভারতকে অনুরোধ করেনি আওয়ামী লীগ ◈ মিডিয়াকে সহনশীল হওয়ার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ◈ টি-টোয়েন্টি একাদশ নির্বাচন করবে সাকিব ◈ ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাঙচুর, পুলিশ মোতায়েন ◈ বিশ্বের ১০০ শীর্ষ বন্দরের তালিকায় ৬৪তম চট্টগ্রাম বন্দর ◈ চলন্ত লঞ্চে সন্তান প্রসব, আজীবন যাতায়াত ‘ফ্রি’ ◈ মৌলভীবাজারে টিলা ধসে ৪ নারী চা শ্রমিক নিহত ◈ ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে স্বাধীনতায় তাদের বিশ্বাস নাই’

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:৩৫ রাত
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাঙালির নবজাগরণ

মঈন চৌধুরী

মঈন চৌধুরী: বেশ কয়েক বছর আগে পুষ্কর দাশগুপ্ত রচিত ‘দুঃচিন্তা দুর্ভাবনা’ পড়ছিলাম। পড়ে বুঝেছিলাম বাঙালির রেনেস্যা ছিল সমাজের জন্য ভাল এবং একই সাথে ছিল সামাজিক বিভেদ সৃষ্টির মূল কারণ। আজ তা নিয়ে কিছু লিখলাম। অষ্টাদশ, উনবিংশ শতক ছিল প্যারাডক্সের শতক। সমাজের উপরিতলে অবস্থানকারী মহামান্যদের কথা আর কাজে খুব একটা মিল থাকতো না। বাঙালি নবজাগরণের নেতা, আধুনিক ভারতের আদিপুরুষ রামমোহন রায়ের জীবন ছিল দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামিতে ভরপুর। একদিকে কালেক্টর ডিগবির সহকারী হিসেবে উৎকোচ গ্রহন, অবৈধ ও কূট উপায়ে বিশাল সম্পত্তির মালিক হওয়া ও অর্থ উপার্জন এবং একই সাথে সমাজ ও ধর্ম সংস্কারক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা দ্বৈত চরিত্রের নির্দেশক। বঙ্কিমচন্দ্র হলেন ঋষি ও সাহিত্য সম্রাট, চোগা-চাপকান আর মাথায় শামলা পরে নিজের মুখোশকে এমনই পোক্ত করলেন যে আজ আর ধুতি-ফতোয়া পরা বাঙালি ব্রাহ্মণ বঙ্কিমচন্দ্রকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে একটু খুজলেই তার সাম্প্রদায়িক চরিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। 

ধনী জমিদার ও ব্রাহ্ম সমাজের নেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের আগে বসে গেল মহর্ষি উপাধি, খবরের কাগজের মালিক শিশির কুমার ঘোষের নামের আগে যোগ হলো মহাত্মা।  বিপ্লবি অরবিন্দ ঘোষ মানিকতলা বোমাবাজির মামলায় কিছুদিন জেল খেটে বাইরে এসেই বিপ্লবী চরিত্র মুছে ফেলে পন্ডিচেরিতে গিয়ে হয়ে গেলেন মরমিয়া সাধক, নামের আগে বসে গেল ঋষি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অভিনয় করে গেলেন কবিগুরু বা গুরুদেবের ভুমিকায়, লম্বা আলখেল্লার আড়ালে একজন কবি মানুষের সমস্ত  আবেগ, অনুভুতি, দুর্বলতা, স্ববিরোধ ও অন্য সব মানবিক গুণ গোপন রেখে বাল্মিকী, কালিদাসের মিথিকাল জীবন যাপন করতে বাধ্য হলেন। তিনি হয়ে গেলেন জনগনবিচ্ছিন্ন। বাংলার উচ্চবিত্তের বাবুরা মদ ও মেয়েমানুষ নিয়ে হতে চাইলেন সাহেব, মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের জনগন ঘুষ খেয়ে, চুরি-বাটপারি করে হতে চাইল আড়তদার, মহাজন কিংবা জমিদার। সামাজিক এই অবক্ষয়ের সময় একজন ছড়াকার কিংবা মৌলিক সত্তা লিখতেই পারেন,--সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন যেন আমি ভাল হয়ে চলি। এই সময়েই বাঙালি হিন্দু আর মুসলমানদের মাঝে বিভেদ চুড়ান্তে উঠেছিল, সামাজিক জাত পাত বিভাজন আর সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটেছিল। 

আমাদের বর্তমান কেমন? আজ  আমাদের মাঝে দ্বিচারিতা নেই। আমরা এখন সবাইকে জানিয়ে চুরি করি, ঘুষ খাই, খুন করি, গুম করি, যা ইচ্ছে তাই করি। আমাদের এই কর্মকাণ্ডে নেতা থাকে, নেত্রী থাকে, কর্মী থাকে, দালাল থাকে, মাস্তান থাকে। আসলে আমরা সবাই এখন দুর্নীতিতে উস্তাদ। এই সময়ে সাম্প্রদায়িকতাও বাড়ছে নিয়মমাফিক। এখন আমাদের উচিত একটা বড় তসবিহ কেনা এবং সারাদিন জপ করা,--সারাদিন যেন আমি ভাল হয়ে চলি, সারাদিন যেন আমি ভাল হয়ে চলি, সারাদিন যেন আমি ভাল হয়ে চলি...। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ