শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:৩২ রাত
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:৩২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে দেশে বিশেষায়িত ইসলামিক টিভি চ্যানেল থাকা দরকার

বাতেন মোহাম্মদ

বাতেন মোহাম্মদ: আমার সত্তোর্ধ্ব রিটায়ার্ড বাবা ও গৃহিনী মায়েদের মতো এমন লক্ষ লক্ষ বাবা-মা আছে যারা রিটায়ার্ড লাইফ আর বার্ধক্যে একধরনের পরকালীন চিন্তায় বেশি পরিমাণ এনগেজড হয়ে যান। এর সাথে ধর্মীয় উগ্রতার কোনো সম্পর্ক নেই। এক জীবন সন্তানদের মানুষ করতে নিজের শখ-আহ্লাদ কিছুই পূরণ করতে না পারা এসব নিম্নমধ্যবিত্ত বাবাদের অবসর জীবন কাটে হয় নাতি-নাতনীদের স্কুলে আনা নেওয়া করে অথবা ছাদ বাগান করে। এর বাইরে সারাদিন ব্যস্ত থাকার মতো না কোনো সামাজিক জীবন এদের আছে, না এরা প্রযুক্তির মাঝে ডুবে থাকতে পারে। এই বয়সে চোখ- কান ঠিকমতো অনেকের কাজ করে না। তাই বইয়ের ছোট ছোট লেখাও পড়া অনেকের পক্ষে সম্ভব না।।

 এই বয়সী মানুষদের মন-মনন অনুযায়ী টিভি, নিউজ কন্টেন্ট নেই বললেই চলে। 

তাহলে এই বয়সী সমাজের বিশাল একটা অংশ করবে কি সারাদিন? সবার তো ছাদ বাগান করার মতো জায়গা নেই। অনেকে হয়তো একজীবন সঞ্চয় করে ছোট একটা ফ্ল্যাট কিনেছে।।তাও মাস্টার বেডরুম এখন ছেলে ও ছেলের বউয়ের দখলে। এখন তিনি লিভিং রুমে ছোট একটা খাট পেতে থাকেন। সামাজিকতার অদ্ভুত নিয়মে এই বয়সীদের সবাই দাড়ি টুপিওয়ালা, ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ পড়া মানুষ হিসাবেই দেখতে অভ্যস্ত। মাঝে মাঝে হয়তো এলাকার টি-স্টলে চা খেতে যায়, উনারা চায় কেউ উনাদের সাথে গল্প করুক। কিন্তু এই বৃদ্ধদের সাথে গল্প করাকে কেউ আকর্ষণীয় মনে করে না। তার উপর উঠতি বয়সী বখাটে কিশোররা যেভাবে পাড়ার মহল্লার চা দোকানে সিগারেট ফুকে মুরুব্বিদের মুখের উপর ধোয়া ছেড়ে থোড়াই কেয়ার করে চলে যায় তাতে এ-ই বয়সীরা অনেকটাই সমাজে নিজেকে অবাঞ্ছিত ভাবতে শুরু করে।  একজীবন সন্তান পরিবারদের জন্য করে শেষ বয়সে এখন সন্তানদের ব্যস্ততা ও সামাজিক পরিকল্পহীনতায় দুইভাবেই নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। তখন এই শ্রেণীর মানুষ ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, এসবের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি এই শ্রেণীর মানুষের মাঝে ধর্মীয় উগ্রতা থাকে না। ধর্ম, স্রষ্টা এদের নিঃসংগতার সঙ্গী, মৃত্যু চিন্তার একটা রুট। এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

আমাদের মতো সন্তানরা যারা কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখে দেখেছি তারা ভাবি বৃদ্ধ বাবা-মা যেহেতু এখন চোখে কম দেখে তাই একটা বড় স্মার্ট টিভি কিনে দিলে উনারা নানা অনুষ্ঠান দেখে কিছুটা হলেও সময় কাটবে। উনারা নানা চ্যানেল ঘুরে উনাদের মন ও বয়স অনুযায়ী কন্টেন্ট খুঁজে পায় না। না পেয়ে হতাশ হয়ে  ইউটিউবে ওয়াজ শুনে। ইদানিং এসব কারণে ওয়াজের রমরমা ব্যবসা। অন্য অনেকের মতো আমার বাবা-মাও এইসব ওয়াজের ভোক্তা। আমি উনাদের সাথে বসে কিছুক্ষণ এইসব ওয়াজ শোনার চেষ্টা করলাম। ভয়াবহ। মিথ্যা তথ্য, নিজের ধর্মকে বড় করে দেখাতে অন্য ধর্মকে ছোট করে দেখানো, ভুল ব্যাখা। কিন্তু এইগুলোর শ্রোতা বেশি, তাই ফিডে এইগুলো বারবার আসে। বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা এতোটা প্রযুক্তিগত স্মার্ট নয় যে ইন্টারনেটের বিশাল সমুদ্র খুঁজে ভালো কন্টেন্ট বের করবে। দুয়েকজন হয়তো পারে। তবে বেশিরভাগই আমার বাবা-মায়ের মতো সামনে যা আসে তাই শোনেন, আর শুনতে শুনতে বিশ্বাস করে ফেলেন।

অনেকে হয়তো বলতে পারেন, ইউটিউবে অনেক ভালো কন্টেন্টও আছে। অবশ্যই আছে, কিন্তু আমাদের মতো প্রযুক্তি দক্ষ জেনারেশন যেভাবে লেয়ারিং করে চাহিদা অনুযায়ী কন্টেন্ট ক্লাসিফাই করতে পারে তা আমাদের আগের প্রজন্ম যারা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে স্মার্ট টিভি, ইন্টারনেট, ইউটিউবের সাথে পরিচিত হয়েছে তাদের জন্য এটা অনেক কঠিন। দুয়েকজন পারলেও অধিকাংশই সামনে যা আসে তাই দেখে। কিন্তু একটা ইসলামিক টিভি চ্যানেল থাকলে এই ধরনের দর্শকরা ওয়ান ক্লিকেই সে চ্যানেলে নেভিগেট করতে পারতো। তাছাড়া সরকারি নীতিমালার মধ্যে অনুমোদিত চ্যানেল হলে আপত্তিকর কোনো কন্টেন্ট থাকলে সরকার তা নজরদারি করতে পারতো। এখন ইউটিউবের নিয়ন্ত্রণহীন বিশাল জগতের মানহীন কন্টেন্টে এই শ্রেণীর ভোক্তা দর্শকরা নিজেরা যেমন বিভ্রান্ত হচ্ছে তেমনি নিজেদের ধর্ম জীবন নিয়ে একধরনের কন্ট্রাডিকশন তৈরি হচ্ছে। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ