শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:২৩ রাত
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০১:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকা শহরের গরুর হাট ও ইজারাদার

রবিউল আলম

রবিউল আলম: কোরবানি কেন্দ্রিক পশুপালনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা গরুর ফার্মগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী যে সভাগুলো করছেন, তাতে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যকেই দায়ী করা হচ্ছে। মাংসের উচ্চমূল্য, ভারত থেকে অবৈধ মাংস আমদানি, পশুর চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও পশুর বর্জ্য রপ্তানির কোনো বিষয় আলোচনায় আসে না। চামড়াশিল্প ধ্বংস, মাংস শ্রমিকে প্রশিক্ষণ, কোরবানির কাঁচা চামড়া রক্ষণাবেক্ষণ। দেশীয় কৃষকের পশুপালন, পশুখাদ্য উন্নয়ন, মিষ্টি পানি ও বাংলাদেশের আবহাওয়াকে সঠিক ব্যবহার বিধি নিয়ে আলোচনা নেই। মাননীয় মন্ত্রীকে যারা সঠিক তথ্য দিতে পারবেন, সেই সুযোগ কি তারা পাচ্ছেন? মন্ত্রীর সাহেবের সরলতাকে পুঁজি করে অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও ফার্মার এসোসিয়েশনের যোগসাজশে বিগত রমজানের ঈদে ৫৫০ টাকায় মাংস বিক্রির নাটক হয়েছিলো! বৃহত্তর জাতির জন্য কোনো ভূমিকার রাখতে পারেনি। অধিদপ্তরের গরু ও সরকারের টাকার অপচয়ে কিছু ব্যাক্তির পকেট ভারী হয়েছে! 

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করলে সব বিষয় পরিষ্কার হতে পারে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে গরুর হাটে খাজনা দ্বিগুণ, তিনগুণ হওয়ার বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়। এই টাকা কি সরকারের কোষাগারে জমা হয়, নাকি চাঁদাবাজ গড়ার কারখানা সৃষ্টি হয়? একজন কোরবানিদাতার এবং একজন পশু বিক্রয়কারী কৃষকের উপর কতটা জুলুম হয়, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কি কোনোদিন ভেবে দেখেছেন? খাজনা আদায়ের বিবেচনা করা হয় স্থানীয় ইজারাদারের দাবিকে পূরণ করতে। ব্রিটিশ সরকার এ দেশীয় লাঠিলায় ও দালাল লালন পালনের জন্য গরুর হাটের টোলকে ব্যবহার করেছে। আমরা এখনো সেই ব্রিটিশ আইনে জাতাকলে? বাঙালির রক্তের স্বাধীনতা গরু হাটে বন্দি থাকতে পারে না। 

ভারত, মিয়ানমার চোরাই পথে পশুপাচার শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়, যদি আমাদের দেশের কৃষককে শতভাগ পশুপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়। মন্ত্রী, মেয়রদের একঘণ্টার মিডিয়া ট্রায়ালের মিটিংয়ে হবে না। তাই আর বিস্তারিত আলোচনা করে প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করতে চাই না। ঈদের পরে সরকারের পরিকল্পনা ও বাঙালি জাতির অভিজ্ঞতা, পশুপালন, চামড়াশিল্প, পশুর বর্জ্য রপ্তানি করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। ভোক্তা, কৃষক, শিল্প,সংবাদ মাধ্যম  প্রশাসনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সরকার এগিয়ে আসলে ভারতের পশু ও মাংসের প্রয়োজন হবে না। কোরবানির সুরোম গরুর ফার্মারদের অবৈধ দাবির কাছে সরকারকে জিম্মি হতে হবে না। এ দেশের কৃষক বিশ্বকে মাংস খাওয়াবে, কোরবানির প্রয়োজন মিটাবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রপ্তানি খাতকে রক্ষা করবে। পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক পরিকল্পনায় আজ বিশ্ব আলোচিত, আলোচিত পদ্মা সেতু। শেখ হাসিনাকে আপনারাও চমক দেখাতে পারেন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। আমি বিশ্বাস করি বাঙালি শুধু চোরের জাতি নয়, বীরের জাতিতে পরিণত হয়েছে। এখনো চোরগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। 

 

  • সর্বশেষ