শিরোনাম
◈ লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক আজ ◈ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির দুইদিনের কর্মসূচি ◈ সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে ট্রলারযাত্রী নিহত ◈ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ ◈ রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত ২০ (ভিডিও) ◈ রাজধানীতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় জামায়াতের ৬ কর্মী গ্রেপ্তার ◈ হজে গিয়ে ভিক্ষা: অবশেষে জামিন পেলেন মতিয়ার ◈ মাঝিপাড়া হিন্দুপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫১ আসামি কারাগারে ◈ পরিবারের ৪ জনই ভুয়া চিকিৎসক, করেন জটিল রোগের চিকিৎসা ◈ চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ১০

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৩:১২ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৩:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই তো হচ্ছে ইসলামের বিধান, তাহলে তদবির কেনো?

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: হেফাজতে ইসলাম নামের একটি সংগঠন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার কিছু আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেছেন। এসব ব্যক্তি হেফাজতের সদস্য ও নেতা। হেফাজতের একশ্রেণির সদস্যের কথা আমরা জানি।  তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুর করেছে। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জাতির জনকের ভাস্কর্য ভেঙেছে। অনেকেরই মনে থাকার কথা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া  রেল  স্টেশন পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। উপমহাদেশের  বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞের বাড়িও রক্ষা পায়নি।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাস্তাঘাটে কী ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল হেফাজত ও কয়েকটি মাদ্রাসার কিছু ছাত্র। পুলিশ তদন্ত করছে এখনো। ডিবি পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব সদস্যসহ গোয়েন্দারা এখনো অনুসন্ধান করছেন। কিন্তু তদন্তের মাঝখানে এ বাধা কেন? আর নারায়ণগঞ্জে? সেখানেও কী এক ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছিল তা দেশবাসী জানেন। রাস্থা-ঘাট, সড়ক-মহাসড়ক কিছুই বাকি ছিলো না এদের আক্রোশ থেকে। সরকারের কাছে প্রশ্ন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওরা কীভাবে মিটিং করার সুযোগ পায়? এসব অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িতরা  কীভাবে মুক্তি পেতে পারে?  হেফাজত নেতা জঘন্য মামুনুল হকের কারণে সুনামগঞ্জের  শাল্লার ঝুমন দাশের ওপর একেশ্রেণির লোক আক্রমণ চালিয়েছিল। উপজেলার  পুরো হিন্দু গ্রামে নয়াগাঁও  বর্বর আক্রমণ চালায় মামুনুলের অনুসারীরা। তছনছ করে ফেলেছিল সারা এলাকা। গ্রামের নিরীহ হিন্দুদের কী ধরনের অপরাধ ছিল যে, পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত , চুরমার করা হয়েছিল।  কেনো? শত শত বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিধ্বস্ত করা হয়েছিল। এদের ইন্ধনদাতারা কারা? সুতরাং এটাই আইনের শাসন যে, অপরাধ করলে বিচারের আওতায় আসতেই হবে। বাংলাদেশ পুলিশক সত্য আবিষ্কার করতে সময় দিতে হবে। পুলিশের ওপর আক্রমণ করার, পুলিশকে হামলা করার বিচার হয়েছে কী? নাকি দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের শুধু অপমান-অপদস্থ করার সুযোগ দেবো?  

অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাই তো হচ্ছে ইসলামের বিধান। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।  অপরাধ সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির কেনো? 
২০১৩,  ২০১৬, ২০২১ সালে  হেফাজতে ইসলামের একশ্রেণির  নেতা-কর্মীর তাণ্ডবে দেশে এক ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছিল সারাদেশে।  সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।   কিন্তু খুব কমসংখ্যক ত্রাসসৃষ্টিকারী অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাদের  বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ওরা অনেকেই এখন জামিনে রয়েছে। উপরন্তু ২০২১ সালের  কোনো  কোনো মামলার অভিযোগপত্রও  তৈরি হয়ে  গেছে। সুতরাং বিচারের আগেই মুক্তি দেওয়া হবে কীভাবে? 

স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষে ওরা কী করেছিল তা কী সহজে ভুলবার? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির বাংলাদেশ সফর ঠেকাতে  দেশে কী ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছিল ওরা!  গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা ঘিরে  দেশজুড়ে পুলিশের সঙ্গে  হেফাজত  নেতা–কর্মীদের ব্যাপক সহিংসতা হয়। এতে দায়িত্বপালন করার সময়  অসংখ্য পুলিশ সদস্য, র‌্যাব, গোয়েন্দা কর্মকর্তা মারাত্মক আহত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে ছিল, আশ্রয় দিয়েছিল খাবার দিয়েছিল কোটি মানুষের। অথচ ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায়  হেফাজতের একশেণির  নেতা–কর্মীর ত্রাস সৃষ্টি লক্ষ্য করেছে মানুষ। 

পত্রিকায় দেখলাম, জনপ্রিয় সিনিয়র রাজনীতিবিদ, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব  ও  সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল  মোকতাদির  চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “একটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার  যে, ইসলাম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান  নেয় না, তারা ইসলামের  ভেতরে নয়, বাইরে অবস্থান করে।” 

হেফাজতে ইসলামের কিছু ব্যক্তি কত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। তাদের একটি শ্রেণি  গুজব ছড়াতে সুদক্ষ। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার ও গুজব এদেশে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রশাসনকে বিপদে ফেলতে নানারকম ব্রিভ্রান্তি ছড়ায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুনিয়াব্যাপী সুনাম ক্ষুন্ন করে থাকে এসব অপকর্ম। তাদের চাওয়ায় অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব বিখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ুন আজাদের লেখা পাঠ্যপুস্তক থেকে  ফেলে দেওয়া হয়।   

এটা প্রমাণিত, অতি সহজলভ্য বিষয় হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেছে নিয়েছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ সম্পর্কে কুৎসা রটানো হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে ও জ্বালাও-পোড়াও করতে ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শেখ হাসিনার সরকারের ভাল কাজের বিরুদ্ধেও কুৎসা চলছে। বাঙালির গর্বের ও স্বপ্নের স্থাপনা পদ্মা  সেতু নিয়েও নানাগুজব ছড়ানো হয়েছিল। উদ্বোধনের পরে দুনিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসিত হয়েছে। এখন তো সারা দুনিয়ায় আলোচিত আমাদের পদ্মা সেতু।  অথচ পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ চলার সময় নানারকম গুজব ছড়ানো হয়েছিল। বিএনপি নামের দলটি কী করেছিল তা মানুষ জানে। কী ভয়ংকর অপপ্রচার চালিয়েছিল তারা। দলের প্রধান দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত। দলপ্রধানের পুত্র তারেক রহমানও দণ্ডিত অপরাধী। কিন্তু এদেশের কিছু মানুষ সুযোগ পেলেই এই দলের নেতাদের পক্ষে সাফাই গায়, তাদের অবস্থান  তুলে ধরে স্মরণ করিয়ে দেয়, তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্ন করতেও কম যান না। অর্থাৎ সুযোগ পেলেই হলো। প্রধানমন্ত্রীর  একটা কথা খুব বেশি মনে পড়ে।আমি সেই সংবাদ সম্মেলনে থাকলেও দিনক্ষণ মনে নেই, ২০২১-এ নভেম্বর দিকে সম্ভবত।  স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এ অংশগ্রহণ এবং লন্ডন ও ফ্রান্সে দু-সপ্তাহের সফর বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। 
  খালেদা জিয়ার বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএনপি’র দাবির  প্রেক্ষিতে সম্মেলনে উপস্থিত এক সাংবাদিক সাহেব প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এসময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে  এ প্রশ্নটি উল্লেখ করে বলেছিলেন, “আমার কাছে প্রশ্নের উত্তর চান? খালেদা জিয়াকে  বাসায় থাকতে এবং চিকিৎসা করারও সুযোগ দিয়েছি।  

সেটাই কি  বেশি নয়!” অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জবাবে হলঘর নিরব হয়ে গেল। অনেক সাংবাদিকই ফিসফিস করে উচ্চারণ করেন, ‘তাইতো।’ প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বারবার তাঁকে হত্যা প্রচেষ্টায় খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপন করে উল্টো প্রশ্নকারী সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “আপনাকে  কেউ হত্যার চেষ্টা করলে আপনি কি তাকে ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বা আপনার পরিবারকে  কেউ হত্যার পর বিচার না করে  সেই খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে যদি পুরস্কৃত করতো তাহলে কি করতেন?”

আমরা জানি, শুধু আমরা নয় গোটা দুনিয়া জানে যে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে কিছু শর্তে সাময়িক মুক্তি  দেয়। শর্তানুযায়ী তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তবে, তার বাসায়  থেকে চিকিৎসা  নেয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় বহুবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা  নেওয়া হয়। তাঁর সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরাও চাই, উনি সুস্থ্য থাকুন। 

গুজবের কথা আরেকটু বলি, রাজধানীর বাড্ডায় একজন মহিলাকে  (রেণু) স্কুলে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। রেণুর জীবন কী ফিরিয়ে দেওয়া যাবে? কী দোষ ছিল তাঁর? তাঁর বাচ্চাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? ছেলেধরা গুজব ছড়ানো হয় তখন। সারাদেশেই গুজব ছড়ানো হয় পদ্মা নদী নাকি মাথা চায়। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার সম্পর্কে পরিকল্পিত ও মিথ্যা  কুৎসা দীর্ঘদিনের। এখনো একের পর এক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলের শীর্ষ  নেতাদের সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক কুৎসা রটানো হচ্ছে।রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, পুলিশ, শিল্পপতি, সাধারণ মানুষ কেউই বাদ যাচ্ছেন না।   সুতরাং প্রশাসনে কর্মরতরা অপপ্রচারকারীদের  বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা  নেওয়া জরুরি।  

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট  ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ