শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০২:১৫ রাত
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০২:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কোথায়!

শরিফুল হাসান

শরিফুল হাসান: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়া অধ্যাপক, গবেষক ও নাট্যকার ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলা হয়েছে। তাঁর পরিবার বলেছ, একটি চক্র বাসার গেটের সামনে নিয়মিত বাজার বসায়, গেটের সামনে সবজির ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। এসবের প্রতিবাদ করায় এই হামলা। তবে হামলার ধরনটা দেখেন। অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর মেয়ে বলছেন, গেটের সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। রতন সিদ্দিকী বাসায় ঢুকতে পারছিলেন না গাড়ি নিয়ে। মোটরসাইকেলটি তাই তিনি সরাতে বলেন। তারা বলেন, সরাবেন না। এরপর হঠাৎ করেই নাস্তিক নাস্তিক বলে চিৎকার করে বাসার গেটে হামলা শুরু করে। এ সময় অনেকেই হিন্দু, হিন্দু বলে চিৎকার করেন। এদের মধ্যে কেউ ঢিল ছোড়েন, তারপর গেট ভাঙার চেষ্টা করেন। আমার বাবাকে ঘুষি দেয়, ধাক্কা দেয়, নাস্তিক মালাউন হিন্দু বলে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়, আমার আম্মুকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়, আমাদের ড্রাইভার এবং দারোয়ানের ওপর হামলা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নারায় তাকবির বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

ধরনটা খেয়াল করেন। হিন্দু আর নাস্তিক বলে হামলা। আসলে দিনের পর দিন যে দৈত্য আমরা তৈরি করেছি তাতে হিন্দুদের ওপর হামলা হলে, নাস্তিকের ওপর হামলা হলে সেটাকে তো অপরাধ বলে গণ্য করা হয় না! উল্টো হিন্দুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে। যারা প্রতিবাদ করবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এর ফলাফল কিন্তু সুদূরপ্রসারী। বহু বছর ধরে এভাবে চলায় এই দেশে একদল লোক এখন এতটাই শক্তিশালী যে তারা হুজুগ তুলে যখন যা ইচ্ছে করে। 

সমস্যার সমাধান কী? আমি মনে হিন্দু হোক বৌদ্ধ হোক নাস্তিক হোক, আস্তিক হোক কিংবা হিজাব পরা এই দেশে যে কোন মানুষের ওপর হামলা হলে, তাকে অপমান করা হলে, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। হালকারীরা নারায়ে তাকবির বলুক বা অন্য যে কোন স্লোগান; আইন যারা নিজেদের হাতে তুলে নেবে, যারা মানুষকে অপমান করবে, জুতার মালা পরাবে যতো শক্তিশালী হোক তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার সেটি না পারলে প্রথমে হিন্দু, তারপর নাস্তিক নামে তারপর যে কারো ওপর এই হামলা হতে পারে। আশা করছি আমাদের নীতিনির্ধারকরা পরিস্থিতি বুঝবেন। আশা করছি মুক্তিযুদ্ধের যে বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের নীতিনির্ধারকরা অন্তত চেষ্টাটা করবেন। নয়তো ভবিষ্যত কিন্তু সংকটাপন্ন!
 লেখক: অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান, ব্র্যাক

  • সর্বশেষ