শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২২, ০১:১২ রাত
আপডেট : ৩০ জুন, ২০২২, ০১:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি প্রশ্নে লাল রঙ দিয়ে সীমারেখা টানতে হবে

খান আসাদ

খান আসাদ: কখনো সময় আসে, পরিষ্কার অবস্থান নেওয়ার। ত্যানা প্যাঁচানো বাদ দিয়ে সোজা সুজি কথা বলার। ১৯৭১ সাল ছিল এমন। কোন পক্ষের রাজনীতি করবেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিবেন, স্বাধীনতার, জাতীয় মুক্তির, সাম্যের (কেউ খাবে তো কেউ খাবে না, তা হবে না) রাজনীতি করবেন? নাকি রাজাকার আলবদরের রাজনীতি করবেন? দুই রাজনীতি, পরিষ্কার অবস্থান। ২০২২ সাল এমন হচ্ছে, ন্যাটো আর রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে। ওয়ার লজিক না কি পিস লজিক? পুতিনরে থামানো দরকার, কারণ সে পরিষ্কার ওয়ার লজিকে। তাঁরে থামাইতে হলে, তাঁর সাথে বসতে হবে, তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থ দেখতে হবে। ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে, যদি শান্তি চান। কিন্তু শান্তির ত্যানা প্যাচাইয়া অস্ত্র পাঠানো হবে, সেটা পরিষ্কার ওয়ার লজিক। স্পেনে যারা 'স্টুপিড হোয়াইট মেন' হতে চায় না, তারা পরিষ্কার জানাইচ্ছে, ন্যাটো চাই না। 

বাংলাদেশে হিন্দু, আদিবাসী, নাস্তিক ব্লগার, সূফী বাউল, টি-শার্ট পরা তরুণীরে যারা আক্রমণ করে, এরা ধর্মপরিচয়ের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ, চিন্তায় ও কাজে। এটি ১৯৭১ সালের রাজাকার আলবদরের রাজনীতির ধারাবাহিকতা। এই রাজনীতি আওয়ামীলীগের জামা গায় দিয়ে করা হয়, বিএনপির জামা গায় দিয়ে করা হয়, পুলিশের পোশাক পরে করা হয়। তো মুখোশ দিয়ে মুখ চিনব? না কি মুখোশের আড়ালে যে আসল চেহারা, যে আসল রাজনীতি সেটাকে উন্মোচন করব? 

আপনি বুদ্ধিমান মানুষ, আপনি জানেন আপেল পাকলে মাটিতে পড়ে। আপনার চাইতে কম বুদ্ধিমান নিউটন কইলেন না পাকলে না, মাধ্যকর্ষণ এর টানে মাটিতে পড়ে। আপনার মতের সাথে না মিললেই, হই হই করার আগে অল্প স্বল্প নিউটন কি বলছে, বোঝার চেষ্টা করুন। প্রসঙ্গ ‘রাজাকার আলবদরের রাজনীতি’। আপনি দেখছেন, আওয়ামীলীগের লোক হিন্দুর জমি দখল করে, ফলে আপনার মতে এইটার সাথে ‘রাজাকার আলবদরের রাজনীতির’ কোন সম্পর্ক নেই। আপনি দেখতে চান না বলে সম্পর্ক থাকবেনা, তা তো হয় না। সম্পর্ক আছে, মতাদর্শ পর্যায়ে। ওই লোক মতাদর্শগত ভাবে রাজাকার আলবদরের রাজনীতি করে, আওয়ামীলীগের বা বিএপির পদে থেকেই। 

বাংলাদেশে এখন সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি প্রশ্নে লাল রঙ দিয়ে সীমারেখা টানতে হবে। দেখতে হবে, কার রাজনীতি লাল লাইনের এপারে, আর কার রাজনীতি লাল লাইনের ওপারে। তাঁর গায়ে কোন দলের বা কোন তত্ত্বের লেবেল আছে, এইটা কিছু মিন করে না। একটা উদহারণ দেই, ব্যক্তি বামপন্থীদের নিয়ে। বামপন্থী তাত্ত্বিক বদরুদ্দিন উমর সম্প্রতি 'সাম্প্রদায়িকতা' নিয়ে যা লিখছেন, আমি তাঁর সাথে একমত নই। যেমন বর্তমান বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতার সামাজিক ভিত্তি’ নেই, বরঞ্চ 'ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার' আছে। আমার মতের সাথে মিলেনা, এজন্য তাঁকে লাল রেখার ওপারে চলে গেছেন বলিনা। অন্যদিকে, কেউ যখন বলে, ‘জ্বিহাদ হচ্ছে শ্রেণীসংগ্রাম’ তাঁকে আমি পরিষ্কার লাল রেখার ওপারে পাঠাই। সে মূলত বাম মুখোশে ‘রাজাকার আলবদরের রাজনীতি’ করছে, তাত্ত্বিকভাবে, সশস্ত্র ভাবে নয়। আপনি নানা রকম প্রমাণ দিয়ে, নানা মুখোশের আলাদা রঙ নিয়ে, জটিল রিলেটিভিজম চর্চা করতে পারেন। সেই সময় ও বিলাসিতার (তাত্ত্বিক) সুযোগ আমার নাই। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, কোনটা রাজাকার আলবদরের রাজনীতি, আর কোনটা মুক্তিযুদ্ধের, ধর্মনিরপেক্ষতার, জাতীয়তাবাদের, গণতন্ত্রের, সমাজতন্ত্রের রাজনীতি। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়