শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২২, ০১:১১ রাত
আপডেট : ৩০ জুন, ২০২২, ০১:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘শিক্ষা’ তুমি রেস্ট ইন পিস!

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নীচে বাংলাদেশ। তো? আমরা কি সবার উপরে আশা করি? ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কোনো ছাত্র শিক্ষকের রুমে আশ্রয় নিলে তাকে আশ্রয় দেওয়া শিক্ষকের পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করলে যেই দেশে ফুলের মালার বদলে জুতার মালা ওঠে সেই দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নীচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে? যেই শিক্ষক কলেজের শৃঙ্খলাকমিটির সভাপতি হয়ে ছাত্রীদের যারা ইভ টিজিং করা তারই ছাত্র একই কলেজের ছাত্রীদের ইভ টিজিং বা উত্তক্ত করে তাদের তিনি শাসন করলে তার পুরস্কার পাওয়ার বদলে ছাত্রের হাতে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে প্রহৃত হয়ে শিক্ষক মারা যায় সেই দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশ থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে?

যেই দেশে একজন এমপির উপস্থিতিতে একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করায় সেই দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে? যেই দেশে একজন শিক্ষক নকল ধরার কারণে ছাত্রের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হয় সেই দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে? যেই দেশে শত শত কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালায় সেই দেশ দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে? যেই দেশে শিক্ষায় বাজেট এশিয়ার সর্বনিম্ন বরাদ্দ দেয় সেই দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে?

যেই দেশ জিডিপির ন্যূনতম ৫.৫% এর স্থলে জিডিপির মাত্র ১.৮০৩% শিক্ষায় বরাদ্দ দেয় সেই দেশ দেশ বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে থাকবে নাতো কি সবার উপরে থাকবে? মনে আছে যে আশির দশকের শুরুতেই মাধ্যমিক স্তরে হাতেকলমে বিজ্ঞান শেখানোর কথা বলে “এসো নিজে করি” অনুশীলনের বিজ্ঞান বই চালু করা হয়েছিল, যখন দেশের প্রায় কোনো স্কুলে হাতেকলমে বিজ্ঞান শেখানোর উপযোগী ল্যাব বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছিল না। সেটা ফেল করেছে সরংবৎধনষু! শিক্ষার মান একটু নিচে নামল। নব্বই দশকের শুরুতে এমসিকিউ প্রবর্তন করে প্রতি বিষয়ে ৫০০টি প্রশ্নের ব্যাংক করে দেওয়া হলো। ৫০০টি এমসিকিউ মুখস্থ করলেই নিশ্চিত ৫০ পাওয়ার ব্যবস্থা এবং লিখিত পরীক্ষায় শূন্য পেলেও পাশ নির্ধারণ করা হলো। এর ফল হলো পাশের হার এক লাফে ৩০-৩৫ থেকে ৬০-৭০ এ পৌঁছে গেল। এইভাবে রেজাল্টের স্ফীতির ফলে শিক্ষার মান নিচে নামল।

নব্বইয়ের দশকেই স্কুল কলেজের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় এমপির হাতে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব চলে যায় সরকারি দলের নেতাদের হাতে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার মান আরো নিচে নামানো হলো। তারপর সৃজনশীল শিক্ষক না দিয়ে, শিক্ষকদের ভালো বেতন না দিয়ে দেশে চালু হলো সৃজনশীল পদ্ধতি। ফল হলো ডিজাস্টার। তারপর কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রায় সকল শ্রেণীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিষয় ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। বিজ্ঞান শেখানোর আগে প্রযুক্তি শেখানো যে ঘোড়ার আগে গাড়ি। ফলে ডিজাস্টার। তারপর পিএসই ও জেএসসি চালু হলো। ফল হলো ডিজাস্টার। এইবার চালু করতে যাচ্ছে নিতুন এক অদ্ভুত শিক্ষাক্রম। আমি এখনই বলে দিতে পারি এ যাবৎ কালে যত পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলোর সবগুলো মিলে যত ডিজাস্টার ঘটিয়েছে এইবার নতুন শিক্ষাক্রম একাই তার চেয়ে অধিকগুন্ ক্ষতি করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শেষ পেরেগটা মেরে দেওয়া হবে। ভাবতেছি শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের শিক্ষকরা কী করছেন? ‘শিক্ষা’ তুমি রেস্ট ইন পিস! লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়