শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২২, ০২:০৬ রাত
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২২, ০২:০৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভুলোমনা সাংবাদিক এবং সাবেক কলিগের এক মজার অভিজ্ঞতা

লুৎফর রহমান হিমেল

লুৎফর রহমান হিমেল: সাংবাদিকতার জীবনে কত যে ঘটনা ঘটে, তার হিসাব নেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের ভুলোমনা নিয়ে ঘটে বেশি ঘটনা। যেহেতু বুদ্ধিজীবীদের কায়কারবারই বুদ্ধি মানে মাথা নিয়ে। ফলে ঝড়টাও যায় ওই মাথার ওপর দিয়েই। তাই ঘটে ভুলোমনা যতো ঘটনা। চিন্তাশ্রমিক সাংবাদিকদের এসব ঘটনা লিখে শেষও করা যাবে না। আমার এক সাবেক কলিগ, তাঁর মজার অভিজ্ঞতার কথাই বলি। তিনি তখন অন্য একটি পত্রিকায় কাজ করেন। সেখানকার দুটি ঘটনার কথা বলেছিলেন আমাকে। সেই গল্পদুটিই আজ বলবো।

[১] একদিন তিনি মতিঝিলের অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরছেন। অফিসের গাড়িতে করে। পথে নামলেন চা খাবেন বলে। সাংবাদিকদের মৌলিক খাবার হল সিগারেট আর চা। অনেকে হয়তো সিগারেট খায় না, তবে চা মাস্ট। তো শেরাটন বা সোনারগাঁর চায়ের চেয়ে পথের পাশের টং দোকানের চা আবার সাংবাদিকদের একটু বেশিই প্রিয়। সেই সাংবাদিকেরও সেই চা প্রিয়। চা একা খেলে মজা পাওয়া যায় না। আর তা ছাড়া ড্রাইভারও কেন বাকি থাকবে? মনে মনে তো সব সাংবাদিকই একেকজন সাম্যবাদী কমরেড। সাম্যবাদী চিন্তা থেকেই হোক, আর আড্ডা জমানোর জন্যই হোক, তিনি ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে চা খেতে গেলেন। ড্রাইভাররা সম্ভবত খুব দ্রুত চা খেতে পারে, সেই ড্রাইভারও দুই মিনিটে চা শেষ করে ফেলেছেন। এরপর তিনি গিয়ে বসেছেন গাড়িতে। এদিকে সাংবাদিক অন্য কাষ্টমারদের সাথে নানা গল্পে ডুবে গেলেন। গল্প যখন শেষ তিনি রাস্তায় যেখানটায় গাড়ি রাখা ছিল সেখানে গিয়ে দেখেন গাড়ি নেই, ড্রাইভারও নেই। নেই মানে নেই। তখনই দিলেন ফোন। ড্রাইভার ফোন ধরেই আকাশ থেকে পড়লো। বললো, স্যার, আমি তো এখন লালমাটিয়া চলে এসেছি। আমি ত মনে করছি, আপনি গাড়িতে উঠেছেন। আমি তো দিছি একটা টান। আপনার ফোন পায়্যা এখন পিছনের সিটের দিকে চায়্যা দেখতাছি যে আপনি সিটে নাই। 
[২] এটি অন্য এক সাংবাদিকের ঘটনা যদিও। ধরন ওই একই। ভুলোমনা। তিনিও অফিসের গাড়িতে রাতে বাসায় ফিরছিলেন। পত্রিকা অফিসের রাতের পালায় যে চাপটা যায় তাতে অনেকের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না বললেই চলে। ওই সাংবাদিকও রাতের শিফট শেষ করে হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে অফিসের নিচে নেমেই দেখেন অফিসের অটোরিক্সা অটোমেটিক এসে রেডি হয়ে ঠাঁয় দাঁড়ায়ে আছে। রীতিমত অভাবনীয় এক ব্যাপার। সাংবাদিক মনে মনে নিজেকে নিজেই ধন্যবাদ দিলেন আর অটোকে ‘মোহাম্মদপুর অমুক রোড চলো’ বলে সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে স্বগতোক্তি করে বললেন, থ্যাংকসলেস জবে নিজেকেই আজ একটা ধন্যবাদ দিই। তাড়াতাড়ি যে তিনি অটো পেয়ে যাবেন, তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। অফিসে কর্মী বেশি, কিন্তু গাড়ি কম। ফলে প্রতিদিনই ঠেলাঠেলি লাগে কার আগে কে বাসায় যাবে। আজ তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। লটারিতে কোটি টাকা জেতার চেয়ে অফিসের অটো পাওয়ার এই আনন্দ ঢের বেশি। এসব আনন্দ ভাবনা ভাবতে ভাবতে বাসার গেটে নামলেন সাংবাদিক। তরতর করে যখন সিঁড়ি ভেঙে উপরে নিজের বাসায় উঠতে যাবেন তখনই পিছন থেকে পড়ল ডাক, স্যার, ভাড়া দেননি। সাংবাদিক আকাশ থেকে পড়লেন, কীসের ভাড়া। অফিসের গাড়ি আবার কবে থেকে ভাড়া সিস্টেম চালু করল? 
এমন কথায় অটোচালক কিছুই বুঝতে পারলেন না। কারণ, তাঁর গাড়িটি কোনো অফিসের গাড়ি নয়। সাংবাদিক যে পরিমাণ অবাক হয়েছিলেন এবার চালক তার চেয়েও বেশি অবাক হয়ে বললেন, স্যার কোন্ অফিস, কীসের অফিসের কথা বলছেন? আমি তো কিছুই বুঝতে পারতাছি না। ভাড়া ছাড়া আবার গাড়ি চলে কেমনে? সাংবাদিক তখনই নিজের গলদটা বুঝতে পারলেন, এই অটো তাদের অফিসের না। ভাড়ায় চালিত। অফিসের গেটে রেডিমেড অটো পেয়ে তাতে ঝাপিয়ে পড়ে উঠে যে বিজয়ের আনন্দ তিনি পেয়েছিলেন, সেই আনন্দটা এবার বাসার গেটে এসে মাটি হয়ে গেলো। ভুলোমনার খেসারত আবারও দিতে হলো। লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়