শিরোনাম
◈ লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক আজ ◈ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির দুইদিনের কর্মসূচি ◈ সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে ট্রলারযাত্রী নিহত ◈ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ ◈ রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত ২০ (ভিডিও) ◈ রাজধানীতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় জামায়াতের ৬ কর্মী গ্রেপ্তার ◈ হজে গিয়ে ভিক্ষা: অবশেষে জামিন পেলেন মতিয়ার ◈ মাঝিপাড়া হিন্দুপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫১ আসামি কারাগারে ◈ পরিবারের ৪ জনই ভুয়া চিকিৎসক, করেন জটিল রোগের চিকিৎসা ◈ চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ১০

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২২, ০৫:৫৩ বিকাল
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২২, ০৫:৫৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধর্মের অবমাননা ও শিক্ষকের গলায় জুতোর মালা!

মাসুদ রানা

মাসুদ রানা: আমি কারও ধর্ম বা আদর্শ বিশ্বাসের অবমাননার বিরোধিতা করি, যদিও  সসম্মান সমালোচনার অধিকার থাকা জরুরি মনে করি!

 আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশে এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে মানুষকে বলা হয় ধর্মভীরু! সে-জন্যেই তারা ধর্মের নিয়ে প্রশ্ন করতে চায় না কিংবা কৃত প্রশ্ন সহ্য করতে চায় না। এমনটি মধ্যযুগে ইউরোপেও ছিলো। যাহোক, হে ধর্মভীরু, 
ধর্মের অবমাননা পাপ না অপরাধ - কোনটি? ভেবে বলুন তো! 

ধর্মের অবমাননা যদি পাপ হয়, এর বিচারের ও শাস্তির মালিক কে? আপনার আল্লাহ্‌, নাকি আপনি নিজেই? মনে রাখবেন, আপনার আল্লাহর কাজ আপনার নিজের হাতে নিয়ে নিলে আপনি তাঁর কাজের শরিকদার হয়ে শিরিক নামের মহাপাপটি করবেন! 

আর, ধর্মের অবমাননা যদি আপনার দেশের আইনে নিষিদ্ধ থাকে এবং এর জন্যে বিচার ও শাস্তির বিধান থাকে, সে-কাজটি রাষ্ট্রকে করতে না দিয়ে আপনি করতে পারেন না। করলে, আপনি নিজেই অপরাধী হবে। কারণ, রাষ্ট্র নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে বল প্রয়োগের অধিকার দেয় না। এটি হচ্ছে রাষ্ট্রের আইনসিদ্ধ ভায়োলেন্স করার মনোপলি।
অর্থাৎ, আপনি কোনোভাবেই আপনার ধর্মের অবমাননার অভিযোগে নিজে কাউকে শাস্তি দিতে পারেন না। আপনি শুধু বিচার চাইতে পারেন। বিচার চাইতে পারেনে আল্লাহর কাছে, কিংবা রাষ্ট্রের কাছে, কিংবা উভয়ের কাছে।

আপনার আল্লাহ, আপনার বিশ্বাসমতে সর্বজ্ঞানী, সর্বত্রগামী, সর্বজান্তা, সর্বশক্তিমান, বিচারের মালিক, শাস্তির মালিক, লানন-পালনের মালিক, ইত্যাদি। তো, তাঁর নির্বাচিত কিংবা নির্দেশিত ধর্মে যদি কেউ অবমাননা করে, কিংবা তাঁকে বা তাঁর বার্তাবাহককে কেউ অবমাননা, তিনি কি তার মান রক্ষার্থে অবমাননাকারীকে শাস্তি দিতে সক্ষম নন? আপনি নিশ্চয় তার সক্ষমতা বিষয়ে সন্দিহান নন, এবং আপনি যদি তাই হোন, তো আপনি শাস্তি দেওয়ার কে?

সম্প্রতি আপনি ও আপনারা মিলে ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী শিক্ষককে আপনার ধর্মের অবমাননার অভিযোগে অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাঁকে শাস্তি দিয়েছেন জুতোর মালা গলায় ঝুলিয়ে! এটি আপনার ধর্মে বিধান? কোন্‌ গ্রন্থে এই বিধান রয়েছে?

যে-ধর্ম  কিংবা ধার্মিক অথবা যে-আদর্শ কিংবা আদর্শবাদী মানুষকে জুতোর মালায় গলায় পরিয়ে তার ধর্ম বা আদর্শ রক্ষা করে, আমি তাদেরকে বর্ণনা করার জন্যে যে শব্দটি যুগল ব্যবহার করবো, তা হচ্ছেঃ বর্বর ও বর্বরতা!

আমার ভাবতে অবাক লাগে, এই ধর্ম একসময় একটি বর্বর সমাজকে বিশ্ব-সভ্যতার নেতৃত্বে বসিয়েছিলো। এটি আমি পাশ্চাত্যে বিদ্যায়তনিক শিক্ষা থেকেই জেনেছি। আমি সত্যিই বুঝে পাই না, কীভাবে এই ধর্মের অনুসারীদের একটা বিশাল অংশ বর্বরতা আচরণকে ধর্মের নামেই সিদ্ধতা দেয়? 

আজ বিশ্বে যেখানেই ধর্মকে রাজনীতির মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে, সেখানেই ধর্মের নামে এই বর্বরতা হচ্ছে। ইসলামের নামে হচ্ছে মুসলিম প্রাধান্যের দেশগুলোতে, ক্রিশ্চিয়ানিটির নামে এক সময় সাংঘাতিক বর্বরতা হয়েছে এবং এখনও যথেষ্ট হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ান প্রাধান্যের দেশগুলোতে, বুদ্ধধর্মের নামে হচ্ছে বৌদ্ধ প্রাধান্যের দেশগুলোতে এবং হিন্দুত্ব ও ইহুদিত্বের নামে হচ্ছে যথাক্রমে ভারতে ও ইসরায়েলে।

এটি বুঝতে মহাজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই যে, যে-ধর্মাবলম্বীরা যেখানে সংখ্যালঘু, তারা সেখানে শান্তিপ্রিয় কিন্তু নিপীড়িত। কিন্তু তাদেরই সহ-ধর্মীরা যেখানে সংখ্যাগুরু, যেখানে তারা নিপীড়ক! 

সুতরাং, কোনো একটি বিশেষ ধর্ম কিংবা আদর্শকে নয়, বরং সাধারণভাবে সকল ধর্ম ও আদর্শই সংখ্যাগুরুর হাতে সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের হাতিয়ার!

আমি আমার সমস্ত সত্তা দিয়ে ধর্মের অবমাননার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকের গলায় জুতোর মালা পরানোর বর্বরতার প্রতিবাদ করছি! আমি একইভাবে প্রতিবাদ করছি ধর্ম অবমাননারও, যদি তা হয়ে থাকে।
আর, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুর্বলের ওপর সংঘটিত এ-বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেও যারা চুপটি করে থাকছেন, তাদেরকে সোচ্চার হওয়ার আহবান করছি বর্বরতার বিরুদ্ধে এবং মানবতা ও সভ্যতার পক্ষে। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ