শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২২, ০৩:২৬ রাত
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২২, ০৩:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০১৩ সালে একটা ডিভোর্স কার্যক্রম দেখেছিলাম!

সৈয়দা সাজিয়া আফরিন

সৈয়দা সাজিয়া আফরিন: ২০১৩ সালে একটা ডিভোর্স কার্যক্রম দেখেছিলাম। তিনটা সেশনে মিটিং হয়েছিল। সেগুলোতে থাকার কারণে কেবলমাত্র আয় করা এম্পাওয়ারমেন্ট না সেইটা বুঝতে সাহায্য করেছিল। ডিভোর্স ফাইল মেয়ে করছে সেজন্যেই ঘটছে মোটামোটি কারবালার যুদ্ধ। মেয়ে ব্যংকার। এখনের মতো ব্যঙের ছাতার মতো ব্যাংক তখন ছিল না। মার্কেটিং মার্কা ফাতরা চাকরিও তখন কম ছিল। মেয়ে জয়েন করছেই অফিসার র‌্যাংক নিয়া। ১৩ সালের ৪৫ হাজার বেতন। মেয়ে যেমনে সুন্দরী তেমনে স্মার্ট। মেয়ে যতবার কথা বলে আমি তার দিকে তাকায়া থাকি। বারবার মনে হইছে এই মাইয়াটার জন্য আমি ছেলে হইলাম না ক্যান?

বিয়ে হইসে কামাইন্যা মাইয়ার সাথে বাড়িগাড়ির মালিক বড়লোকের বেকার পোলার সাথে। খুব খচ্চাপাতি করসে মেয়ের বাপ। মাশাল্লাহ এত্ত বড়লোক এত জমিবাড়ি। মাইয়ারে সম্মান দিতে সে আড়াই লাখ টাকা ভাড়ার ক্লাবে ২০০০ অতিথি খাওয়ায়ে বিয়া। তো বিয়া হইল। হানিমুন্টুনও হইল। হিউজ প্রেম হিউজ রোম্যান্টিক ছবি, হিউজ জামাকাপড়, হিউজ দাওয়াত সাওয়াত শেষে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফ শুরু। 

ঘরের বাজার মাইয়া করত। না করতে বলে নাই। ওদের কিপ্টে খানাপিনা খাইতে না পাইরা নিজে কিনে আন্ত। কিনলে নিজের জন্য কিনলে তো হয় না। সবার জন্য কেনা লাগে। জামাকাপড় কিনে দেয়া লাগত পরিবারের সব্বাইরে। ব্যাপারটা নিয়মিত। পোলার ছোট ভাই আর বোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সেই সেমিস্টারের ট্যাকা মেয়েরে দিতে হইত। 

কিন্তু বাড়ির গাড়িটা? সেইটা মেয়েটা ব্যবহার করতে পারত না। শাউরি কইত। এইটা তার জামাইর কামাইর গাড়ি। পুত্রবধূর জামাই গাড়ি কেনে নাই। সো এইটা সে পাবে না। এম্নে করে মেয়ের টাকা নাই হইতে থাকে। ও-হ্যাঁ সংসারের ঘানিতে মাইয়া তার বন্ধু আত্মীয় সবাইরে খোয়াইতে থাকে। তারপর ছেলে জন্মাল। জীবন বদলাইল না। মেয়ে ততদিনে পাইকা গেছে দেখতেসে এই বাড়ি গাড়ি কিছুই তাহার নয়। কিন্তু তার ট্যাকা জামাই জামাইর পরিবারের। তিক্ততা সিরিয়াস হইল কবে? ননদ একটা প্রেম কচ্চে তারে খরচ করে নামায়া দিতে হবে। যেম্নে ভাবির বিয়া তেম্নে।

বিষয় কোর্ট গড়াইল। শ্বশুরবাড়ির মেয়েটার শ্রম খাওয়া আর নুন খাওয়া প্রত্যেকটা পাব্লিক কোর্টে এইটা প্রমাণের চেষ্টায় ছিল যে মাইয়ার পরকীয়া আছে। তিন সেশন বিচার বৈঠক দেখে আর বিধ্বস্ত কামাইন্যা নারীকে দেখে আমি বুঝতেসিলাম ট্যাকা সিকিউরিটি ঠিকাছে। কিন্তু এটাই ক্ষমতা না। ক্ষমতা শুধু জিদ আর ত্যাজে আসবেও না। ঐক্য লাগবে। সেই ঐক্য একটা ভয়। সেই ঐক্য ক্ষমতার বিপরীতে ক্ষমতা দেখাবে। শিউর না রোক্স্যান গের ব্যাড ফেমিনিস্ট বইতে সম্ভবত লেখা আছে পুরুষতন্ত্র নারীকে নারীর শত্রু বানায়। হাউজওয়াইফকে চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে। চাকরিজীবীকে হাউজওয়াইফের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়ে দেয়। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়