শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২২, ০৩:২০ রাত
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২২, ০৩:২০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শ্রেণি কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার বদল না হলে, মানুষ যুদ্ধ ও ‘প্রাকৃতিক’ বিপর্যয় থেকে মুক্ত হবে না

খান আসাদ

খান আসাদ: যুদ্ধ যা প্রত্যক্ষ শারীরিক সহিংসতা, কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা যা কাঠামোগত সহিংসতা, এসব অমানবিক ধ্বংস, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণহত্যা বন্ধ করার ‘জ্ঞান’ মানুষের আছে। ইউক্রেনে যে যুদ্ধ, রাশিয়া ও ন্যাটোর, তা যে দ্বন্দ্বের কারণে, সেই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। দ্বন্দ্ব মীমাংসা করার জ্ঞান মানুষের আছে। যে পুঁজিবাদী তথা নয়াউদারবাদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, যা শুধু ‘গড় আয়’ কিংবা ‘অবকাঠামো’ নির্মাণ দিয়ে পরিমাপ করা হয়। এই উন্নয়ন পরিকল্পনা যে দরিদ্র, নারী, শিশু ও আদিবাসীদের বিপক্ষে, কুৎসিত ধনী ও ভোগলিপ্সু মধ্যবিত্ত তৈরি করে, বৈষম্য ও সহিংসতা বাড়ায়, সেই জ্ঞানও মানুষের আছে। সমস্যা জ্ঞানের নয়, সমস্যা শ্রেণিস্বার্থবোধের, সমস্যা পুঁজিবাদের, সমস্যা মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের মুনাফা স্বার্থের, সমস্যা দুর্নীতি- মুনাফালোভী আমলা ব্যবসায়ী জোটের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করার শ্রেণিক্ষমতার। লজিক অফ ওয়ার বা যুদ্ধের পক্ষে অনেক যুক্তি দেয়া যায়, তবে সেটা শুধু যুদ্ধকেই বৈধতা দেবে, যুদ্ধ ব্যবসার স্বার্থে কাজে লাগবে। 

বিপরীতে লজিক অফ পিস বা শান্তির যুক্তি রয়েছে, যা আজকেই ইউক্রেন সহ দুনিয়ার সকল যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। নীতি নির্ধারক ও ক্ষমতাবানেরা কোন যুক্তি গ্রহণ করবে, তার উপর নির্ভর করবে, যুদ্ধ অথবা শান্তি। যুদ্ধ কোন অনিবার্য ব্যাপার নয়। একই ভাবে, নয়াউদারবাদি উন্নয়ন নীতি  যা বৈষম্য বাড়ায়, সহিংসতা উস্কে দেয়, পরিবেশ ধ্বংস করে, এর বিপরীতে সাম্য, সুখ, শান্তি ও পরিবেশ রক্ষার উন্নয়ন নীতি কৌশলও আছে। আজকেই, আগামীদিনের বন্যা, খরা, বনউজাড় বন্ধ করার জন্য উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করা যায়। নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাবানেরা কোন উন্নয়ন যুক্তি গ্রহণ করবে, তা আবারও নির্ভর করে শ্রেণিস্বার্থক্ষমতার প্রভাবের উপর। বন্যা, খরা বা তথাকথিত ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ কোন প্রাকৃতিক কিংবা অনিবার্য বিষয় নয়। শান্তি, সমৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য মানুষের জ্ঞান আছে, কিন্তু মানুষের এমন ক্ষমতা এখনো নেই যে যুদ্ধবাজ লুটেরা শ্রেণির কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতাকাঠামো বদলে দিতে পারে। শ্রেণি কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার বদল না হলে, পুঁজিবাদের বিলোপ না হলে, মানুষ যুদ্ধ ও ‘প্রাকৃতিক’ বিপর্যয় থেকে মুক্ত হবে না। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়