শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২২, ০৮:০৩ রাত
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২২, ০৮:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কর্তৃপক্ষের উদারতায় পদ্মা সেতুতে হিসু করবেন, এটা হতে পারে না

প্রভাষ আমিন

প্রভাষ আমিন: পদ্মা সেতু নিয়ে গত কয়েকদিনে বিচিত্র সব ঘটনা ঘটেছে। তবে উদ্বোধনের পরদিনের দুটি ঘটনা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি মোটর সাইকেল থামিয়ে সেতুর রেলিং ঘেসে হিসু করছেন। এমনিতে পদ্মা সেতুতে হিসু তো দূরের কোনো যানবাহন থামানো, সেতুতে দাড়ানো, হাঁটা বা ছবি তোলার কোনো অনুমতি। তবে আমার ধারণা সাধারণ মানুষের আবেগ বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দুয়েকদিন একটু উদার থাকবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদারতার সুযোগে আপনি পদ্মা সেতুতে হিসু করবেন, এটা হতে পারে না। 

কেউ আবার বলবেন না, তার ডায়াবেটিস বা প্রকৃতির জরুরি ডাক এসেছে। পদ্মা সেতু পেরুতে ৬/৭ মিনিট লাগে। এইটুকু সময় যিনি প্রকৃতির ডাক উপেক্ষা করতে পারেন না, তার মোটর সাইকেল চালানোর দরকার নেই, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। আমার ধারণা তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিকভাবে পুরোপুরি নন। রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই তিনি এটি করেছেন। রাজনৈতিক বিদ্বেষ কোনো অপরাধ নয়, তবে পদ্মা সেতুতে মোটর সাইকেল থামানো এবং হিসু করা বেআইনী। তাই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আরেক টিকটকার পদ্মা সেতুর দুটি নাট খুলে হাতে নিয়ে ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছেন। তার অপরাধটি আরো বড়। এরইমধ্যে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে এই টিকটকারের ব্যাপারে আমার মত ভিন্ন। শুনি বড় সফটওয়্যার নির্মাতারা কোনো সফটওয়্যার বানিয়ে হ্যাকারদের হ্যাক করার জন্য ভাড়া করে। এ জন্য হ্যাকারদের মোটা অঙ্কের অর্থ দেয়া হয়। হ্যাক করতে পারলে অর্থের অঙ্ক বাড়ে। ব্যাপারটা এমন, আপনি মজবুত করে বাড়ি বানালেন। তারপর এলাকার সব চোর-ডাকাতদের লাগিয়ে দিলেন, চুরি করার জন্য। আসলে আপনি বা সেই সফটওয়্যার নির্মাতা দেখতে চান আপনার বাড়িটি বা সফটওয়্যারটি কতটা নিরাপদ। 

যে টিকটকার পদ্মা সেতুর নাট খুলেছেন, তাকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তার অপরাধও শাস্তিযোগ্য। তবে তাকে শাস্তি দেয়ার আগে ঠিকাদারদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। চাইলেই কেউ নাট খুলে নদীতে ফেলে দিতে পারবে কেন? আর চাইলে নাট খুলে নেয়া বা হিসু করার মত কাজ করতে পারলে নিরাপত্তাটা রইলো কই? পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে, সামনেও হবে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। এই দুজনকে শাস্তি দেয়ার আগে কর্তৃপক্ষের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। নির্মাণ থেকে নিরাপত্তা- সবটাই হতে হবে নিখুঁত এবং নিশ্চিদ্র। পদ্মা সেতু যেমন আমাদের আবেগের, তেমনি আমাদের সম্পদও। এর মর্যাদা এবং নিরাপত্তা দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।

  • সর্বশেষ