শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৫০ দুপুর
আপডেট : ০৫ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৫০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এমপি মন্ত্রী বানানো সেই এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট : এমপি মন্ত্রী বানানো লালমনিরহাট সদর থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে যুবলীগ নেতা ও আলোচিত সেই মামলার বাদি তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেছেন।

এর আগে সোমবার (৩ অক্টোবর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামানকে দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়ে পত্র পাঠান লালমনিরহাট পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

সম্প্রতি এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নুরবক্ত মিয়াকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তারাই নাকি (পুলিশ) এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছেন।

দলের কথা বললে পিটুনিও দিতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এসআই মোস্তাফিজার রহমানের দায়িত্বে থাকা একটি মামলার ভুক্তভোগী যৌনাঙ্গে মরিচ গুড়া ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

তার এমন অডিও বার্তার সুত্রধরে রোববার (২ অক্টোবর) "এসআইয়ের হুমকীঃ এমপি মন্ত্রী আমরা বানাইসি, দলের কথা বললে পিটুনি খাবেন" শিরোনামে একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

যা মুহুর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশ বাহিনীর নজরে পড়লে জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তের নির্দেশ পেয়ে মামলার বাদি ও সেই যুবলীগ নেতার লিখিত বক্তব্য গ্রহন করেন তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল)। এ দিকে এ ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীন গোয়েন্দা টিম।

ঘটনার আদ্যোপান্ত গত জুনে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক নুরবক্ত মিয়ার এক আত্মীয়ে মেয়ে (কিশোরী) অপহৃত হয়।

এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় গত ২৬ জুন একটি মামলা দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই মোস্তাফিজুর।

তদন্ত চলাকালীন অপহৃত কিশোরী ও অপহরণকারী যুবকের সন্ধান মেলে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকায়। সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন মোস্তাফিজুর। উদ্ধার করেন কিশোরীকে, গ্রেফতার হন অপহরণকারী।

পরে কোনো নারী পুলিশ সদস্য বা পরিবারের কাউকে না নিয়েই কিশোরী ও অপহরণকারীকে নিয়ে লালমনিরহাট রওনা দেন এসআই মোস্তাফিজুর।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সঙ্গীয় এক পুরুষ কনস্টবল। পথিমধ্যে বাসটি রংপুরে যাত্রা বিরতি দেয়। এ সময় এসআই মোস্তাফিজুর তাকে বাস থেকে নামিয়ে নির্জনে নিয়ে যান।

সেখানে কিশোরীকে কু-প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় থানায় পৌছে কিশোরীর যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকিও দেন তিনি। ওই কিশোরী এ ব্যাপারে নিজেই পরিবারের কাছে অভিযোগ করে।

ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। ঢাকা আসা-যাওয়ার জন্য কিশোরীর পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন লালমনিরহাট সদর থানার এসআই।

টাকা না দিলে তাকে যশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর হুমকিও দেন তিনি। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা-মা তাকে ১০ হাজার টাকা দেন। এরপর কিশোরীকে আদালতে তোলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তার আগে, টাকা পেতে দেরি হওয়ায় কিশোরীকে থানার একটি কক্ষে গোপন করেন তিনি। কিশোরীর পরিবারকেও সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

জানা গেছে, এসআই মোস্তাফিজুরের দাবীকৃত টাকা তাকে পাঠান পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক নুরবক্ত মিয়া। তিনি কিশোরীর সম্পর্কে মামা। পরে নুরবক্ত এসআই মোস্তাফিজুরকে বিষয়টি নিয়ে ফোন দেন। দুজনের কথোপকথনের একপর্যায়ে দলীয় পরিচয় দেন নুরবক্ত।

এ সময় এসআই তাকে বলেন, যে দল করেন তার এমপি-মন্ত্রী আমরা বানাইসি। এবার হইয়েন, কত বড় নেতা হইছেন এবার হইয়েন। দলের কথা বললে পিটুনি খাবেন।

কিশোরীর অভিযোগ, তাকে নিশ্চিত করতে গেলে তার মাকে পরনের বোরকা খুলে ফেলতে বলেন এসআই মোস্তাফিজুর। তার মুখের ভাষাও জঘন্য।

কিশোরী বলেছে, এসআই তাকে অপ্রকাশযোগ্য গালাগাল দিয়েছেন। তার কথার বাইরে কোনো কথা বললে এ মামলায় তাকেই ফাঁসিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। অপহরণ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করার দাবিও করেছে কিশোরী ও তার পরিবার।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামান বলেন, বিভিন্ন গনমাধ্যম ও স্যোশাল মিডিয়ায় প্রচারীত এসআই মোস্তাফিজুরের ঘটনা দুই দিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। নির্ধারীত সময় প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়