শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট, ২০২২, ১০:০৩ রাত
আপডেট : ০৬ আগস্ট, ২০২২, ১০:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার তাগিদ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

সেমিনার

মনজুর এ আজিজ: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশেষ করে ড্রেজিংয়ের কার্যক্রমে বেসরকারিখাতকে সংযুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্যতম অনুষঙ্গ ড্রেজিংয়ের জন্য অপরিহার্য যন্ত্র ড্রেজারের শুল্কহার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। 

শনিবার সকালে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০: নিরাপদ, পরিবেশ-বান্ধব ও সমৃদ্ধ ব-দ্বীপ অর্জনে বেসরকারি খাতের সংযুক্ততা বিষয়ক সেমিনারে এ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, সমৃদ্ধ বদ্বীপ অর্জনে ড্রেজিং, ভূমি পুনরুদ্ধার, জাহাজ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, কৃষি ও সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ব্যাপক ভিত্তিতে সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করা গেলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও সহজ বলে মনে করেন ড. মো. মিজানুর রহমান। 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা হচ্ছে না। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা পরিকল্পনার স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ঠিক করা হবে। এসময় দেশের নতুন করে কোন সড়ক, মহাসড়ক নির্মাণ না করে বর্তমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষার সময় নদীর পানি সমুদ্রে যাওয়ার আগে যদি সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে সারাবছর দেশে পানির কোন অভাব হবেনা, একই সঙ্গে পানি রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। 

তিনি বলেন, সরকারের হাতে মাত্র ৩০টি ড্রেজার রয়েছে। কিন্তু এ কাজে ২ শতাধিক ড্রেজার দরকার। ড্রেজিংয়ের কার্যক্রম শতভাগ বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। 

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি কমছে, বিপরীতে বাড়ছে মানুষের খাদ্য চাহিদা। 
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি খাত ছাড়া আগামীর কৃষিখাত স্বয়ংসম্পূর্ণ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে ২৩০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার। এজন্য ব্যাক্তিখাতকে ডেল্টা প্ল্যানের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত করার বিকল্প নেই।

এর আগে প্যানেল আলোচনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, বেসরকারি খাতকে কাজে লাগিয়ে নদী ও সমুদ্র বক্ষে বিপুল পরিমাণ ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এসময় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ডেল্টা প্ল্যান পরিমার্জন করার পক্ষে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। 

ব-দ্বীপ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশীদার কারা হবেন তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব স্থপতি ইকবাল হাবীব।

এফবিসিসিআইর প্যানেল উপদেষ্টা ও চ্যানেল আই'র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাইখ সিরাজ বলেন, দেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, জলবায়ুর পরিবর্তনের গতির তুলনায় গবেষণা কার্যক্রমের গতি ধীর। তাই অনেক সময় পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। তিনি নেদারল্যান্ডের আলোকে আমাদের দেশের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের আহবান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক অরনি বারকাত জানান, দায়ী না হয়েও, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে রয়েছে। এজন্য দায়ী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে জিডিপির ২.৫% পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, যার শতকরা ২০ ভাগ বেসরকারি খাত থেকে আসবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাসহ  দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, কাজের গতি ও মান তত বাড়বে।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা লক্ষ্য অর্জনে গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যবহৃত ড্রেজারসহ অন্যান্য ভারি যন্ত্রপাতি অনেকটাই আমাদানি নির্ভর। তাই এসব পণ্যের শুল্ক হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানান সভাপতি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়