শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২২, ০৬:৩৪ বিকাল
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২২, ০৬:৩৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রযুক্তি সেবায় নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অ্যাপে নিয়ন্ত্রণ নেই, আছে নৈরাজ্য: মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন

সুজন কৈরী: গত দুই তিন বছর ধরে রাজধানী ও ঈদযাত্রায় রাইড শেয়ারিং এর নামে মোটরসাইকেল চালকদের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সড়কে যানজট এবং দুর্ঘটনা আলোচনার অন্যতম বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রোববার ভোর থেকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর মোটরসাইকেল চালকদের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য পরিশেষে দুর্ঘটনায় ২জনের মৃত্যুর পর পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চালানো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা। 

এর অন্যতম কারণ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সেবা প্রতিষ্ঠানের নজরদারির ঘাটতি, বিআরটিএর প্রযুক্তির ব্যবহারে অদক্ষতার প্রমাণ সর্বোপরি অ্যাপস প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিস চার্জ আদায় করার ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং উচ্চ চার্জ আদায় করা অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবার গ্রাহক স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। 

সাম্প্রতিক সড়কে অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের নামে বিশৃঙ্খলা নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে চলে না, চলে ক্ষেপে। প্রযুক্তি সেবায় নিয়ন্ত্রণ নাই ফলে সড়কে আছে নৈরাজ্য। 

তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু করে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। যা এমন একটি পরিবহন ব্যবস্থা যেখানে গাড়ির মালিক তার নিজের প্রয়োজন মিটিয়েও ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইন এপ্লিকেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে মোটরযানের সংখ্যা কমিয়ে আনাই অন্যতম উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকারের। সরকার রাইড শেয়ারিং নীতিমালা ২০১৭ প্রণয়ন করে। যে নীতিমালা ২০১৮সালের২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ এর প্রোগ্রাম পঞ্জাবি করে তা ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি পাশ হয়।

অথচ হয়েছে এর উল্টো। পরিবহনের সংখ্যা কমার পরিবর্তিতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সড়কে বেড়েছে নৈরাজ্য, বেড়েছে দুর্ঘটনা। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এ সেবা প্রদানের জন্য সর্বপ্রথমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ কর্তৃক এনলিস্টমেন্ট হতে হয়। সেখানে সে কি পরিমান গাড়ি চালক গাড়িকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করবে তার যাবতীয় তথ্য গাড়ির লাইসেন্স ড্রাইভিং, লাইসেন্স সহ যাবতীয় তথ্যাদি জমা দিতে হয়। ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারিত করে দেওয়া হয় বিআরটিএ থেকে। কিন্তু প্রথম প্রথম মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চললেও বর্তমান সময়ে অ্যাপভিত্তিক সেবা আর চলে না। চলে চুক্তিভিত্তিক খ্যাপের মাধ্যমে। এখন আর সড়কে বোঝা যায় না কোনটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে চলে আর কোনটি ছিনতাইকারী ডাকাত দল বা ব্যক্তিগত কর্মজীবী মানুষের পরিবহন। 

ঢাকায় বর্তমানে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বিআরটিএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৫ লাখ ৮৪হাজার ৪৯০টি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় এ সেবাকে অতি মুনাফার পেশা হিসেবে নিয়েছে এক শ্রেণীর লোক। কিন্তু বিআরটিএ থেকে অ্যাপ ভিত্তিক সেবা দেওয়ার জন্য যে সকল প্রতিষ্ঠান এনলিস্টমেন্ট নিল তাদের দুর্বলতা, অতি মুনাফা, সেবা প্রদানে অনগ্রহ, মনিটরিংয়ের অভাবের কারণে প্রযুক্তি সেবা মুখ থুবরে পড়েছে। সরকার ও রাজস্ব হারাচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের যে সকল রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট হয় তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাইড শেয়ারিং অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উবারের মোটরের প্রায় এক লাখ চালক রাজধানীতে মোটর চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকায় আরেকটি জনপ্রিয় বাইক রাইডিং পাঠাও’র আছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক রাইডার। এ ছাড়াও রাজধানীতে সহজ ডট কম, স্যাম, ওভাই, ওবোন ইত্যাদির আওতায় আছে আরো প্রায় ৫০ হাজার রেজিস্ট্রার্ড বাইক। এই হিসাবে রাজধানীতে মোট রেজিস্ট্রার্ড বাইকারের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। তবে এই রাইডারদের অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত। 

এই ৩ লাখ বাইকারের মধ্যে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি চালায়।  দৈনিক ৬-১০ ঘণ্টা। দ্বৈত লাইসেন্সধারীদের বাদ দিয়ে মোট রাইডারের সংখ্যার হিসেবে ১ লাখ ২৩ হাজার রাইডার ৫ ঘণ্টা বা অধিক সময় বাইক চালান। তাদের আয়ের প্রধান উৎস বাইক রাইডিং। এই পরিসংখ্যানে বোঝা যায় এখনো প্রায় ৪ লাখ চালক অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহনের সাথে যুক্ত নয়। এই চালকদের চিহ্নিতকরণের জন্য আলাদা পোশাক নেই প্রশিক্ষণ, তাদেরকে মনিটরিংয়ের প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা আছে বিআরটিএ, না আছে অ্যাপ কোম্পানিগুলির। 

সবার আগে বিআরটিকে প্রযুক্তিবান্ধব হয়ে অ্যাপ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ শৃংখল বন্ধ হয়ে রাস্তায় চলা এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা। তাহলে সরকার পাবে যেমন রাজস্ব সড়কে শৃঙ্খলা যাত্রীরা পাবে নিরাপত্তামূলক সেবা।

  • সর্বশেষ