শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২২, ১২:৩২ দুপুর
আপডেট : ২৮ জুন, ২০২২, ১০:৫৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মহিউদ্দিন আহমদের দৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কা সংকটের চার কারণ ও বাংলাদেশের শিক্ষণীয়

রাশিদ রিয়াজ : এক. ক্ষমতার ভিত হিসেবে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আমলাদের ওপর নির্ভর করে তাদের শক্তি বাড়িয়ে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো; দুই. উন্নয়নের ঢাক পিটিয়ে যথেচ্ছ বৈদেশিক ঋণ নিয়ে প্রকল্প বানানো; তিন. স্বজনপ্রীতি অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে জনগণের টাকায় আত্মীয় ও মোসাহেব তোষণ; এবং চার. জনবিক্ষোভ যাতে না হয়, এ জন্য নানা রকম কালাকানুন তৈরি করা।

ঘোরতর আর্থিক মন্দার কবলে পড়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। এলটিটিই যুদ্ধে পরাস্ত হলেও দ্বন্দ্ব এখনো জ্বলছে ধিকিধিকি করে। এক দিনে এই সংকট তৈরি হয়নি। কিছুটা বিরতি দিয়ে ৭০ বছর ধরে শ্রীলঙ্কা শাসন করছে দুটি পরিবার—বন্দরনায়েকের পরিবার আর রাজাপক্ষের পরিবার। পারিবারিক শাসনে গণতন্ত্র থাকে না। তৈরি হয় পরিবারতন্ত্র। একসময় শ্রীলঙ্কার নাগরিক সমাজ ছিল খুবই গতিশীল ও সক্রিয়। কিন্তু নানা আইনের ফাঁদে পড়ে তারা অনেকেই গ্রেপ্তার, গুম, নিশ্চুপ হয়ে গেছে অথবা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। কিন্তু এতসব করেও শেষ রক্ষা হয়নি। জনরোষ বিস্ফোরিত হয়েছে। আন্দোলনের চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে একটি নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার ভাই, যিনি এখন প্রেসিডেন্ট, তার পদত্যাগের দাবি দিন দিন জোরদার হচ্ছে। দেয়ালের লিখন পড়তে পেরে অনেক মন্ত্রী-এমপি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালাচ্ছেন। পলায়মান অনেককে ধরে জনতা উত্তমমধ্যম দিচ্ছে, কাপড় খুলে নিচ্ছে।

বাংলাদেশের দায়দেনা শোধের বর্তমান হার এখনো সহনীয়। কিন্তু যেভাবে উচ্চ সুদে দ্বিপক্ষীয় সূত্র থেকে ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বানানো হচ্ছে, শিগগিরই তার কিস্তি ও সুদ গুনতে হবে। তখন রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর চাপ বাড়বে। আমাদের তো বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস দুটি। শ্রমিকের রেমিট্যান্স আর তৈরি পোশাক রপ্তানি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো অঘটন ঘটে গেলে বা দুর্যোগ নেমে এলে আমাদের এই উৎসগুলোর হুমড়ি খেয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। ইউক্রেন নিয়েই দুনিয়াজুড়ে যে শোরগোল হচ্ছে, তাতে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই।

আমরা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে অনেক অপচয় করি। প্রশ্ন উঠেছে, এত খরচ করে সড়ক-সেতু পৃথিবীর আর কোনো দেশে তৈরি হয় না। শুনতে পাচ্ছি, অনেকগুলো সেতু নাকি নৌ-চলাচলের জন্য ভেঙে ফেলতে হবে। কিছু উড়ালসেতুও নাকি ভাঙতে হতে পারে। এসব প্রকল্প তো একনেকেই পাস হয়। আজ পর্যন্ত কেউ কি স্বীকার করেছেন যে ‘আমরা এই প্রকল্প নিয়ে ভুল করেছি’। এক দলের সরকার অন্য দলের সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পকে ভুল বলে, কিন্তু নিজেদের ব্যাপারে সব সময় সাফাই গায়। সরকার বদল না হলে আমরা এসব জানতেই পারি না।  আত্মপ্রসাদের ঢাক না পিটিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। প্রথম আলো থেকে নেওয়া। (সংক্ষেপিত) 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়