শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ১২:০৪ রাত
আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ১২:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উন্নয়ন যুগে যুগে

আনোয়ার হক

আনোয়ার হক: ২০-২৫ সদস্যের যৌথ পরিবারে আমার দাদীর রাজত্বকালে মাটির হাঁড়ি, পাতিল আর কাসার থালা/প্লেট, বাটি, জগ, গ্লাস  ব্যবহৃত হতো। 

এখন যেমন ভিন্ন ভিন্ন খাবার ভিন্ন ভিন্ন ডিসে, বাটিতে পরিবেশন করা হয় তখন তেমনটা করা হতো না। কাসার প্লেটে বা থালাতে ভাতের পাশে ভাজি/ভর্তা, তরকারি দিয়ে দেয়া হতো। ডালটা শুধু বড় ডিসে রাখা হতো। সেখান থেকে চামচ দিয়ে যে যার প্রয়োজন মতো নিতে পারতো। 

প্রথম ব্যাচে খাবার দেয়া হতো ছোটদের। এই ব্যাচে মা চাচিরা কিছুটা বেশি তৎপর থাকতেন। লক্ষণীয় বিষয় ছিল নিজের সন্তানের চেয়ে অন্যান্যদের দিকে বেশি যত্নবান থাকতেন প্রত্যেকে।

তখন খাওয়ার জায়গা ছিল দাদীর ঘরের মেঝে। মেঝেতে পাটি পেতে বসার পর সামনে কাপড়ের লম্বা দস্তরখান বিছিয়ে তার উপর খাবারের প্লেট রাখা হতো। খাওয়া শেষে স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে কলপাড়ে গিয়ে হাত ধুয়ে মুখ মুছে উঠানে কিচ্ছুক্ষণ হৈ-হুল্লোড় করে আমরা যার যার ঘরে চলে যেতাম। বৈরী আবহাওয়ায় মা চাচিরা ঘরের ভিতরে চিরোমচিতে হাত ধুইয়ে মুখ মুছে দিতেন। 

দ্বিতীয় ব্যাচে কৃষি শ্রমিক, রাখাল আর গৃহকর্ম সহকারীদের খাওয়ানো হতো। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে এই ব্যাচে ভাত আর ডালের পরিমাণ থাকতো অনেক বেশী। ভর্তা/ভাজি আর তরকারি প্রমিত পরিমাণেই দেয়া হতো।

তৃতীয় ব্যাচে দাদী বসতেন চার ছেলে আর বৌমাদের নিয়ে। তবে বেশিরভাগ রাতের খাবারে অনুপস্থিত থাকতেন আব্বা আর সেঝো চাচা। বন্দরে ব্যবসাপাতি গুছিয়ে বাড়ি ফিরতেন বেশ দেরিতে। দাদী রান্নার পরই এই দুই ছেলের জন্য খাবার আলাদা করে রাখতেন। পরে গরম করিয়ে সামনে বসে দুই ছেলেকে খাওয়াতেন। 

প্রতি ব্যাচের খাওয়ার সময়ই দাদী টুলে বসে থেকে তদারকি করতেন। কিছুটা বড় হয়ে বৃটেনের রাণীর সম্পর্কে জানার পর মনে হতো আমার দাদী তো মহারাণী। 

উন্নয়নের ধারায় দাদীর অধিকতর শিক্ষিত এবং ব্যাংকার কনিষ্ঠ পুত্রের উদ্যোগে বাড়িতে ডাইনিং টেবিল চেয়ার এলো। খাবার পরিবেশন আর গ্রহণে ব্যপক পরিবর্তন দেখা দিল। সাম্যবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেল প্রায়। দ্বিতীয় ব্যাচে খাদ্য গ্রহণকারীগন উন্নয়নের সুবিধা না নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়ে গেলেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়