শিরোনাম
◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ মালদ্বীপে আবার জাহাজ পাঠাল চীন  ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী ◈ খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু: ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৮:২১ রাত
আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৮:৪২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সিনেমা জায়গা পায়নি, বাংলাদেশ সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছে: শ্রীলেখা মিত্র 

শ্রীলেখা মিত্র 

মনিরুল ইসলাম: কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সিনেমা জায়গা পায়নি। একটা আক্ষেপ রয়েছে। আমার শহরের মানুষদের আমার নির্মাণ দেখাতে পারিনি। বাংলাদেশে এসে প্রথমবার আমার পরিচালিত সিনেমাটি দর্শক সারিতে বসে দেখলাম। ভালো লাগলো। তবে নিজ শহরে বসে সিনেমাটি দেখতে পারলে ভালো লাগত। নিজ শহর কলকাতা আমার সিনেমা দেখায়নি। আমাকে বাংলাদেশ সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছে।

এভাবেই নিজের অভিব্যক্তির কথা জানালেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও পরিচালক শ্রীলেখা মিত্র।

তিনি আলাপকালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসা। তার পরিচালিত ছবি 'এবং ছাদ’সহ নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। খুবই আন্তরিকতা সাথে কথা বলেন শ্রীলেখা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে যে ভালোবাসা পেলাম তা কখনো ভুলব না। কলকাতার মানুষ যে মর্যাদা দিতে পারেনি সেটি বাংলাদেশের মানুষ দিয়েছে। বাংলাদেশে আমার নির্মাণ দেখাতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত। 

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত শ্রীলেখা মিত্র। ২১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এবং ছাদ’ সোমবার ১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫ টায় জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনী হয়। দর্শকদের সঙ্গে দর্শক সারিতে বসে ছবিটি দেখেন তিনি। সিনেমাটি দেখার জন্য ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছেন । 

 আলাপকালে  তিনি বলেন, অভিনেত্রী হিসেবে এতদিন অভিনয় করেছি। এবার অভিনেত্রী শ্রীলেখা নিজের লেখা, ভাবনা নিয়ে কাজ করেছে। পরিচালক এবং অভিনেত্রী কখনো এক আবার কখনো আলাদা। যেহেতু অভিনয় করি তাই জানতে চেষ্টা করেছি একজন অভিনয়শিল্পীর ক্যামেরার পেছনে কি কি দরকার হয়।  নির্মাতা হয়ে এটি খুব উপভোগ করছি।

কতটুকু করতে পেরেছেন? জবাবে  শ্রীলেখা বলেন, বাজেট বেশি থাকলে আরও ভালো করার সুযোগ থাকত। আরও ভালো কিছু দিতে পারতাম। প্রতিটি কাজে বাজেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট ভালো হলে অনেক ভালো কাজ উপহার দেওয়া যায়। 

তবে এতোকিছুর পরও আমি মনে করি ছবি নির্মাণ অনেক চ্যালেঞ্জিং। ‘এবং ছাদ’ চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্মাণ করেছি। অভিনয়ও কম চ্যালেঞ্জিং নয়। যে কোনো কাজই চ্যালেঞ্জিং। সেটা মন দিয়ে করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তবে এই কাজটি করেতে গিয়ে প্রযোজনা, পরিচালনা ও অভিনেত্রী এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উপভোগ করেছেন বলে জানান।

বাজেট পেলে নিয়মিত নির্মাণ করতে চান শ্রীলেখা। নির্মাণে তার তুমুল আগ্রহ রয়েছে। নির্মাণের পাশাপাশি প্রযোজক-পরিচালকরা চাইলে নিয়মিত অভিনয় করার আগ্রহ রয়েছে। ভালো গল্প পেলে নিয়মিত কাজ করবেন নির্মাণ ও অভিনয়ের দুই মাধ্যমে।

বাংলাদেশের নাটক, সিনেমা ও সিরিজ দেখেন শ্রীলেখা। তার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখার বড় ভক্ত  তিনি । 

তিনি বলেন, আজকাল শিল্পী কম তারকা বেশি। শিল্পী হতে হলে অনেক কিছু শিখতে হয়। অভিনয় জানতে হয়। প্রথমত ভালো মনের  মানুষ হতে হয়। দ্বিতীয়ত কাজে সততা থাকতে হয়। ভালো মানুষ না হলে ইমোশনালগুলো পর্দায় দেখাতে পারা যায়  না। এখন প্রচন্ড তারকা। কার কত ফলোয়ার এসব গুনে মান নির্ণয় করা হয়।  চাইলে অনেক কাজ করতে পারি। তবে সেই মানহীন কাজ করতে চাই না।  মনের মতো কাজ করতে চাই। 

বাবার দেশ বাংলাদেশ নিয়ে কেউ খারাপ মন্তব্য করুক তা চান না শ্রীলেখা। বলেন, বাংলাদেশ আমার বাবার দেশ। তার মানে এটি আমারও দেশ। এ দেশ  নিয়ে  কেউ খারাপ বলুক তা চাই না। বাংলাদেশের এই বাংলাকে ভালোবাসা সবচেয়ে আনন্দদায়ক। এখন কলকাতায় সবাই খিচুড়ি ভাষায় কথা বলে। এ দেশের মানুষ বাংলাকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রেখেছে। গর্বের সাথে বাংলা নিয়ে ভাবছে। স্বপ্ন দেখছে। এটা বিরাট একটি ভালো দিক। বাংলাদেশের আতিথেয়তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে পাওয়া যাবে না। 

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তো দুই বাংলার শিল্পীরা এক হচ্ছেন । আপনাকে কবে দেখা যাবে ? বলেন, আমি কাজ করতে চাই। আমাকে নিয়ে ভাবলে কাজ করতে অনীহা নেই। 

বলেন,  আমি অনেক শত্রু  তৈরি করে ফেলেছি। সত্যি কথা বলার মাশুল দিতে হচ্ছে। যে সরকার রাজ্য চালাচ্ছে তাদের সম্পর্কে কথা বলি। তাদেরকে খুশি করার জন্য একটি গোষ্ঠি আছে। তারা ভাবেন- শ্রীলেখাকে নিলে আবার যদি সরকার ক্ষুব্ধ হন। তার কারণে আমাকে কেউ কাজে নেয় না।

বাবাকে ছাড়া প্রথমবার এলেন বাবার দেশে। এর আগে বাবার সঙ্গেই এসেছিলেন তিনি। আলাপচারিতা ফাঁকে বাবার কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লূত  হয়ে পড়েন  শ্রীলেখা মিত্র। তার চোখে জল ছলছল করতে দেখা যায়।  বলতে গিয়ে থেমে যান তিনি। কিছুটা সময় নিয়ে  নিয়ে বলেন, বাবাকে ভীষণ মিস করছি।

চোখের  জল লুকিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কান্না পেলে তা লুকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এটার মধ্যে দুর্বলতা নেই। কান্নাটা হচ্ছে একটা ইমোশন। ‘বাজেট পেলে তার  তৃতীয় নির্মাণ ‘বারান্দ’ পরিচালনা  করবেন বললেন তিনও।

শ্রীলেখা মিত্রের পূর্বপুরুষের বসত ভিটা ছিলো মাদারীপুরের ঘটমাঝি গ্রামে। দেশভাগের সময় ভারতে পাড়ি দেন তারা। শ্রীলেখার জন্ম ভারতে হলেও বাবার মুখে ঘটমাঝি গ্রামের গল্প শুনে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই তো বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে তার অন্যরকম টান।

২০১৭ সালের আগে বাবা সন্তোষ মিত্রকে নিয়ে পূর্বপুরুষের ভিটার খোঁজে বাংলাদেশে এসেছিলেন শ্রীলেখা। তার কয়েক বছর পর তার বাবার প্রয়াত হন। বাবা ছাড়া  এবারই প্রথম  বাংলাদেশে  আসলেন তিনি জানালেন।

এমআই/এসএ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়