শিরোনাম
◈ সরকারের কাছে 'আট দফা দাবি' কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ◈ শুক্রবারের সহিংসতায় ঢাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে ◈ এটা অবশ্যই কারফিউ, এটা নিয়ম অনুযায়ীই হবে এবং সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে: ওবায়দুল কাদের ◈ কারফিউ’র পরিপত্র জারি ◈ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা কোটা আন্দোলনকারীদের ◈ ওবায়দুল কাদের কারফিউ জারি প্রসঙ্গে যা বললেন ◈ সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ◈ নরসিংদীর কারাগারে হামলার পর বের হয়ে গেছে কয়েকশ কয়েদি ◈ বাংলাদেশে সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগ ◈ রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৩, ০৬:০৪ বিকাল
আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০২৩, ০৬:০৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্কুলে যেতে চায় আফগান মেয়েরা!

আফগান মেয়েরা

তারিক আল বান্না: ‘প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙে পুনরায় স্কুলে যাওয়ার আশা নিয়ে। তারা (তালিবান) বলে থাকে, স্কুল খুলে দেওয়া হবে। তবে তাদের এ কথা দু’বছর চলে গেলেও এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আমি তাদের বিশ্বাস করি না। এই মিথ্যে আশ্বাসে আমার হৃদয় ভেঙে পড়েছে।’ কথাগুলো প্রায় কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো ১৭ বছরের বালিকা হাবিবা।   

হাবিবা আর তার সাবেক সহপাঠি মাহতাব ও তামানাসহ লাখো লাখো উঠতি বয়সী মেয়েদের হাই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে আফগানিস্তানে তালিবান শাসন কায়েম হওয়ার পর থেকে। সারা বিশ্বে আফগানিস্তানই হচ্ছে একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়েদের পড়াশুনার পথে সরকারী বাঁধা রয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে স্কুল পড়ুয়া আফগান মেয়েদের জীবন থেমে রয়েছে, তারা বুকের মাঝে সীমাহীন কষ্ট ধারণ করে রেখেছে।  

হাবিবাসহ এই তিন বালিকা বলেছে, সারাবিশ্বে আফগানদের স্কুলে না যাওয়া নিয়ে যে প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তা ক্রমেই ম্রিয়মান হয়ে পড়ছে। যদিও তাদেরকে এই কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তারা বলেছে, চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানে নতুন আরো একটি স্কুল চালু হয়েছে শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। এটা নতুন করে হতাশায় ভরে তুলেছে তাদের।

অশ্রুচোখে ভাঙা গলায় তামানা জানায়, ‘যখন দেখি ছেলেরা স্কুলে যায়, তখন মনটা বেদনায় ভরে উঠে। সকালে আমার ভাই স্কুলে যাওয়ার সময় বলে, আমি তোমাকে ছাড়া স্কুলে যেতে চাই না। আমি তখন তাকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিয়ে বলি, তুমি স্কুলে যাও, আমি পরে তোমার সঙ্গে স্কুলে যোগ দেব। আশেপাশের লোকজন আমার বাবা-মাকে বলে, আপনাদের তো দু:খ থাকা উচিত নয়, কারণ, আপনাদের ছেলে সন্তান রয়েছে। আমাদের ছেলে সন্তান থাকলে সেই অধিকারও থাকতো।’

মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসতে আরো বিলম্বিত হবে। কারণ, শোনা যাচ্ছে, তালিবান সরকার নারীদের বিষয়ে আরো বেশি কঠোর হতে চলেছে। 
হাবিবা জানায়, ‘তালিবান সরকারের শাসনামলের প্রথম দিকে নারীদের কিছুটা স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু তা ধীরে ধীরে খর্ব করা হয়।’ 

২০২১ সালের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম মেয়েদের হাই স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর নতুনভাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭২ কিলোমিটারের বেশি পথে ভ্রমণ করতে হলে মেয়েদের সঙ্গে অবশ্যই ছেলে আত্মীয় থাকবে হবে, একা একা ঐ পরিমান দূরত্বে ভ্রমণ করা যাবে না। 

গত বছরের মার্চ মাসে তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অল্প সময় ক্লাস করার শর্তসাপেক্ষে মেয়েদের জন্য হাই স্কুল চালু করা হবে। এর দুই মাস পর সরকার ঘোষণা দেয়, মেয়েদের মুখমন্ডলসহ সারা শরীর ঢেকে বাইরে বের হতে হবে। আর নভেম্বর থেকে মহিলাদের পার্ক, জিমনেশিয়াম ও সুইমিংপুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। আরো সিদ্ধান্ত আসে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ইকনোমিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও জার্নালিজম বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারবে না। এর এক মাস পর সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, এখন থেকে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া নিষেধ। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগ ছাড়া দেশী-বিদেশী এনজিওতেও কাজ করতে পারবে না।

মাহতাব বলেছে, ‘এভাবেই যদি নিষেধাজ্ঞা বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের জীবন বিষাদময় হয়ে উঠবে, আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার খর্ব হবে। শিক্ষা ছাড়া জীবনের কোনো মূল্যই থাকে না। এমন জীবনের চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়।’

টিএবি/এসবি২

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়