শিরোনাম

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৮:৩৬ রাত
আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৮:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানের পরে ভারত মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর পরিচালনার অধিকার পেল 

খুররম জামান: [২] ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কালাদান নদীর উপর অবস্থিত এ বন্দরের যাবতীয় কার্যপরিচালনার জন্য ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডের (আইপিজিএল) এর একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আইপিজিএল হল ভারতে বন্দর, নৌপরিবহন এবং জলপথ মন্ত্রকের  মালিকানাধীন একটি সংস্থা৷ তবে এটি স্বায়ত্তশাসিত। ২০২০ সালে গোড়ার দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সংরক্ষণ এবং নজরদারি নীতি ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব দপ্তরের বাকি নির্দেশিকার আওতা থেকে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডকে বের করে আনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।

[৩] ভারত মহাসাগরে চীন ও ভারত তাদের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে লিপ্ত। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চীন  শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা এবং আফ্রিকার জিবুতির মতো এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বন্দরের জন্য অপারেটিং অধিকার অর্জন করতে চাইছে।  মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশের কাছেও যোগাযোগ করেছে, যার সবগুলোই ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

[৪] সিত্তওয়ে গত বছরের মে মাসে ভারত থেকে কার্গো গ্রহণ শুরু করে। কার্গোর প্রথম চালানটি কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি নৌবন্দর থেকে রওনা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়েতে বারবার জান্তা বিরোধী বিদ্রোহী আক্রমণ ঘটে। মিয়ানমার সরকারের কাছে বন্দরের  নিরাপত্তা বহাল রাখা কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। তাই মিয়ানমার চেয়েছে যত দ্রুত সম্ভব বন্দরটি তৃতীয় কোনোও পক্ষের নিকট হস্তান্তর করতে।

[৫] সিত্তওয়ে বন্দরটি অন্ধ্রপ্রদেশের ভাইজাগ এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে বাংলাদেশকে বাইপাস করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছানোর জন্য কার্গোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সংযোগ সুবিধা প্রদান করে। কলকাতা বন্দর থেকে সিত্তওয়ে বন্দরের দূরত্ব ৫৩৯ কিলোমিটার। 
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  অনুমোদনের ফলে বন্দরটি এখন ভারতই চালাবে। এ বন্দরে ভারতীয় মুদ্রায় লেনদেনের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

[৬] আইপিজিএল অন্য যেকোনো ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বন্দরের মতো পূর্ণ অধিকার নিয়ে বন্দরটি পরিচালনা করবে। সিটওয়ে চুক্তিটি চাবাহারের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইরানের বন্দরটিতে শুধুমাত্র দুটি টার্মিনাল পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে আইপিজিএল-এর, গোটা বন্দরটি নয়।

[৭] সিত্তওয়ে চুক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি, প্রতি তিন বছর পুনর্নবীকরণ করা হবে। চুক্তির অধীনে, আইপিজিএল বন্দরটির উন্নয়নের জন্য অর্থ জোগাড় করবে, যা প্রাথমিকভাবে ভারত থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান পেয়েছে। কালাদান নদীর ব-দ্বীপে অবস্থিত, বন্দরটির গভীর জলের সমুদ্রের জাহাজগুলোকেও  নোঙ্গর  করার সম্ভাবনা রয়েছে।

[৮] বর্তমানে ভারত থেকে সিমেন্ট, ইস্পাত এবং ইটের মতো নির্মাণ সামগ্রী মিয়ানমারে রফতানি হয়। অন্যদিকে
মিয়ানমার থেকে আমদানির মধ্যে রয়েছে চাল, কাঠ, মাছ এবং সামুদ্রিক খাবার। বন্দর প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে আরো অন্য পণ্যের বাজার সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী উপকৃত হবে মিজোরাম এবং ত্রিপুরা রাজ্য। বর্তমানে এসব গন্তব্যে যাতায়াতকারী ভারতীয় কার্গোগুলোকে প্রধানত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যেতে হয়।

[৯] এই বন্দরটি কালাদান আন্তর্জাতিক  ট্রানজিট পরিবহন প্রকল্পের অংশ হতে পারে। একবার চালু হলে, সিটওয়ে বন্দর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মাল্টিমডাল ট্রানজিট সংযোগ সক্ষম করবে। সিটওয়ে বন্দরটি কালাদান নদীর উপর একটি মাল্টিমডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটি নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তির অধীনে তৈরি করা হয়েছে, যা মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দরকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

[১০] অন্যান্য ক্ষেত্রেও আইপিজিএলের অনুমোদনটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে  কোম্পানিটি এখন ভারতের বিদেশী বন্দর উন্নয়ন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে। উদাহরণস্বরূপ, তানজানিয়া তার বন্দরগুলোর সম্ভাবনা বিকাশের জন্য ভারতের সমর্থনের জন্য অনুরোধ করেছে। 
সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মিজিমাডটকম, ইন্ডিয়াসিপিংনিউজডটকম। সম্পাদনা : কামরুজ্জামান

এসবি২

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়