শিরোনাম
◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ◈ ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড় ◈ ভারতে ডেটা সেন্টার খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা! ◈ জেল থেকে ফিরে নানা আলোচনার কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী, সরগরম চুনকা কুঠির ◈ মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নাকি আইন হাতে তুলে নেওয়া? ভাইরাল গণপিটুনির ঘটনায় বিতর্ক ◈ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সেই ‘ডলার’কে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা ◈ আদালতের ঐতিহাসিক রায়: ১৬ দিনে বিচার সম্পন্ন, রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ◈ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ১৭ মাসে ৪৬০০ ভারতীয়কে ফেরাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:৩২ সকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আঙুল ফোটালে কি আসলেও ক্ষতি হয়? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

যাঁরা নিয়মিত আঙুল ফোটান, তাঁদের প্রায় সবাইকেই কোনো না কোনো সময় শুনতে হয়—এতে নাকি আঙুল বড় হয়ে যায়, হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা হয় কিংবা ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস হতে পারে। আঙুল ফোটানোর অভ্যাস নিয়ে এমন আশঙ্কা কয়েক দশক ধরেই প্রচলিত। তবে বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানাচ্ছেন, আঙুল ফোটালে হাড়ের সন্ধিস্থলের ভেতরে আসলে কী ঘটে এবং সেই পরিচিত শব্দ কেন হয়।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, আঙুল বা পায়ের পাতা ফোটানোর সময় যে শব্দ তৈরি হয়, তা হাড়ের ঘর্ষণ বা তরুণাস্থির ক্ষতি থেকে হয় না। ২০১৫ সালে করা একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় রিয়েল টাইম এমআরআই ইমেজিং ব্যবহার করে দেখা যায়, হাড়ের সন্ধিস্থল টানা বা প্রসারিত করলে ভেতরের চাপ হঠাৎ কমে যায়।

আমাদের হাড়ের জোড়ায় সিনোভিয়াল ফ্লুইড নামে একটি পিচ্ছিল তরল থাকে, যা হাড়ের নড়াচড়া সহজ করে। হাড়ের ফাঁকা জায়গা হঠাৎ বেড়ে গেলে এই তরল দ্রুত সেই জায়গা পূরণ করতে পারে না। ফলে সেখানে গ্যাসের একটি শূন্যস্থান বা বুদ্‌বুদ তৈরি হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন। আর এই বুদ্‌বুদ তৈরি হওয়ার মুহূর্তেই আঙুল ফোটানোর সময় সেই পরিচিত ফটফট শব্দ শোনা যায়।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার অধ্যাপক গ্রেগ কাউচুক আঙুল ফোটানোর ঘটনাকে অনেকটা ভ্যাকুয়াম বা শূন্যস্থান তৈরির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আগে ধারণা করা হতো বুদ্‌বুদ ফেটে যাওয়ার সময় শব্দ হয়। তবে আধুনিক এমআরআই গবেষণা বলছে, বুদ্‌বুদ তৈরি হওয়ার সময়ই শব্দটি হয়।

আঙুল ফোটালে আর্থ্রাইটিস হয়—এই ধারণাকেও অমূলক বলছেন বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে একটি ব্যতিক্রমী পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানী ডোনাল্ড উঙ্গার। তিনি টানা ৫০ বছর তাঁর বাঁ হাতের আঙুল দিনে অন্তত দুবার করে ফোটালেও ডান হাতের আঙুল কখনোই ফোটাননি। ২০০৪ সালে গবেষণার ফল প্রকাশ করে তিনি দেখান, দুই হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং কোনো হাতেই আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এই অসাধারণ ধৈর্যের জন্য ২০০৯ সালে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে আইজি নোবেল পুরস্কার পান।

অন্যান্য গবেষণাতেও দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো ও না ফোটানোর মধ্যে হাতের শক্তি বা তরুণাস্থির পুরুত্বে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। গবেষণা বলছে, একবার আঙুল ফোটানোর পর সেখানে তৈরি হওয়া গ্যাসের বুদ্‌বুদ আবার সিনোভিয়াল তরলে মিশে যেতে কিছুটা সময় লাগে। এ কারণেই সঙ্গে সঙ্গে একই জায়গায় দ্বিতীয়বার শব্দ করা যায় না।

সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিয়মিত আঙুল ফোটানোর ফলে হাত মোটা হয় না, তরুণাস্থি পাতলা হয় না এবং আর্থ্রাইটিসও হয় না। যদিও এই শব্দ অনেকের কাছে বিরক্তিকর হতে পারে, তবে এটি হাড়ের কোনো ক্ষতির ইঙ্গিত নয়। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়