শিরোনাম
◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৭ সকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলার গায়ক পাখি কোকিল: বসন্তের আগমনী বার্তা বয়ে আনে মধুর কুহুতে

‘আমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেলোগো মরার কোকিলে’ সুরেলা এ গান শোনেননি এমন শ্রোতা মেলা ভার। ‘কোকিলকণ্ঠী’ শব্দ বহুব্রীহি না দ্বন্দ্বী সমাস, তা নিয়ে যতই ভুলভাল থাক, বিশেষণযুক্ত শিল্পী বা বক্তা নিয়ে কিন্তু সবারই দারুণ উচ্ছ্বাস থাকে। কবিতা, গান, নাটক ও কাব্যে গানের পাখি কোকিলকে নিয়ে তাই প্রশংসার অন্ত নেই। শীতে কোকিলরা গাছের ডালপালার আড়ালে আবডালে গুটিসুটি মেরে থাকে। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন অর্থাৎ বসন্তের আগমনী বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুহু কুহু সুরে বন-বাদাড়সহ চতুর্দিক মুখরিত করে তোলে। প্রেম, বিরহ ও মিষ্টি সুরের দ্যোতনায় সবার অনুভূতিতে শিহরণ জাগায়।

‘কাকের বাসায় কোকিলের ছাঁ, জাত স্বভাবে করে রা’ প্রবাদে যাই থাক না, সুরের নাগর কোকিলের তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। বসন্তে অপার ভালোবাসা বিলিয়ে বন থেকে বনে, ডাল থেকে ডালে মিষ্টি সুরের গান গেয়ে বেড়ায় বাংলার দুষ্টু কোকিল।সুপ্রাচীনকাল থেকেই সুমধুর কুহুতানে শান্তি ও আনন্দ বিলানো বাংলার কোকিল নিয়ে কিছু জেনে নেয়া যাক—

বাংলাদেশে ২০ প্রজাতির কোকিলের ছয়টি পরিযায়ী। বেশিমেলে এশীয় কোকিল। বৈজ্ঞানিক নাম ইউডিনামিস স্কোলোপ্যাসিয়াস। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনে বিচরণ। পুরুষ কোকিলের গা-গতর কুচকুচে কালো। সঙ্গে হালকা নীলের আভা। চোখের রং লাল। ঠোঁট হলুদাভ সবুজ। মেয়ে কোকিলের গা হালকা বাদামি। তাতে কালচে আভার সঙ্গে সাদা ছিটছোপের মোহনীয় রং। মাথা ও গলায় ডোরাকাটা দাগ। শরীরের পরিমাপ ৪০-৪৩ সেন্টিমিটার। এপ্রিল-আগস্ট প্রজনন মৌসুম। পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা ছাড়াও বট-পাকুড়সহ বনজ ফলমূল প্রিয় খাবার। আইইউসিএন একে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত পাখি হিসাবে আখ্যায়িত করেছে।

পাখি বিশারদ শরীফ খান ‘বাংলাদেশের পাখি’ (৩য় খণ্ড) গ্রন্থে উল্লেখ করেন, কোকিল নিজে বাসা করে না। কৌশলে কাক, ছাতারে ও হাঁড়িচাচা পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। কোনো কারণে এদের বাসা না পেলে কসাই ও বুলবুলির বাসা টার্গেট করে। ডিম পাড়ার সময় এলে কোকিল টার্গেট করা বাসার আশপাশ কুহু কুহ ডাকে মাতাল করে তোলে। বাসার পাখি তখন বিরক্ত হয়ে কোকিলকে ধাওয়া দেয়। আর সুযোগ বুঝে মেয়ে কোকিল সেখানে চার-ছয়টা ডিম পাড়ে। ধুরন্ধর কোকিলের কৌশল বোকার হদ্দ কাক বা অন্য পাখিরা বুঝতেই পারে না। তারা কোকিলের ডিমে সপ্তাহ খানেক তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় ও লালনপালন করে। উড়তে শেখামাত্র কোকিল ছানারা বাসা ছেড়ে চলে যায়।

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের পাখিবিশারদ ড. সুগত হালদার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পৃথিবীতে কোকিলের কিছু জাতভাই রয়েছে, যারা অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে না। নিজেরাই বাসা বাঁধে। এরা হলো—পাপিয়া, বউ কথা কও এবং চোখ গেল পাখি। লেখক শরীফ খানের অভিমত, যতই মিহি কণ্ঠ থাকুক না কেন, অনেক পাখিবিজ্ঞানী কোকিলকে গায়ক পাখির স্বীকৃতি দিতে নারাজ।

প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক হাসিন জামাল জানান, শারীরিক গঠন ও বিবর্তন, পরজীবী স্বভাব অর্থাৎ কৌশলে অন্যের বাসায় ডিম পাড়ার ছলনায় কুহু কুহু যে ডাক, তা মূলত প্রজনন সম্পর্কিত বিষয়। সুতরাং গান ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ধারায় কোকিলের সঙ্গে অন্যান্য গায়ক পাখির ফারাক থাকায় অনেকেই কোকিলকে গানের পাখি বলতে চান না।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংবাদকর্মী এবং শৌখিন ফটোগ্রাফার কামাল হোসেন পৌষের নিদারুণ শীতে কোকিলের দিনকাল নিয়ে বেশ কিছু ছবি তোলেন। গত ১৭ ডিসেম্বর ঘাটাইলের শালিয়াজানি বাজারের পাকুড় গাছে একটি মেয়ে কোকিলকে শীতে জবুথবু হয়ে সূর্যের উষ্ণতা পাওয়ার আশায় পালক আলগা করে ঝিমুতে দেখেন।

তিনি বলেন, ‘হিম শীত পাড়ি দিয়ে কখন বসন্তের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারবে, সেই অপেক্ষায় দিন পার করছে তার মতো সব কোকিল। বট-পাকুড়সহ দেশি বড় গাছপালা হারিয়ে যাওয়ায় কোকিলরা সহজলভ্য খাদ্য-খাবার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।’ সূত্র: ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়