স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের পেস বোলিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ তিনি। একসময়ে কঠিন পরিশ্রম করেছেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর বাবা অটোরিকশা চালাতেন। হাত পুড়িয়ে রুমালি রুটি বানাতেন। এখন হায়দরাবাদে তাঁর বাড়ির দাম ১৩ কোটি টাকা। রয়েছে একাধিক দামি গাড়ি। মোট কত কোটি সম্পত্তির মালিক সিরাজ?
দায়বদ্ধতার আরেক নাম মহম্মদ সিরাজ। যে কোনও ফরম্যাটে সব সময় খেলার জন্য তৈরি। টেস্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বল করে যেতে পারেন। 'ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের' প্রয়োজন পড়ে না। বাবার মৃত্যুর পরও জাতীয় দলের সঙ্গে বিদেশ সফর থেকে ফেরেন না। আইপিএলেও ফুল ফোটাচ্ছেন সিরাজ।
এবার গুজরাট জায়ান্টসের হয়ে ১০ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে ডিএসপি সিরাজ। সম্প্রতি পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলেছেন। এই নিয়ে তিনবার গুজরাটের হয়ে প্রথম ওভারে তিন উইকেট নিলেন। প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে এই নজির গড়লেন তিনি।
২০২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী সিরাজের সম্পত্তি প্রায় ৫৭ কোটি টাকার মালিক। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আয় একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। কেনই বা বাড়বে না? দু'টো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড সিরিজে অবিশ্বাস্য বোলিং। আইপিএলেও নিয়মিত ভালো বল করছেন।
সিরাজ এখন বিসিসিআইয়ের বি গ্রেডে আছেন। তাই তাঁর বেতন বাৎসরিক ৩ কোটি টাকা। প্রতি টেস্টে পান ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া ওয়ানডেতে ম্যাচ প্রতি ৬ লক্ষ ও টি-টোয়েন্টিতে ৩ লক্ষ টাকা পান। গুজরাট টাইটান্সে তাঁর বেতন ১২.২৫ কোটি টাকা। এছাড়া জুতোর সংস্থার থেকে এনার্জি ড্রিংকের বিজ্ঞাপনের মুখও সিরাজ।
সিরাজের গাড়ির শখ রয়েছে। তাঁর তিনটি দামি গাড়ি রয়েছে। একটি ৩ কোটির রেঞ্জ রোভার ভোগে আছে তাঁর সংগ্রহে। ২০২০-২১ সালে বর্ডার গাভাসকর ট্রফিতে দারুণ পারফর্ম করেন। তারপর আনন্দ মাহিন্দ্রা সিরাজকে থার উপহার দেন। এছাড়া ৭৫ লক্ষের বিএমডব্লু ৫ সিরিজ সেডান, ১.৭ কোটির মার্সেডেজ বেঞ্জ ও ৫০ লক্ষের টয়োটা ফরচুনার আছে। হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসে তাঁর বাংলোর দাম প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এই অঞ্চলটিকে হায়দরাবাদের সবচেয়ে ধনী ও বিত্তশালী লোকেদের বাসস্থান হিসেবে ধরা হয়। সিনেমা জগতের তারকা, শিল্পপতি বা রাজনীতিবিদরা এই অঞ্চলে থাকেন। তাঁর বাবা ছিলেন অটো রিকশা চালক। থাকতেন ভাড়াবাড়িতে। সেখান থেকে পরিশ্রম করে উত্থান সিরাজের।
আধুনিক সমস্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাঁর এই বাংলোয়। বিলাসব্যসনের উপাদানের কমতি নেই। কাঠের আসবাব দিয়ে বাড়ি সাজানো। ব্যালকনি দিয়ে বাইরের দারুণ দৃশ্য দেখা যায়। সপরিবারে এখানেই থাকেন সিরাজ। ক্রিকেটার বন্ধুরাও এসে এখানেই ওঠেন। ক্রিকেটে জেতা সব ট্রফি এই বাড়িতেই রাখা থাকে।
অস্ট্রেলিয়া সফর চলাকালীনই বাবা মহম্মদ ঘাউস প্রয়াত হন। তারপর থেকে যতবার কোনও সফরে যান, তার আগে পর্যন্ত বাবার কবরস্থানে প্রার্থনা করেন। একসময় সিরাজের বাবা তাঁকে বলতেন, “বেটা, তোকে একদিন ভারতের হয়ে খেলতে হবে। অনেক নাম করতে হবে।” যে সিরিজেই নামেন, সিরাজ কথা রাখেন।
একসময় সিরাজ খুব বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসতেন। এখন সে সব বন্ধ করে দিয়েছেন। খুব শৃঙ্খলার মধ্যে থাকেন। যার জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে বিরাট কোহলিকে। তিনি সবসময় সিরাজের পাশে থেকে সমর্থন জুগিয়েছেন।আরেকজনও আছেন সিরাজের সাফল্যের নেপথ্যে। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। উইকেট তোলার পর পর্তুগিজ কিংবদন্তির মতো ‘সিউউ’ সেলিব্রেশন করেন।
পরিবারের সদস্যরা বলতেন পড়াশোনা করতে। একশো-দুশো টাকা উপার্জন করতেন। বাড়িতে একশো বা দেড়শো টাকা দিতেন। পঞ্চাশ টাকা নিজের জন্য রেখে দিতেন। এখানেই শেষ নয়। সিরাজ আরও বলেন, "রুমালি রুটি বানাতে গিয়ে হাত পুড়ে যেত। এত লড়াইয়ের পরে আজকে এই জায়গায় পৌঁছেছি।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মহম্মদ সিরাজের। ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে প্রথমবার তিনি রাজকোটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ ম্য়াচ খেলেছিলেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরাজ টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়।