ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম হলে নাটক, সিনেমা, সংগীত কিংবা প্রচলিত সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অবস্থান কী হবে—এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন মাওলানা মামুনুল হক। সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-এর একটি টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম হুট করেই কোনো বিধান চাপিয়ে দেয় না, বরং ধাপে ধাপে সমাজ সংস্কারে বিশ্বাসী।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জানতে চান, যারা অভিনয়, গান (রবীন্দ্র বা নজরুল সংগীত) গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন কিংবা যারা পহেলা বৈশাখ বা ভাস্কর্য শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের ভবিষ্যৎ কী? এছাড়া পশ্চিমা পোশাক পরা নারীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতি কী হবে?
এসব প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, "ইসলাম এমন একটি সমাজব্যবস্থা দেয় যেখানে হুট করে কোনো বিধান বাস্তবায়ন করা হয় না। মদ্যপান বা চুরির বিধানগুলোও ইসলামে ধাপে ধাপে এবং পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।"
তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, যারা বর্তমানে এমন পেশায় আছেন যা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের হুট করে নিষিদ্ধ করার আগে রাষ্ট্রকে বিকল্প কর্মসংস্থানের (Alternative Source) সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তিনি বলেন, "রাষ্ট্র আগে বিকল্প পথ তৈরি করবে, তারপর রাষ্ট্রীয় শক্তি বা বিধিনিষেধের বিষয়টি আসবে।"
নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কারও ঘরে ঘরে গিয়ে তদন্ত করা বা মানুষের অন্তরে কী আছে তা বিচার করার দায়িত্ব ইসলাম দেয়নি। ইসলামের লক্ষ্য হলো সামগ্রিক সমাজে একটি সুন্দর পরিবেশ রক্ষা করা।"
নারীদের পোশাকের বিষয়ে তিনি জানান, ইসলামী রাষ্ট্রে নারীদের পর্দার বা নির্দিষ্ট ড্রেস কোড অনুসরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলাম এখানে জবরদস্তির চেয়ে উৎসাহ দেওয়ার ওপরই বেশি জোর দেয়।
সাক্ষাৎকারে মাওলানা মামুনুল হক ইসলামকে 'সর্বাধুনিক জীবন ব্যবস্থা' হিসেবে দাবি করেন এবং বলেন যে, এটি সব পরিবেশ ও জাতির জন্য প্রয়োগযোগ্য।