মনিরুল ইসলাম: সানজানা চৈতি পপি তার ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজেও একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারাই আজ বঞ্চিত। অন্যদিকে, যারা সরাসরি নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারেননি, তাদেরই আবার সংরক্ষিত আসনে এমপি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সানজিদা ইসলাম তুলি ও সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা সরাসরি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছেন। এতে দলের ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১৭ বছরে দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। গুম, মামলা, নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে এমপি করা হয়েছে, যা দলের নীতির পরিপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
নিপুণ রায় সম্পর্কেও তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রামে দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকলেও তিনি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদ ও শেষে এমপি হয়েছেন, যেখানে ত্যাগীরা পদ-পদবী থেকেও বঞ্চিত।
ফেনী ও চাঁদপুরের কয়েকজন নারী নেত্রী একাধিকবার এমপি হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—একই জেলার অন্য যোগ্য নারীরা কি কখনো সুযোগ পাবেন না?
বিশেষ করে নোয়াখালী জেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৬টি সংসদীয় আসন থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার সুযোগ পাননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি দলের অভ্যন্তরে একটি সিন্ডিকেট মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করেন। এই সিন্ডিকেট দলের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে এবং বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ তৈরি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেষে তিনি বলেন, “দল করি বলে অন্ধ সমর্থন করবো না। আমাদের ত্যাগের মূল্য না দিলে প্রশ্ন তুলতেই হবে। বিচার মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম।”