শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির ◈ বিসিবি থে‌কে আরও এক পরিচালক পদত্যাগ করলেন ◈ হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজার অস্থির, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: জাতিসংঘ ◈ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা—কঠিন বাস্তবতায় আসছে নতুন বাজেট ◈ বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি, সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৭ বিকাল
আপডেট : ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোলকধাঁধায় ফেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ক্ষতি করছেন কারা?

দীপক চৌধুরী : এদেশের মানুষের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও  শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পঞ্চান্ন বছরেও আমরা কী এই লক্ষ্যে পৌঁছুতে পেরেছি? পারিনি এ সত্য স্বীকার করতেই হবে। বিভিন্ন সময় নানাভাবে এদেশে সরকার বদল হয়েছে। অবশ্য কীভাবে বদল হয়েছিল তা আজ আলোচনায় তুলতে চাই না। সে প্রসঙ্গটি পরে একবার আলোচনায় আনব। স্বাধীনতার পর  থেকে  যেসব রাজনৈতিক দল দেশ শাসনের ভার নিয়েছে, তারা  কেউ কেউ উন্নয়নের নামে মারাত্মক মিথ্যাচার করেছেন। কখনো কখনো  সংকট  তৈরি করেছেন।  কখনো কখনো একচক্ষু নীতি তাদের অন্ধ করেছিল। জনগণ যতবারই গণতন্ত্রকে নিয়ে সামনে ছুটে যাবার চেষ্টা করছে ততবারই তাদের গলাটিপে গণতন্ত্রের আন্দোলনকে দমানো হয়েছে। এতে শাসক লাভবান হয়েছে জনগণের রক্ত গেছে, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়, জ্বালানি। ডিজেল চাইছে মানুষ। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ‘জ¦ালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।’ আবার অন্যদিকে মানুষ তেলের পাম্পে গিয়ে তেল পাচ্ছে না। বিয়ের গাড়ি বড়-কনেকে সড়কে নামিয়ে দিচ্ছেন। যারা মোটরবাইক চালিয়ে জীবিকা চালান তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।  মোটরবাইক চালক ৭ঘন্টা, ৮ ঘন্টা দাঁড়ান লাইনে। কারণ, ডিজেলের অভাব। তাহলে কোনটি সত্য? জনগণকে গোলকধাঁধায় রেখে কী লাভ?  সরকার ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়েছে। কিন্তু এই ক্রাইসিস থামছেই না বরং বাড়ছে। আমরা সবাই জানি, সরকার চেষ্টা করছে। তাহলে বাস্তবচিত্র তুলে ধরতে সমস্যা কোথায়? এই বিভ্রান্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে!  

সংসদীয় গণতন্ত্রকে এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ  দেওয়া যায়নি। আমরা আশা করি, সরকার জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং জাতীয় সংসদকে রাজনীতির  কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে  তুলবে।

জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে কেউ কেউ বা কোনো কোনো দল ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার ফল হিসেবেই গণআন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসে বারবার ফিরে এসেছে। একারণেই সবার আগে দরকার হয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসাটাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে আন্তরিকতা জরুরি হয়ে পড়ছে। শুধু বক্তৃতায় এগিয়ে চলছি, কাজে যেন এগিয়ে যাই এই চেষ্টা থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে বিচার করতে হবে। নানারকম জটিলতা সামনে আসছে।

সীমিত আয়ের মানুষের কষ্টের কথা আমরা কতটুকু জানি? দেশ-কাল নিয়ে ভাবছি কতটুক? দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুবিধাগুলো সবার আগে বিচেনায় আনতে হবে। নতুন সরকারের প্রতিদ তাদের আশা-অকাক্সক্ষা অনেক।   
এদেশের জনগণ  যুগের পর যুগ দেখে আসছে, সরকার বদলের পর নতুন সরকার এসে আমাদের সামনে নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রিয়দেশের   ভেঙে পড়া অর্থনীতি ঠিক পথে আনা হয়নি। প্রশাসন, আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশনসহ দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষম করে  তোলার মতো বড় চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে রয়েছে।

আমরা জানি, সরকার দায়িত্ব  নেওয়ার পর ইরান যুদ্ধের কারণে  বৈশ্বিক জ্বালানি  তেল ও গ্যাসের বাজার অস্থির হয়ে পড়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।  সরকারের সম্মুখে এসব বড়বড় চ্যালেঞ্জ।

আমাদের সংবিধানেও সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সংবিধান আমরা কতটুকু অনুসরণ করছি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। অতীতকে ভুলে যাওয়া চলবে না, তবে অতীত নিয়ে  বেশি চর্চা সামনের ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারপ্রধান তার বক্তব্যের শুরুতে ‘স্বাধীনতার  ঘোষক জিয়াউর রহমানকে’ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব জাতীয়  নেতৃবৃন্দের প্রতি জানান কৃতজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যেভাবে জিয়াউর রহমানকে খাটো করা হয়েছে, তা  থেকেই প্রমাণিত হয়েছে, তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র। হঠাৎ করেই স্বাধীনতার  ঘোষণা  দেননি জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই লালন করেছেন। নিজের লিখিত “একটি জাতির জন্ম” প্রবন্ধে তিনি সব স্পষ্ট করেছেন।  সেটা প্রকাশ হওয়ার পর কারও দিক  থেকে কোনো আপত্তি আসেনি। অথচ পরবর্তীতে তাকে খাটো করার কত  চেষ্টা হয়েছে।’ এদিকে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গুরুত্ববহ কথা বলেছেন  সম্প্রতি। একথায় অন্যরকতম ইঙ্গিতও ফুটে উঠেছে বলে মনে করা হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে না  মেলানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘একাত্তরকে অন্য  কোনো ইতিহাসের সঙ্গে  মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে। বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।’

আমরা সত্যকে বনবাসে পাঠাই নিজেদের প্রয়োজনে। মিথ্যাকে বাস্তবায়ন করি। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও একটি গণতান্ত্রিক ও   বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। এর পেছনে সুশাসনের ঘাটতি  যেমন দায়ী  স্বৈরশাসন, অপশাসন, কুশাসন  তেমনি দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতাও। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়ে উঠেছিল কর্তৃত্ববাদী শাসন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং দুর্নীতি ও লুটপাট।

সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ অধ্যাপ ডক্টর ইউনূসের আমলটিও নাগরিকদের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। মবকালচার, ভাংচুর, লুটপাট ছিল মারাত্মক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুই তৃতীয়াংশের  বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা  পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। জনগণ তাদের কাজ করছে এখন সরকারের দায়িত্ব এই জনআকাক্সক্ষা পূরণ করা। আমরা মনে করি, সব মত ও পথের মানুষের অধিকার সমুন্নত করাটাই সামাজিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা অর্জনের সবচেয়ে ভালো উপায়।

একটি কার্যকর ও  টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সংবিধানে বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প  নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সামাজিক অবস্থায় অনেক সমস্যা এখনো সেই তিমিরেই চলছে। কোনটি জরুরি কিংবা কীভাবে কী করা হলে জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয় না। রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার আগে ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে একটা ‘স্পীড’ থাকে আমাদের মধ্যে। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে এটি আমাদের অনেকেরই তাড়ানোর চেষ্টা থাকে না।কিন্তু সেই স্পীড একটা সময় হারিয়ে যায়। অবশ্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে দারুণ মনোবলের সঙ্গে বলেছেন, ‘বিএনপি দুর্নীতির টুঁটি  চেপে ধরবে।’ জনগণের চোখের সামনে এখন ভাসছেÑ এ সরকারের সম্মুখের  বড়  বড় চ্যালেঞ্জগুলো। এগুলো মোকাবিলা করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদার দাবিতে হামলা, হত্যা-খুনসহ  নেতিবাচক যেসব কাজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে কেউ কেউ পরিকল্পিতভাবে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। উদ্দেশ্য কী?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ফিল্মমেকার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়