মনজুর এ আজিজ: বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে থাকা শেষ ইউনিটটিও বিকল হয়ে গেছে। কয়লায় থাকা পাথরে পাইপ ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শামীম হাসান। বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি চালু করতে কাজ চলছে। ঠিক কতদিন সময় লাগবে এখনই বলতে পারছে না বিপিডিবি। রক্ষণাবেক্ষণে থাকা তৃতীয় ইউনিট আগামী মাসে উৎপাদনে আসার কথা জানিয়েছে সুত্রটি।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই অঞ্চলের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিবাদ থাকায় ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে দ্বিতীয় ইউনিট। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে।
নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল দেশে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় খানিকটা বেশি। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার লোডশেডিং আরও বেড়ে যাওয়ার কথা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিদ্যুৎ বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারনে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। গতকাল গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫৫০০ মেগাওয়াট। আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। আদানির ইউনিটটি চালু হবে ২৬ এপ্রিল, বাঁশখালী আসবে ২৮ এপ্রিল। তখন সরবরাহ ১২০০ মেগাওয়াট বাড়বে। তেমন একটি সময়ে বড়পুকুরিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।