তারেক রহমান খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ‘ফাতেমা’ নামের এক নারীর ঘটনা তুলে ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করেন। ফাতেমা দীর্ঘদিন খালেদা জিয়া-র পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার এক প্রসূতি আত্মীয় অসুস্থ হলে বরিশালের হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় ইনকিউবেটরসহ উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় দ্রুত ঢাকায় রেফার করা হয়। এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কেন সাধারণ চিকিৎসার জন্যও মানুষকে রাজধানীতে যেতে হবে এবং কেন মফস্বল হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ফাতেমার পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তার স্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সব মানুষ তো এমন ‘ভিআইপি সংযোগ’ পায় না—তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে? তার মতে, প্রত্যেক নাগরিকের সমানভাবে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত, যা বাস্তবে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
তারেক রহমান ইঙ্গিত দেন, সমস্যা শুধু যন্ত্রপাতির অভাব নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও বড় একটি কারণ। যথাসময়ে উদ্যোগ নিলে এবং সঠিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক সমস্যা আগে থেকেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, একেকটি সিদ্ধান্ত শুধু একজন রোগী নয়, অনেক মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে উন্নতির আশ্বাস দেন। সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—স্বাস্থ্যসেবাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো নাগরিককে পরিচয় বা প্রভাবের ওপর নির্ভর করতে না হয়; বরং সবাই যেন সমানভাবে নিজের অধিকার অনুযায়ী চিকিৎসা পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন:
সবাই তো ফাতেমার আত্মীয় নয়: প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ফাতেমার আত্মীয় হওয়ায় তিনি হয়তো সুবিধা পেয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের কী হবে? তিনি বলেন, "সবাই তো ফাতেমা না বা সবাই ফাতেমার আত্মীয় না।"
দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান: চিকিৎসকদের আরও যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা একটু সচেতন হলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব।
সাধারণের চিকিৎসা নিশ্চিত করা: কাউকে যেন 'ফাতেমার আত্মীয়' হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও মানবিক ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।