জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আমহদ। বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে চেয়েছেন, তারা সেটা করতে পারেন। সংসদের সংস্কৃতিতে সেটা আছে।”
বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে দেওয়া নোটিশের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, “তারা ওয়ার্ক আউট করতে পারেন।”
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াকআউট করতে চেয়েছেন, পার্লামেন্টের কালচারে সেটা আছে, রাইট আছে। তারা ওয়ার্কআউট করতে পারেন। তবে, যে কথাগুলো রেকর্ডেড হয়ে গেল তার বিপরীতে আমাদের বক্তব্যটা এক বা দুই মিনিট রেকর্ডে থাকা ভালো। যে মুলতবি প্রস্তাবটা আপনার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রিসাইড করেছেন, উনি গ্রহণ করেছিলেন। তখনই আমি আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম, যেটা ৬৮ বিধিতে হতে পারে। কিন্তু মূলত প্রস্তাব, যে রুলস অব প্রসিজিউর আছে তার মধ্যে আপনি রাইটলি আইডেন্টিফাইড করেছেন, সেটা আমি আগে উত্থাপন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যে বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে, সেরকম কোনও বিষয় মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনা করার বিধান নাই। এটা আপনাদের উদারতা, হাউজের অভিভাবক হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। আপনি আলোচনার জন্য রেখেছেন এবং সেটা দুই ঘণ্টা আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। পক্ষে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, এটা যেহেতু বিধি-বহির্ভূত এবং আলাপ-আলোচনা হয়ে যাওয়ার পরে পার্লামেন্টের প্র্যাকটিস হচ্ছে, ইটস টক আউট আলোচিত হয়েছে সুতরাং আলোচনার পরে নিষ্পত্তি কি হবে সেজন্য ভোটাভুটি দেওয়ার কোনও বিধান নাই।”
মন্ত্রী বলেন, “শুধুমাত্র মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপিত হবে কিনা, উত্থাপিত হবে অথবা হবে না তার ওপরে ভোটাভুটির বিধান আছে। কিন্তু, আপনি যদি তখন ভোটাভুটি বিধান দিতেন তাহলে এই আলোচনা প্রস্তাব উত্থাপিতই হতো না। স্পিকার হিসাবে আরেকটা অপশন আপনার কাছে আছে। আপনি কোনও মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনা করবেন অথবা বিবেচনা করবেন না, আপনি এটা রিড আউট করে। এটা প্রিভিলেজ হলো, অপজিশন মেম্বার কেউ যখন সরকারি কর্ম বাধাগ্রস্ত করতে চায়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নজির অনুসারে, তারা ট্রেজারি বেঞ্চের আলোচনা যাতে এগিয়ে না যায়, সেজন্য মুলতবি প্রস্তাব তুলে। তোলার পরে সেটা মুলতবি হলো কি হলো না সেটা স্পিকারের এখতিয়ার অথবা ভোটাভুটির এখতিয়ার। তখন মুলতবি প্রস্তাবটা আলোচনা না হলেও প্রিভিলেজটা হলো যে তাদের উত্থাপিত বিষয়টা আপনাকে পড়তে হয় সেটাই।
“আর আমরা কোনও মুলতবি প্রস্তাব এখানে রিড আউট করি নাই। উনি (বিরোধী দলের নেতা) যেটা বলেছেন, সেটা অসত্য বলেছেন, যেটা মুলতবি প্রস্তাব আমিও শুনেছি আজকে, একজন বেসরকারি সদস্য উত্থাপন করতে পারেন। সেটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু একই বিষয়ে আপনি বিরোধী দলের নেতার একই রকম মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। এজ এ ম্যাটার অফ রাইট বেসরকারি সদস্য সেটা ক্লেইম করতে পারেন”, যোগ করেন তিনি। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।