শিরোনাম
◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫২ দুপুর
আপডেট : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

জনসমক্ষে ধূমপানে জরিমানা বেড়ে ২ হাজার, বাতিল হলো ‘স্মোকিং জোন’ ব্যবস্থা

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর

মনিরুল ইসলাম: বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হয়। 

এ আইনের মূল উদ্দেশ্যে হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। 

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন: 

১. ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ :
তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, Electronic Necotin Delivery System (ENDS), Heated Tobacco Product(HTP), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার এরূপ যেকোন পণ্যকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়াও, 'নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

২. পাবলিক প্লেসে নিষেধাজ্ঞা :
সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে।

৩. বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, OTT প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ, বিক্রয়স্থলে (Point of Sales) প্যাকেট প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, CSR কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম/লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান/কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে বিক্রয় নিষিদ্ধ: 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৫. ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: 
উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও  ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধান লংঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

৬. কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি নিষিদ্ধ: 
উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ পৃথক Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করা হয়েছে।

৭. আসক্তিমূলক দ্রব্য মিশ্রণ নিষিদ্ধ: 
তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সাথে কোনো ক্ষতিকর  আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিধান রাখা হয়েছে।

৮. স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং: 
প্যাকেটের ৭৫% জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৯. শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার: 
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়