শিরোনাম
◈ দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন খাস জমি উদ্ধার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের উদ্যোগ: স্থবির ৪০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা ◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৯ রাত
আপডেট : ০৩ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কানাডায় বিলাসবহুল সম্পদ গড়েও স্বস্তিতে নেই এস আলমের ভাই লাবু!

বাংলাদেশের অর্থে কানাডায় বিলাসবহুল সম্পদ গড়েও স্বস্তিতে নেই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বেয়াইও। ‘চাঁদার’ দাবিতে তার পিছু নিয়েছে কানাডার কুখ্যাত মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। সূত্র: এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদন

গেল বছরের মে মাসে লাবু মাফিয়াদের টার্গেটে পরিণত হন। ওই মাসেই তার মন্ট্রিয়ালের বাড়িতে একাধিকবার হানা দেয় মাফিয়ারা। হুমকি দিয়ে চাঁদা না পেয়ে লাবুর বাড়িতে হামলাও চালায় তারা। এ সময় লাবুর বাড়ির সামনে থাকা একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি এতদিন আড়ালেই ছিল। সম্প্রতি আব্দুস সামাদ লাবুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ। এ নিয়ে মন্ট্রিয়ালের ফরাসি ভাষার পত্রিকা ‘লা প্রেস’ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি ফের সামনে আসে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন একটি আন্তর্জাতিক অর্থপাচার নেটওয়ার্কের তথ্য; যার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

২০২৫ সালের ২৬ মে আব্দুস সামাদ লাবুর বাসায় হানা দেয় একদল দুর্বৃত্ত। পরবর্তী সময়ে জানা যায় তারা মাফিয়া দলের সদস্য। যে বাড়িটিতে এই ঘটনা, ছয় বেডরুম ও তিন গ্যারেজের বিলাসবহুল সেই বাড়িটির অবস্থান কুইবেক প্রদেশের অভিজাত এলাকা বিকনসফিল্ডের ৮ অ্যাভিনিউ ক্যারিয়ার্সে।

ওই বাসায় গিয়ে মাফিয়া দলের সদস্যরা লাবু ও তার পরিবারকে তৃতীয় কোনো একটি পক্ষের পাওনা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু লাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, কারও কাছে তাদের কোনো ঋণ নেই। এরপরও অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের হুমকি ও হয়রানি শুরু করে মাফিয়ারা। একপর্যায়ে তারা আব্দুস সামাদ লাবুর বাসার সামনে পার্ক করা একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলিও করে।

এ নিয়ে মন্ট্রিয়াল পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন লাবু, জানান জীবন শঙ্কার কথা। এরপর ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে মন্ট্রিয়াল পুলিশ। সেই তদন্তের এক বছর পর এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর এরপরই জানা যায়, এরা কোনো সাধারণ চাঁদাবাজ নয় এবং ভুক্তভোগী আবদুস সামাদ লাবুও কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন।

লাবু কীভাবে মাফিয়াদের টার্গেট
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলে আব্দুস সামাদ লাবু বেশ পরিচিত নাম। তিনি এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। বড়ভাই এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলমের মতো লাবুর বিরুদ্ধেও রয়েছে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অভিযোগ।

এস আলম গ্রুপের আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তেও আব্দুস সামাদ লাবুর নাম এসেছে। দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, লাবু ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও জাল কাগজের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে সেই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ তিনি বিনিয়োগ করেছেন কানাডায়।

কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি অবৈধ অর্থের গন্তব্য হিসেবে সমালোচিত। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট খাতে নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার সুযোগে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম পরিবার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাচার করা অর্থে সম্পদের পাহাড় গড়েছে কানাডায়।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, কানাডায় আসার পর ২০১৪ সাল থেকে সেখানকার রিয়েল এস্টেট খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করতে শুরু করেন আব্দুস সামাদ লাবু। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘রুনা করপোরেশন’ নামে কানাডার একটি আবাসন খাতের কোম্পানিতে অংশীদার হিসেবে আছেন লাবু ও তার দুই ছেলে আতিকুল আলম চৌধুরী এবং তৌফিকুল আলম চৌধুরী।

লাবুর ছেলে আতিকুল বিয়ে করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের মেয়ে জেবা জামানকে। সাইফুজ্জান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি বিদেশে পলাতক রয়েছেন।

অবশ্য কেবল ছেলের বিয়ের সূত্রে নয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে অন্য সূত্রেও আত্মীয়তার যোগ রয়েছে আব্দুস সামাদ লাবুর। সাইফুজ্জামানের বাবা আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একসময়ের প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সম্পর্কে লাবুর মামা। অর্থাৎ সাইফুজ্জামান চৌধুরী আব্দুস সামাদ লাবুর মামাতো ভাই।

লাবু কীভাবে মাফিয়াদের টার্গেটে পরিণত হলেন তা নিয়ে কথা হয় ‘লা প্রেসের’ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ভিনসেন্ট লারুশ এবং ড্যানিয়েল রেনোর সঙ্গে। লাবুর বাড়িতে মাফিয়াদের হামলার বিষয়ে তারা এক বছর ধরে অনুসন্ধান করেছেন। তারা জানান, মাফিয়া দলের সদস্যরা আব্দুস সামাদ লাবুকে এলোমেলোভাবে টার্গেট করেনি। অপরাধচক্রের কুখ্যাত ব্যক্তিরা যেভাবে সরাসরি বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করেছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ তৈরি করেছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এভাবে তারা সাধারণত হঠাৎ কারও বাড়িতে যায় না। ফলে এই ঘটনাটিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন চাঁদাবাজির ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই দুই সাংবাদিক কানাডায় আব্দুস সামাদ লাবুর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিষয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা জানান, শুধু লংগুইল, মন্ট্রিয়াল নর্থ এবং রোজমঁ এলাকায় আবাসন ব্যবসায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে লাবুর। এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তারা।

বীকনসফিল্ডের যে বিলাসবহুল বাড়িতে আব্দুস সামাদ লাবুর পরিবার মাফিয়াদের হামলার শিকার হয়; সেটির মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে হামলার পর থেকে লাবু পরিবার এখন আর সেই বাড়িতে থাকছে না। ছয় বেডরুম, তিন গ্যারেজ এবং বিশাল আঙিনাসহ ওই বাড়িটি এখন ভাড়া দেওয়া আছে।

কানাডার স্থানীয় সূত্র বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলাদের গত কয়েক বছরে কানাডায় বিলাসবহুল সম্পদ অর্জনের খবর আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। তবে অন্য কারও এভাবে মাফিয়াদের খপ্পরে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। একদিকে বাংলাদেশ সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে একই অর্থে নজর দিয়েছে মন্ট্রিয়ালের মাফিয়ারা।

গ্রেপ্তারের পর মিলল মাফিয়া চক্রের খবর

আব্দুস সামাদ লাবুর বাড়িতে অর্থ দাবি এবং হামলার ঘটনায় গত ৩০ মার্চ দুজনকে গ্রেপ্তার করে মন্ট্রিয়াল পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মরেনো গ্যালো জুনিয়র, অন্যজন ভ্লাদিমির লাগ্যুরে। দুজনই কুইবেকভিত্তিক সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কের সদস্য। মরেনো গ্যালো জুনিয়র মন্ট্রিয়ালের ইতালীয় ম্যাফিয়া গোষ্ঠী ক্যালাব্রিয়ান কোট্রোনি ক্ল্যানের সদস্য। তার বাবা মরেনো গ্যালো সিনিয়রও এই নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী ছিলেন। ২০১২ সালে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে তাকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে মেক্সিকোর আকাপুলকোতে বসবাস শুরু করেন। ২০১৩ সালে সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

ভ্লাদিমির লাগ্যুরে অপরাধ জগতে স্ট্রংম্যান হিসেবে পরিচিত। তিনি চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের জন্য কুখ্যাত। তবে এবারের ঘটনাটি তারা নিজেদের স্বার্থে করেছে নাকি অন্য কারও নির্দেশে ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে মন্ট্রিয়াল পুলিশের পাবলিক রিলেশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। তারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঘটনাটিকে জটিল ও তদন্তাধীন উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে সাংবাদিক ভিনসেন্ট এবং রেনো তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি গোপন পূত্র থেকে জানতে পেরেছেন, আব্দুস সামাদ লাবুর বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করার সময় মাফিয়ারা বাংলাদেশেও ফোন করেছিল। তবে কার ফোনে কী কারণে সেই কল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তারা জানতে পারেননি।

ফের আলোচনায় কানাডায় অবৈধ বিনিয়োগ

কানাডায় বিদেশ থেকে আসা অবৈধ অর্থপ্রবাহ নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। সমালোচকদের মতে, শিথিল কর আইন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে দুর্বলতা দেশটিকে ‘স্নো-ওয়াশিং সেন্টারে’ পরিণত করেছে। দৃশ্যত, এই সুযোগটিই নিয়েছেন আব্দুস সামাদ লাবু। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, দেশ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বৈধ পথে বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

আব্দুস সামাদ লাবুর ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিষয়ে জানলে আন্তর্জাতিক অর্থপাচার নেটওয়ার্কের বিষয়েও আভাস পাওয়া যায়। ‘রুনা করপোরেশন’ নামে যে প্রতিষ্ঠান খুলে লাবু কানাডায় ব্যবসা শুরু করেন, ২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাংলাদেশের আর্থিক খাতের আরেক বিতর্কিত চরিত্র প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, পি কে হালদার এস আলমের অর্থপাচারের অন্যতম সহযোগী। তার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ আছে, যার একটি অংশ কানাডায় পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেখানে তার ভাই প্রীতীশ কুমার হালদারের নামে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে ‘রুনা করপোরেশন’ যার হাতে প্রতিষ্ঠা পায়, তার নাম মোস্তাক এ সরকার। মন্ট্রিয়ালে এস আলম পরিবার এবং পি কে হালদারের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন তিনি। পেশায় অ্যাকাউন্টেন্ট মোস্তাকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির মনোনয়নে একাধিকবার মন্ট্রিয়াল থেকে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ওই আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী ছিলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এই মোস্তাক কুখ্যাত মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা এবং তাদের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে এর আগেও কানাডার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন।

পাচার অর্থ কেন বাংলাদেশে ফেরানো যাচ্ছে না

কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও করপোরেট ক্রাইম বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদ হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কানাডায় অর্থপাচারবিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও প্রমাণ সংগ্রহ, যাচাই ও আদালতে উপস্থাপনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া ধীর ও জটিল হয়ে পড়ে।’ পাচার হওয়া অর্থ সাধারণত সরাসরি আসে না। শেল কোম্পানি, অফশোর অ্যাকাউন্ট ও ট্রাস্টের জটিল কাঠামোর মাধ্যমে আসে, ফলে প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা কঠিন।’

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে কানাডার আর্থিক খাত মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ফিনট্রাকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় এশিয়া পোস্ট। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র এবং সিনিয়র কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজর এরিকা কনস্ট্যান্ট জানান, ফিনট্র্যাক মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন বিশ্লেষণ করে এবং তার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠায়। সংস্থাটি নিজে কোনো তদন্ত করে না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফিনট্র্যাক ছয় হাজারেরও বেশি আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যা দুই শতাধিক জটিল ও আন্তঃদেশীয় তদন্তে ব্যবহৃত হয়েছে। এই সময়ে ছয় লাখেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। তবে এই তালিকায় কতজন বাংলাদেশি রয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি এরিকা।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এস আলম পরিবার সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য চেয়ে যে অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল, তার অধিকাংশেরই উত্তর মিলেছে। কানাডার ফিনট্র্যাকও তাদের সম্পদের গোয়েন্দা তথ্য পাঠিয়েছে। তবে এরপর অগ্রগতি থেমে আছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপপ্রধান মফিজুর রহমান খান চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ফিনট্র্যাকের তথ্য সরাসরি আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এটি ওদের পাঠানো চিঠিতে লেখাই থাকে। কানাডা আমাদের পারস্পরিক তথ্যগত সহায়তার এসব অনুরোধে সাড়া দিলেও এ সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে, যার মাধ্যমে সম্পদ জব্দ করে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হবে, সেসব ক্ষেত্রে তুলনামূলক শীতল আচরণ করে। ফলে বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও জটিল হয়ে দাঁড়ায়। কীভাবে কার্যকরভাবে এস আলম পরিবারসহ আরও আরও যারা অর্থ পাচার করেছেন, সেসব অর্থ কানাডা থেকে ফেরত আনা যায়, সে বিষয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের একটি বিশেষ টিম অটোয়া পাঠানোর কথাও আমরা ভাবছি।’

হাইকমিশন ও লাবুর পরিবারের বক্তব্য

কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার জসীম উদ্দিন এবং উপপ্রধান কাজী রাসেল পারভেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। যদিও এর আগে কাজী রাসেল পারভেজ লা প্রেসের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছি। তবে আমার মনে হয়, আরও সহযোগিতা ও জোরালো পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।’

অন্যদিকে আবদুস সামাদ লাবু এবং তার দুই ছেলের বক্তব্য জানতে তাদের কানাডিয়ান নাম্বার সংগ্রহ করে এশিয়া পোস্ট। সেই নম্বারগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তারা ফিরতি যোগাযোগ করেননি। এমনকি তাদের বর্তমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ অ্যান্ড এস ফাইন্যান্সিয়ালের নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়