শিরোনাম
◈ দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন খাস জমি উদ্ধার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের উদ্যোগ: স্থবির ৪০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা ◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:২২ রাত
আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কর্মী সংকটে হুমকির মুখে ব্রিটেনের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘ইন্ডিয়ান’ রেস্টুরেন্ট শিল্প

বৃটেনে বৃটিশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘ইন্ডিয়ান’ রেস্টুরেন্টের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার বা তার বেশি ধারণা করা হয়। এই রেস্টুরেন্টখাত প্রায় £৫ বিলিয়নের বেশি মূল্যের শিল্প তৈরি করেছে এবং প্রায় ১,০০,০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। সূত্র: মানবজমিনন

কারি শিল্পের উজ্জ্বল দিনগুলো যেন ক্রমেই মলিন হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে হাজার হাজার রেস্টুরেন্ট। যুক্তরাজ্যে চরম মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং গ্রাহক কমে যাওয়া এর কারণ হলেও রেস্টুরেন্ট বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ অবৈধ অভিবাসী ধরতে ইমিগ্রেশন রেইড এবং জরিমানা।

বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের একমাত্র কর্মস্থল ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। কাজের অনুমতি না থাকায় এসব অভিবাসীদের প্রধান টার্গেট থাকে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। মালিক পক্ষও মানবিক দিক বিবেচনা করে এসব অবৈধ অভিবাসীদের কাজ দিয়ে থাকেন। আবার অনেক রেস্টুরেন্ট মালিক স্বল্প পারিশ্রমিকের ওয়ার্কার পাওয়াতে কাজের অনুমতিবিহীন ওয়ার্কার রাখেন।

রেস্টুরেন্ট খাতে কাজ অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় এবং মজুরি তুলনামূলক কম। স্থানীয় বৃটিশ নাগরিকদের অনেকেই এই কাজ করতে আগ্রহী নন। ফলে বহু রেস্টুরেন্ট মালিক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা কাগজপত্র ঠিক না থাকা অভিবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ইমিগ্রেশন রেইডের সময় এসব কর্মী ধরা পড়লে রেস্টুরেন্ট সরাসরি আইনগত সমস্যায় পড়ে যায়।

ইউকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এখন উম্মুক্ত ধারণা যে, অবৈধ অভিবাসীরা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টেই বেশি কাজ করে তাই তাদের টার্গেটও সেখানেই। প্রায় প্রতিদিনই সারাদেশে চলে ইমিগ্রেশন রেইড। ধড়পাকড় করা হয় অবৈধ অভিবাসীদের। কাজের অনুমতিবিহীন শ্রমিক রাখার দায়ে বড় অংকের জরিমানা কৰা হচ্ছে মালিক পক্ষকে। এতে মালিক পক্ষ যেমন বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনার শিকার হন তেমনি স্টাফ সংকটের কবলে পড়েন।

অনেক ক্ষেত্রে রেস্টুরেন্টের স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হয়, ফলে ভবিষ্যতে বৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। এই আর্থিক চাপ অনেক ছোট ও পারিবারিক রেস্টুরেন্ট সহ্য করতে পারে না।

আবার ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর কর্মীরাও সহজে যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারছেন না। এতে রেস্টুরেন্ট খাতে কর্মী সংকট আরও বেড়েছে। বৈধ পথে দক্ষ শেফ বা কিচেন স্টাফ আনা এখন বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল, যা ছোট রেস্টুরেন্টগুলোর জন্য বড় বাধা। সাধারণত বৈধ অভিবাসীর কম সংখ্যক শ্রমিক এখন রেস্টুরেন্ট সেক্টরে কাজ করতে চান এর প্রধান কারণ ফুড ডেলিভারী, উবার কার ড্রাইভিং এর কাজে এখন অধিকাংশ মানুষ নিয়োজিত। এই সেক্টরে আয় বেশি আবার খুবই নিজ কেন্দ্রিক। ইচ্ছে করলে তারা কাজ করেন আবার ইচ্ছে না করলে কাজ করেন না।

যার ফলে আগের চেয়ে রেস্টুরেন্ট সেক্টরে বৈধ শ্রমিক পাওয়া এখন বেশ কঠিন হয়ে গেছে। রেস্টুরেন্ট চালাতে অবৈধ শ্রমিকই বেঁচে নেন ব্যাবসায়ীরা। 

এছাড়া কর পরিবর্তনের কারণেও ইন্ডিয়ান রেটুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে শুধু কর পরিবর্তনের ফলেই প্রায় ৯৬৩টি রেস্তোরাঁ ও ৫৭৪টি হোটেল বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইমিগ্রেশন রেইডের কারণে বৃটেনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরু থেকে বৃটিশ অফিসের শুরু করা নজিরবিহীন অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মুখে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক রেস্তোরাঁ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ রাষ্ট্রের অধিকার হলেও, বাস্তবতা হলো যুক্তরাজ্যের ইন্ডিয়ান ও দক্ষিণ এশীয় রেস্টুরেন্ট খাত বৈধ কর্মী সংকট ও কঠোর নীতির চাপে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে সরকারকে আরও বাস্তবসম্মত ও খাতভিত্তিক কর্মী ভিসা নীতি বিবেচনা করতে হবে, নাহলে বহু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট শুধু স্মৃতিতেই থেকে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়