নারীর তুলনায় পুরুষের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজ বা এই স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, পুরুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নারীর চেয়ে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গুণ বেশি। পার্কিনসন্স রোগে পুরুষের ঝুঁকি বেশি হওয়ার প্রধান কারণ পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে কিংবা দূষিত পরিবেশে বেশি থাকেন।
তা ছাড়া স্ট্রোক হলে কিংবা মাথায় আঘাত পেলেও পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বাড়ে। তবে এই ফ্যাক্টরগুলো নারীর মধ্যেও কাজ করে। গবেষকরা মনে করছেন, হরমোনের তারতম্যের জেরেই পুরুষের মধ্যে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বেশি থাকে। মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কম থাকায় পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি এ রোগে আক্রান্ত হন। ৬০ বছর পেরোলেই পার্কিনসন্সের লক্ষণগুলো রোগীর মধ্যে দেখা দেয়।
এখন পর্যন্ত পার্কিনসন্সের মূল কারণ জানা যায়নি। সাধারণত দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, খাবারে টক্সিনের উপস্থিতি এবং জিনগত কারণে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বাড়ে। তবে একাধিক গবেষণা বলছে— নারীর তুলনায় পুরুষদের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজের ঝুঁকি বেশি। কোনো জিনিস ধরতে গেলেই হাত থর থর করে কেঁপে ওঠে। সামলাতে না পেরে হাত থেকে জিনিস পড়ে যায়। আবার হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পড়ে যান। ভারসাম্য সামলাতে পারেন না। আবার অনেক সময়ে কথা বলার সময়ে কথা জড়িয়ে যায়। এগুলো পার্কিনসন্সের প্রাথমিক উপসর্গ।
সাধারণত পার্কিনসন্সের ঝুঁকি কমায় ইস্ট্রোজেন। ইস্ট্রোজেন হলো ফিমেল সেক্স হরমোন। নারীর দেহে সুরক্ষা কবচের কাজ করে এ হরমোন। ডোপামিন উৎপাদনে সহায়তা করে, মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায়, হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ডোপামিন উৎপাদনের মাত্রা ঠিক থাকলে অধিকাংশ সময়ে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি যায়। এই ইস্ট্রোজেন হরমোনই নারীকে পার্কিনসন্স ডিজিজের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। তবে নারীর পার্কিনসন্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই দেখা যায় না, তা ঠিক নয়। নারীও পার্কিনসন্স ডিজিজে ভুগতে পারেন। কিন্তু নারীর মধ্যে এই রোগের উপসর্গগুলো অনেক দেরিতে প্রকাশ পায় এবং সেগুলো জোরালো হতেও সময় লাগে। সাধারণত মেনোপজের পর নারীরা পার্কিনসন্সে আক্রান্ত হতে পারেন। ঋতুবন্ধের পর শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। তখনই হার্ট অ্যাটাক ও হাড়ের ক্ষয়ের মতো পার্কিনসন্সের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই পার্থক্য ধীরে ধীরে কমছে। আজকাল সময়ের আগেই নারীর মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজ নির্ণয় করা যাচ্ছে। ইস্ট্রোজেন ছাড়াও পার্কিনসন্সের পেছনে যে ফ্যাক্টরগুলো দায়ী, তা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় সমান। তাই ৬০ বছর পর হাত-পা কাঁপা, পেশিতে টানা লাগা, চলাফেরার সময়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তখনই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।