শিরোনাম
◈ প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরান সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে অস্বস্তি জাতিসংঘে ◈ মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ শোলাকিয়ায় ঈদ: ছয় লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে অনন্য মিলনমেলা ◈ এবারের ঈদে চাঁদাবাজি কমেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: আইনমন্ত্রী ◈ জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ◈ ঈদের নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনায়’ জনস্রোত ◈ যেভাবে সঠিক নিয়মে পড়বেন ঈদের নামাজ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করল সুইজারল্যান্ড

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ক্লান্তি দূর করতে এই ৭টি ভিটামিন ও খনিজ অপরিহার্য

শক্তিশালী থাকতে কে না চায়? তবে ক্লান্তি যেন আমাদের প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তি না পাওয়া কিংবা সবসময় ক্লান্তি বোধ করার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাব দায়ী। কারণ শারীরিক-মানসিক নানা চাপ সামলে নিজের প্রতি যত্নশীলও হয়ে ওঠা হয় না আমাদের। 

কোন খাবারটি উপকারী, আর কোনটি খেলে শরীরে বাড়তি শক্তি পাব, সেদিকে খেয়াল করারও যেন সময় নেই। তাই ক্লান্তিবোধ হলে দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে অনেকেই এনার্জি ড্রিংকস বেছে নেন। কিন্তু তাতে সাময়িক মুক্তি মিললেও তা মোটেও আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। 

বরং নিয়মিত কিছু ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। এতে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি মিলবে। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত— আপনার কোন পুষ্টির অভাব রয়েছে। 

এ ছাড়া কেবল ভিটামিন নয়, ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও জরুরি। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি থাইরয়েড কিংবা ডায়াবেটিসের লক্ষণও হতে পারে। তাই লক্ষণগুলো না কমলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে কোন ভিটামিন খাওয়া জরুরি—

জিংক

জিংক একটি দুর্দান্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান। এটি ক্যানসারসহ অন্যান্য গুরুতর রোগ থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করতে পারে। তবে জিংক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি কাজ করে থাকে। আর জিংক এনজাইম উৎপাদনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যা লিভার ও কিডনির মতো প্রধান অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

সেই সঙ্গে এটি ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। জিংকের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম হলে ক্লান্তি ও ক্ষুধা হ্রাস পেতে পারে, যা শক্তির মাত্রা হ্রাস করে।

আয়রন

আপনার শরীরে আয়রনের মাত্রা কম থাকলে শক্তির সরবরাহ কমে যায়। তখন ক্লান্তি ও দুর্বলতার অনুভূতি হয়। আবার কখনো কখনো আয়রন সাপ্লিমেন্ট লিখে দেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে নারীর জন্য, যাদের পর্যাপ্ত মাত্রা আয়রন থাকা চাই। 

আর আয়রনের ঘাটতি সাধারণত বড় কোনো সমস্যা নয়। তবে যারা সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে লড়াই করেন, তাদের জন্য আয়রন সাপ্লিমেন্ট কার্যকরী হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন পেতে সুষম খাদ্য খেতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, মাংস ও মাছ। 

ভিটামিন বি-১২

ভিটামিন বি-১২ একটি দুর্দান্ত শক্তিবৃদ্ধিকারী হিসাবে সুপরিচিত। একে ‘এনার্জির পাওয়ার হাউস’ বলা হয়। এটি খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এটি শরীরের অন্যান্য অনেক ক্রিয়াকলাপের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার এবং স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা। নিরামিষাশীদের জন্য এটি বিশেষভাবে জটিল হতে পারে। 

কারণ বি-১২ উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে পাওয়া যায় না। এটি সাধারণত পাওয়া যায় মাছ,  মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম এবং অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যে। ভিটামিন বি-১২ ছাড়াও অন্যান্য বি ভিটামিন (যেমন B1, B2, B3, B5, B6) শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া সচল রেখে এনার্জি সরবরাহ করে।

ভিটামিন সি

এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং আয়রন শোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে ক্লান্তি কমাতে সহায়ক।

ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি সুস্বাস্থ্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ কথা আমরা অনেকেই জানি। যারা তাদের শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে চান, তাদের জন্যও এটি বেশ উপকারী। এটি পেশির কার্যকারিতা বাড়াতে এবং কোষের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এর অভাবে হাড় দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি তীব্র ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ভিটামিনের সবচেয়ে বড় উৎস হলো সূর্যের আলো। 

দীর্ঘ শীতকালসহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় বসবাসকারী অনেকের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে, সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। আর সূর্যালোক ও ফ্যাটি মাছ এর প্রধান উৎস।

ম্যাগনেশিয়াম

ম্যাগনেশিয়া আরেকটি অপরিহার্য পুষ্টি, যা আমাদের সবার হাড়, স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশির সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ম্যাগনেশিয়ামের অভাব ঘুম, মেজাজ এবং হরমোনের ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা সহজেই ক্লান্তির হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে পারে এবং ফলস্বরূপ শক্তির মাত্রা বাড়াতে পারে।

পটাশিয়াম

পটাশিয়াম পুষ্টি উপাদান নিয়ে খুব একটা আলোচনা করা হয় না। কারণ আয়রন, জিংক এবং ভিটামিন সি, বি ও ই-এর মতো অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের তুলনায় এটি নজরে পড়ে না। তবু পটাশিয়াম সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কারণ এটি খনিজ ও ইলেক্ট্রোলাইট উভয়ই। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়