শিরোনাম
◈ বিশ্বকা‌প, প‌্যারাগু‌য়ে‌কে উড়ি‌য়ে দি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র ম‌্যাচ জিত‌লো ৪-১ গো‌লে   ◈ বিশ্বকা‌পে আজ শেষ রা‌তে ব্রা‌জিল লড়‌বে মরক্কোর বিরু‌দ্ধে ◈ ১৯৮২ সা‌লে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নেমে গোল বাতিল করান কুয়েতের রাজপুত্র!  ◈ ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা ◈ কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মাজারে জমা হওয়া কোটি টাকার দান কোথায় যায়? হিসাব তলব প্রশাসনের ◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইনস্ট্যান্ট কফি কি সত্যিই ক্যান্সার ডেকে আনে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

কফিকে অনেকেই লিভারের জন্য একপ্রকার ‘অমৃত’ বলেই মনে করেন। বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত কফি পান করলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে আসে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ কফি পান করলে প্রায় সব ধরনের লিভার রোগের হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেছেন, ইনস্ট্যান্ট কফি পান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যেহেতু অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনে ইনস্ট্যান্ট কফি একটি প্রিয় পানীয়, তাই এই দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—সত্যিই কি ইনস্ট্যান্ট কফি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে?

ইনস্ট্যান্ট ব্ল্যাক কফি কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে চিকিৎসক ডা. শুভম বৎস্য স্পষ্টভাবে জানান, এই দাবি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং একটি ভাসমান মিথ ছাড়া কিছুই নয়। তিনি বলেন, ‘ইনস্ট্যান্ট কফিতে অ্যাক্রিলামাইড থাকে—এ কথা সত্যি। তবে শরীরে ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছাতে হলে দিনে অন্তত সাত-আটটি পাউচ কফি পান করতে হবে কিংবা টানা ২০–২৫ ঘণ্টা ধরে কফি খেতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব।

তিনি আরো জানান, স্বাভাবিক ও পরিমিত মাত্রায় কফি পান করলে লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমে, এমনকি হৃদযন্ত্রের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সব কিছুর ক্ষেত্রেই ভয় নয়, পরিমাণই ঝুঁকি নির্ধারণ করে।

ডা. বৎস্য ২০২৫ সালে ক্যান্সার ও ইনস্ট্যান্ট কফির যোগসূত্রকে ‘সবচেয়ে বড় মিথ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইনস্ট্যান্ট কফির পাউচে অ্যাক্রিলামাইড থাকার কারণেই অনেকের ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এটি ক্যান্সারের কারণ। বাস্তবে যদিও ইনস্ট্যান্ট কফিতে সদ্য তৈরি বা গ্রাউন্ড কফির তুলনায় অ্যাক্রিলামাইডের পরিমাণ কিছুটা বেশি, তবু বিষাক্ত মাত্রায় পৌঁছাতে হলে দিনে আট থেকে দশ পাউচ কফি পান করতে হবে।

সাধারণভাবে একজন কফিপ্রেমী দিনে দুই তিন পাউচের বেশি কফি পান করেন না। ফলে এই সামান্য অ্যাক্রিলামাইড থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি কার্যত নগণ্য বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

ডা. বৎস্য আরো জানান, যারা নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করেন, তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।

তার পরামর্শ, নিয়ম মেনে দিনে দুই চার কাপ কফি পান করুন এবং ভিত্তিহীন ভয় বা গুজবে কান দেবেন না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কফি পান নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্য সব কিছুর মতোই এখানেও পরিমিতিবোধ বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

সূত্র : আজকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়