শিরোনাম
◈ ৯৪ মিনিটে গোল, সুইসদের বিপক্ষে কাতারের অবিশ্বাস্য ড্র ◈ শান্তিচুক্তি সইয়ের সময়সূচি ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থানে ইরান ◈ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হবে, লবণচাষীরা পাবেন ন্যায্যমূল্য ◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫২ রাত
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সফরে যেসব নামাজে কসর পড়তে হয়

সফর বা ভ্রমণের সময় ইবাদত পালনে ইসলামের শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ ছাড় ও সহজীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা ইসলামি পরিভাষায় কসর হিসেবে পরিচিত। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের স্থায়ী আবাসস্থল থেকে ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরের কোনো গন্তব্যে ভ্রমণের নিয়তে যাত্রা শুরু করেন এবং নিজ এলাকার সীমানা অতিক্রম করেন, তখন থেকেই তিনি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হিসেবে গণ্য হন। 

পবিত্র কোরআনে এই বিশেষ ছাড় সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যখন পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করায় কোনো আপত্তি নেই’ (সুরা নিসা: ১০)। এই কসর বা সংক্ষেপকরণ মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ উপহার ও কল্যাণকর বিধান।

ইসলামি আইন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন মুসাফির ব্যক্তি তাঁর ভ্রমণে চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো দুই রাকাত হিসেবে আদায় করবেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা নবীর মুখে নামাজকে স্বাভাবিক অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত ফরজ করেছেন (মুসলিম: ৬৮৭)। 

মুসাফির যদি একাকী নামাজ পড়েন অথবা অন্য কোনো মুসাফির ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন, তবে জোহর, আসর ও এশার ফরজ নামাজ দুই রাকাত পড়াই তাঁর জন্য আবশ্যক। এই ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ চার রাকাত নামাজ পড়া শরিয়তসম্মত নয়।

তবে মুসাফির ব্যক্তি যদি কোনো স্থানীয় বা মুকিম ইমামের পেছনে জামাতে শরিক হন, তবে তাঁকে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজই আদায় করতে হবে। এই বিধানের স্বপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুসাফির যদি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নামাজে শরিক হয়, তবে সে যেন তাদের মতো অর্থাৎ চার রাকাতই নামাজ পড়ে (ইবনে আবি শাইবা: ৩৮৪৯)। 

এ ছাড়া সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। যদি মুসাফির ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় থাকেন বা বিশেষ তাড়াহুড়ো থাকে, তবে ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা না পড়ার সুযোগ ইসলামে রয়েছে। তবে যাত্রা বিরতিকালীন স্বাভাবিক ও স্থির অবস্থায় থাকলে সুন্নতে মুয়াক্কাদাগুলো আদায় করা উত্তম।

মুসাফিরের এই নামাজের বিধান মূলত সফরকালীন কষ্ট ও ধকল লাঘবের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ জাওয়াহিরুল ফিকহ ও আল মাবসুতসহ বিভিন্ন গ্রন্থে এই দূরত্বের সীমা ও আদায় পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সফরকালীন এই সুযোগ গ্রহণ করাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ প্রদত্ত সদকা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছেন। তাই একজন মুসাফির যখনই সফরের নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করবেন, তখন থেকেই তাঁর ওপর এই কসরের বিধান কার্যকর হবে এবং তিনি আল্লাহর দেওয়া এই সহজতা পালন করবেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়