শিরোনাম
◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৭ দুপুর
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কারণে জুমার দিন এত গুরুত্বপূর্ণ

জুমা মুসলমানদের সমাবেশের দিন। সপ্তাহের সেরা দিন। আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ ছয় দিনে নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করেছেন, ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুমার দিন। এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনই তাকে জান্নাতে দেওয়া হয় এবং এ দিনই জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। এ দিনই কিয়ামত হবে। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)

এই উম্মতের প্রতি বিশেষ দান জুমা
আল্লাহ তাআলা আগের জাতিদের আদেশ করেছিলেন, সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিনে তার বিশেষ ইবাদত করতে। কিন্তু তারা সেই শ্রেষ্ঠ দিন নির্ণয় করতে ভুল করেছে। ইহুদিরা শনিবার ও খ্রিষ্টানরা রোববারকে নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু শ্রেষ্ঠ ছিল জুমাবার। আল্লাহ তাআলা বিশেষ দয়ায় মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতকে এ দিন দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠতম এক দিনে সবাই একত্র হয়ে বিশেষ ইবাদত করা তাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে মতবিরোধ করেছে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক দিনটির পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং এক্ষেত্রে মানুষ আমাদের অনুগামী। ইহুদিদের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার পরের দিন শনিবার আর খ্রিষ্টানদের শ্রেষ্ঠ দিন এর পরের দিন রোববার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৭৬)

জুমার দিন সমস্ত দিনের সরদার
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মহান দিন জুমার দিন। সপ্তাহের মাঝেও সেরা। এটি সব দিনের সরদারও। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো জুমার দিন। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে এ দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

জুমার দিনের বিশেষ পাঁচ বৈশিষ্ট্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিন আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, এ দিনেই আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন। জুমার দিন একটা সময় আছে, এ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে, তিনি তাকে তা দেবেন। যদি না সে হারাম কোনো বিষয়ের প্রার্থনা করে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪১)

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গ্রেডভিত্তিক বেতন, বাস্তবায়ন কীভাবে

এক সপ্তাহের গোনাহ মাফ
জুমার দিন অবহেলায় কাটানো যাবে না। আমল করতে হবে। জুমার নামাজ পড়তে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। এতে এক সপ্তাহের গোনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহ মোচনকারী। যদি কবিরা (বড়) গোনাহ না করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

দশ দিনের গোনাহের ক্ষমা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন মাথা ধুয়ে গোসল করে উত্তম আতর ব্যবহারের পর ভালো জামা পরে নামাজের উদ্দেশে বের হয়। (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুজনের মাঝে গিয়ে না বসে মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে। ওই ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ ইবনে খুজায়মা, হাদিস : ১৪০৩)

এক বছরের নামাজ আদায়ের সওয়াব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে। ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে, তার জুমার নামাজে আসার প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছরের নামাজ ও রোজার পালনের সওয়াব হবে।’ (সুনানে তিরমিজি)

জুমার দিনের আমল

  • নখ কাটা, গায়ের অবাঞ্চিত লোম পরিস্কার করা।
  • ভালোভাবে গোসল করা।
  • উত্তম পোশাক পরিধান করা।
  • সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
  • সবার আগে মসজিদে যাওয়া।
  • জুমার নামাজ আদায় করা।
  • দোয়া করা।
  • রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া।
  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়