শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৩ বিকাল
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নারী কি নিজের বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে? ইসলাম কি বলে

ইসলামী সমাজে একটি প্রচলিত কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত—নারী কখনো নিজে থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এই সামাজিক রীতিকে ধর্মীয় বিধান বলে ধরে নেওয়া হয়। 

অথচ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শুধু বৈধই নয়, বরং নববি আদর্শ দ্বারা সমর্থিত একটি সুন্নতসম্মত আচরণ। 

পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা আ. এর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। মাদইয়ানে অবস্থানকালে এক সৎ ব্যক্তি তার কন্যার পক্ষ থেকে হযরত মূসা আ. কে বিবাহের প্রস্তাব দেন। 

কুরআন এই ঘটনাকে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছে— তিনি বললেন, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই। (সুরা কাসাস ২৭) 

এই আয়াত প্রমাণ করে—নারীর পক্ষ থেকে বা তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। 

সুন্নাহর আলোকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হলো রাসুলুল্লাহ সা. এর সঙ্গে হযরত খাদিজা রা. এর বিবাহ। তিনি নিজেই রাসুল সা. এর চরিত্র, সততা ও আমানতদারিতে মুগ্ধ হয়ে একজন বিশ্বস্ত নারীর মাধ্যমে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। 

এই বিবাহই পরবর্তীতে নবুয়তের সূচনালগ্নে ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও বরকতময় দাম্পত্য জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ইসলামী ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিসগণ একে নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবের সুন্নতসম্মত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিসে আরও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে—এক নারী সরাসরি রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে নিজেকে বিবাহের জন্য পেশ করেছিলেন। রাসুল সা. তার প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও নারীর এই আচরণকে কোনোভাবেই নিন্দা করেননি, বরং অন্য এক সাহাবির সঙ্গে তার বিবাহের ব্যবস্থা করে দেন। (বুখারি ৫১২০, মুসলিম ১৪১৩) 

এ থেকেই ফকিহদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত—নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শরিয়তসম্মত, শালীন ও সুন্নাহবিরোধী নয়। 

ইসলামে বিয়ের উদ্দেশ্য কেবল সামাজিক রীতি নয়, বরং তা পবিত্রতা, মানসিক প্রশান্তি ও দায়িত্বশীল পারিবারিক জীবন গঠনের মাধ্যম। সে কারণে ইসলাম এমন কোনো সামাজিক জড়তাকে সমর্থন করে না, যা হালাল সম্পর্ককে অকারণে বিলম্বিত করে। তবে একই সঙ্গে ইসলাম শালীনতা ও সংযমের সীমারেখাও নির্ধারণ করেছে। 

নারীর আগ্রহ প্রকাশ হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ, সংযত ও শরিয়তের আদবের মধ্যে—প্রয়োজনে পরিবার বা বিশ্বস্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে। 

বাস্তবতা হলো, নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাবকে অশোভন মনে করা ইসলামের শিক্ষা নয়, এটি সংস্কৃতিগত ভ্রান্ত ধারণা। এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বহু হালাল সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে, বিলম্বিত হয়, কখনো হারিয়েও যায়। অথচ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করা গেলে সমাজে ভারসাম্য ফিরে আসতে পারে এবং ইসলাম যে মর্যাদা ও সিদ্ধান্তের অধিকার নারীকে দিয়েছে—তা বাস্তবে প্রতিফলিত হতে পারে। 

ইসলাম নারীকে নীরব দর্শক করে রাখেনি, বরং তাকে সম্মান, সাহস ও সিদ্ধান্তের অধিকার দিয়েছে—বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও। 

লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়