শিরোনাম
◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে ব্রাজিল বনাম মর‌ক্কো ম্যাচের রেফা‌রি দেহব্যবসায় জড়িত মামলার আসা‌মি স্লাভকো ভিনচিচ ◈ আ‌মে‌রিকার বিরু‌দ্ধে যুদ্ধ ব‌ন্ধে ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়‌নি ◈ ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যেই আজ থে‌কে শুরু হ‌চ্ছে আরো এক বিশ্বকাপ ◈ দিদি আমার পাশে ছিলেন, আমিও তার পাশেই থাকব, কখনোই দিদিকে ছেড়ে যাব না: মমতার পাশে শত্রুঘ্ন সিনহা ◈ আগামী বছর ৪ অ‌ক্টোবর শুরু হ‌বে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, আ‌য়োজ‌নে দ.আ‌ফ্রিকা, জিম্বাবু‌য়ে ও না‌মি‌বিয়া ◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ

প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬, ০৮:৫২ সকাল
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কী কারণে নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন হাজারো মার্কিনরা?

১০ বছর আগে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন এরিন ক্লাট (৩৪)। ছয় মাসের মধ্যেই তিনি বুঝে যান, এই দেশটিকে চিরতরে নিজের আপন করে নিতে চান। বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে ২০১৬ সালে যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন, তখন তিনি কেবল ‘একটু ভিন্ন এক থাকার জায়গা’ খুঁজছিলেন। এক দশক পর, ক্লাট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেছেন। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর ঠিক আগে, ক্লাট তৎকালীন ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি গুনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেন।

উইসকনসিনে ডেইরি ফার্মিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় নিউজিল্যান্ডেও একই কাজ পান ক্লাট। সেই সুবাদে কাজের ভিসা এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান। আর তখনই মার্কিন নাগরিকত্ব ঝেঁটে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ক্লাটের মতে, আমি কখনোই দেশের প্রতি অতিরিক্ত দেশপ্রেম অনুভব করিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মার্কিন রাজনীতির গতিপথ এবং প্রবাসীদের ওপর করের বোঝা দেখে নাগরিকত্ব ত্যাগ করাটাই তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

নাগরিকত্ব ছাড়ার হিড়িক ও সরকারি লুকোচুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ কঠিন। আমেরিকান্স ওভারসিজ নামক একটি সংস্থা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ হাজার ৮৮৯ জন আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা দান ডুরলাখার জানান, এ বছর নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে সংস্থাটি।

মূল কারণ যখন ‘ট্যাক্স’ ও ‘ফ্যাটকা’ আইন

নাগরিকত্ব ত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক কারণের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখছে অর্থনৈতিক কারণ। ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট বা ফ্যাটকা আইন অনুযায়ী, একজন নাগরিক পৃথিবীর যেখানেই বাস করুন বা আয় করুন না কেন, তাকে মার্কিন সরকারকে কর দিতেই হবে। পুরো বিশ্বে কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং পূর্ব আফ্রিকার ইরিত্রিয়ায় এমন নিয়ম চালু রয়েছে।

এই আইনের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ‘দুর্ঘটনাবশত আমেরিকান’ হওয়া ব্যক্তিরা। এরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়ার কারণে বা মার্কিন বাবা-মায়ের সূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেননি। প্যারিসভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকান্স-এর সভাপতি ফ্যাবিয়েন লেহাগরে জানান, ইউরোপে এমন প্রায় ৩ লাখ মানুষ আছেন। ফ্যাটকা আইনের জটিলতার কারণে ইউরোপের ব্যাংকগুলো অনেক সময় এই মার্কিন ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বা লোন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বেতন পাওয়া বা পেনশনের টাকা জমানোর মতো সাধারণ কাজও তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

পরিচয়ের দোলাচল ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

ট্যাক্স বা রাজনীতি ছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে কাজ করে পরিচয়ের এক অদ্ভুত দোলাচল। ইতালিতে বসবাসরত ৩৭ বছর বয়সী ক্যারোলাইন চিরিচেল্লা নিজের নীল পাসপোর্ট ত্যাগ করে পুরোপুরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট আপন করে নেওয়ার প্রক্রিয়া খুঁজছেন। ক্যারোলাইন বলেন, দ্বৈত নাগরিক হলে ইতালিতে আপনাকে বড্ড বেশি আমেরিকান আর আমেরিকায় বড্ড বেশি ইতালিয়ান ভাবা হয়। এই দোলাচল কাটাতেই আমি নাগরিকত্ব ছাড়তে চাই।

তবে নিউ ইয়র্কের ইমিগ্রেশন ল ফার্মের প্রধান ব্র্যাড বার্নস্টাইন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনেকেই গভীর চিন্তা না করেই নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন, যা পরবর্তীতে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। নাগরিকত্ব ছাড়ার পর একজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ বিদেশি নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে কেবল বেড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলেও ভিসার প্রয়োজন হবে, যার কোনও গ্যারান্টি নেই। তাই সামান্য কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য এমন দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

তবে আমেরিকান্স ওভারসিজ-এর ডুরলাখার সবাইকে একটি কথাই মনে করিয়ে দেন যে, আমেরিকান নাগরিক হিসেবে আপনার কিন্তু এখনও একটি ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এই কারণেই আমি এখনও মার্কিন নাগরিকত্ব ধরে রেখেছি।

সূত্র: সিএনএন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়