শিরোনাম
◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা ◈ এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে: তারেক রহমান ◈ বালুবোঝাই ট্রাক উঠতেই ভেঙে পড়ল সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ০৯:২৮ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদ্যুৎবিহীন এসি উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় সৌদির বিজ্ঞানীরা

প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন প্রশান্তির খোঁজে আমরা সবাই এসির দিকে হাত বাড়াই। কিন্তু মাস শেষে আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিল আর পরিবেশের ক্ষতির কথা ভেবে অনেকেই থমকে যান। ঠিক এই সময়েই বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন সউদী আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (কেইউএসটি) একদল বিজ্ঞানী। তারা এমন এক শীতলীকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা চালাতে কোনো বিদ্যুৎ লাগবে না।

বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন 'নেসকড', যার পূর্ণরূপ হলো— 'নো ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল কুলিং অন ডিমান্ড'। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এমন এক টেকসই ব্যবস্থা যা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর ঠান্ডা রাখবে, কিন্তু এক ইউনিট বিদ্যুৎও খরচ করবে না। এই সিস্টেমে কোনো মোটর বা প্রথাগত এসির মতো ভারী কম্প্রেসর নেই।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

এই জাদুকরী উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে একটি বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'এন্ডোথার্মিক ডিসলিউশন' বা তাপশোষী দ্রবীভবন। এই পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নামক এক প্রকার অজৈব লবণ পানির সঙ্গে মেশানো হয়। এই লবণটি পানিতে মেশার সময় চারপাশের বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণে তাপ শোষণ করে নেয়।

পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াস থেকে কমিয়ে ৩.৬° সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা সম্ভব। সউদী আরবের পর্যাপ্ত সৌরশক্তি ব্যবহার করে পানি বাষ্পীভূত করে লবণটিকে আবার আলাদা করা হয়, যাতে এটি বারবার ব্যবহার করা যায়।

কেন এটি প্রথাগত এসির চেয়ে আলাদা?

বর্তমান সময়ের এসিগুলো কেবল ঘর ঠান্ডা করে না, বরং ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বাইরে ছেড়ে দিয়ে শহরকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অন্যদিকে, নেসকড প্রযুক্তিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অত্যন্ত সস্তা এবং সার হিসেবে সহজেই পাওয়া যায়।

এতে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ নেই বা গ্রিড দুর্বল, সেখানে এই প্রযুক্তি আশীর্বাদ হয়ে আসবে।

আগামীর সম্ভাবনা

শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, কেইউএসটি-এর বিজ্ঞানীরা সৌর প্যানেল ঠান্ডা রাখা এবং বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সংগ্রহ করার মতো আরও কিছু 'প্যাসিভ কুলিং' পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক রূপ পেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চড়া বিদ্যুৎ বিলের হাত থেকে মুক্তি পাবে।

ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সউদী বিজ্ঞানীদের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে শীতলীকরণের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। এসির আরাম এখন আর শুধু ধনীদের বিলাসিতা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সবার হাতের নাগালে আসাই এখন সময়ের অপেক্ষা। 

সূত্র: ইনকিলাব  

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়