শিরোনাম
◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি ◈ কর্ণফুলী টানেল: দৈনিক আয় ১১ লাখ কিন্তু ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যানবাহন চলাচল ৭ গুণ কম

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০৪ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকায় ভারতের নীতির পুনর্বিন্যাস: দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তার এই সফরের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু কূটনীতিতে আনুষ্ঠানিকতা খুব কমই কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জয়শঙ্কর এমন এক রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করেছেন, যে সীমা নয়াদিল্লি বহু বছর এড়িয়ে চলছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন ঢাকায় ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। সেখানে জয়শঙ্করের এই ধরনের সম্পৃক্ততা অনিবার্য ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। দ্য স্টেটসম্যানের ‘ঢাকা রিসেট’- শীর্ষক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কূটনীতি প্রায়ই ব্যক্তিনির্ভর বলে সমালোচিত। ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ- পরিচিত মুখ, পুরনো সম্পর্ক ও উত্তরাধিকারসূত্রে গড়ে ওঠা যোগাযোগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার। এই প্রেক্ষাপটে কয়েক দিন আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর সেই নির্ভরশীলতা সচেতনভাবে ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়, বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর অস্থির এবং আবেগতাড়িত।

আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে স্বীকৃতি মিলেছে যে, বাংলাদেশ এখন এক অন্তর্বর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে রাজনৈতিক বৈধতা, রাজপথের জনমত এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব- সবই প্রবহমান ও অনিশ্চিত। ভারতের আগের কৌশল মূলত ‘একটি নেতৃত্বের’ ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভরশীল ছিল। সেই কৌশল স্থিতিশীলতা এনে দিলেও বাংলাদেশের সমাজের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও জন্ম দিয়েছিল। তাদের দৃষ্টিতে, নয়াদিল্লি ক্রমে একটি পক্ষপাতদুষ্ট শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

ভারতীয় মিশনগুলোর বাইরে প্রতিবাদ কিংবা হস্তক্ষেপের অভিযোগ হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; বরং একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আড়ালে সেগুলো নীরবে জমে উঠেছিল। সফরের সময় জয়শঙ্করের ভাষা ছিল লক্ষণীয়ভাবে সংযত। কোনো বড় ঘোষণা ছিল না, কোনো আদর্শিক বার্তা দেয়া হয়নি, এমনকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথ প্রভাবিত করার প্রকাশ্য চেষ্টাও দেখা যায়নি। বরং গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ধারাবাহিকতা, অভিন্ন স্বার্থ এবং বাস্তববাদী সহযোগিতার ওপর।

এই সুর গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের জন্য এর অন্তর্নিহিত বার্তা স্পষ্ট- প্রতিবেশী কূটনীতি অতীতের সমীকরণে আবদ্ধ থাকতে পারে না। বর্তমান বাংলাদেশকে সামলাতে হলে দরকার ধৈর্য, আবেগগত বুদ্ধিমত্তা এবং এই স্বীকৃতি যে প্রভাব নৈকট্য থেকে নয়, বরং বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংযম থেকে আসে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত পরিস্থিতিকে যেমন আছে, তেমনভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত, যেমনটা সে চাইতে পারে, তেমনভাবে নয়। একই সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত, প্রায় আনুষঙ্গিক এক সাক্ষাৎ। সাম্প্রতিক গুরুতর সামরিক সংঘাতের কয়েক মাস পর এই যোগাযোগ দেখিয়ে দেয় যে, নিরাপত্তা অবস্থান অটুট রেখে ভারত কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখতে চায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি আরও বৃহত্তর একটি বার্তা জোরালো করে: নয়াদিল্লি পলিসি থেকে প্রোটোকল ও স্ট্র্যাটেজি থেকে সিম্বলিজম আলাদা করে দেখতে সক্ষম। তবে এটা ঝুঁকিমুক্ত নয়। ঢাকার সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘরোয়া রাজনীতিতে কখনো কখনো দ্বিধাগ্রস্ত বা নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসা বলেও ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতি খুব কমই কঠোর অনমনীয়তাকে পুরস্কৃত করে।

ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত- সব দিক থেকেই বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে এমন যে, অতীতের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি নস্টালজিয়ার চেয়ে অভিযোজনশীলতাই বেশি জরুরি।

শেষ পর্যন্ত, এই ঢাকা সফরকে ‘রিসেট’ কম, বরং ‘সংশোধন’ হিসেবেই দেখা উচিত। ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তার প্রতিবেশী নীতি প্রাতিষ্ঠানিক-  লেনদেনভিত্তিক নয়; দীর্ঘমেয়াদি-  নেতানির্ভর নয়। এই পদ্ধতি আদৌ আস্থা পুনর্গঠন করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে শোকের মুহূর্তের বাইরেও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর।

তবে আপাতত একটি মৌলিক সত্য নয়াদিল্লি বুঝতে পেরেছে বলে মনে হয়। তা হলো পরিবর্তনশীল প্রতিবেশে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি তাদের কথা শোনাও সমান জরুরি। অনুবাদ: মানবজমিন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়