শিরোনাম
◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে! ◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি

প্রকাশিত : ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০১ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নাচতে নাচতেই শত শত মানুষের মৃত্যু, স্ট্রাসবার্গের সেই অলৌকিক ঘটনা

১৫১৮ সালের জুলাই মাসে ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ঘটেছিল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা, যা আজও গবেষকদের হতবাক করে রেখেছে। কোনো উৎসব, সঙ্গীত বা আনন্দের উপলক্ষ নয়; হঠাৎ করেই শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে অনবরত নাচতে শুরু করে এবং থামতে পারেনি। এই অদ্ভুত ঘটনাকে পরে ইতিহাসে লেখা হয় ‘ড্যান্সিং প্লেগ’ নামে।

ঘটনার শুরু হয় একজন নারীকে কেন্দ্র করে। তিনি একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়েই কোনো কারণ ছাড়াই নেচে উঠেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচতে থাকেন। প্রথমে সবাই ভেবেছিল এটি ব্যক্তিগত উন্মাদনার প্রকাশ, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বহু মানুষ তার মতো নাচের উন্মাদনায় আক্রান্ত হতে থাকে।

একসময় পুরো শহরের রাস্তাঘাট, চত্বর আর বাজার ভরে ওঠে নাচতে থাকা মানুষের শরীরে। তারা ক্লান্তিতে লুটিয়ে পড়লেও আবার নাচতে শুরু করত, যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাদের বাধ্য করছে। কারও পক্ষে তাদের থামানো সম্ভব ছিল না।

শহর প্রশাসন ঘটনাটি সামাল দিতে উল্টো নর্তকদের জন্য বিশেষ মঞ্চ তৈরি করে। তখনকার বিশ্বাস ছিল, নাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিশাপ কাটানো যাবে না। এজন্য তাদের আরও বেশি নাচতে উৎসাহ দেওয়া হতো।

চিকিৎসকরাও বিভ্রান্ত ছিলেন। তারা এই অদ্ভুত অবস্থাকে “গরম রক্তের রোগ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং বিশ্রাম বা চিকিৎসার বদলে আরও নাচতে বলেন। ধর্মীয় নেতারা আবার মনে করতেন, এটি ঈশ্বরের শাস্তি বা কোনও পবিত্র সন্তানের অভিশাপ।

তবে আধুনিক ইতিহাসবিদরা ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। অনেকের মতে, এটি ছিল সমষ্টিগত মানসিক উন্মাদনা- mass hysteria। কারও মতে দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ মানুষের মধ্যে এমন আচরণ সৃষ্টি করেছিল। একদল গবেষক আবার ধারণা করেন, আর্গট নামের ফাঙ্গাস–সংক্রমিত শস্য খাওয়ার ফলে বিষক্রিয়া হয়েছিল, যা LSD–জাতীয় হ্যালুসিনেশন তৈরি করতে পারে।

ঠিক কতজন মারা গিয়েছিল সে নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ধারণা করা হয় এই নাচের মহামারীতে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ১৫১৮ সালের এই ঘটনা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় জনস্বাস্থ্য–বিপর্যয়ের একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: জনকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়