শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সংকট ◈ বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তবে শর্ত আছে: শিশির মনির ◈ ‘দেখা করার কথা বলে’ শপিং মলে ডেকে বেনজীরকে ধরিয়ে দেন এমপি বন্ধু ◈ বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন, স্পেনকে রুখে দি‌য়ে ইতিহাস কেপ ভার্দের  ◈ সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৫৭ বিকাল
আপডেট : ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি, সহজ সমাধান কী?

পবিত্র রমজান মাসে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর ইফতার ও সেহরিতে খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের তারতম্যের কারণে পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে অনেকেই রোজার শুরু থেকেই গ্যাস, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় ভোগেন। তবে সচেতন খাদ্য নির্বাচন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এসব সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ হলো সারা দিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভারী, তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয় এবং গ্যাস, ঢেকুর ওঠা ও বুক জ্বলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ সমস্যা এড়াতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে ১–২ দিন সীমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ভাগ করে খাওয়া উত্তম। একইভাবে একবারে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত।

ইফতারের জন্য পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য মেনু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—দই-চিড়া, খেজুর, সেদ্ধ ডিম একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। এছাড়া ওটস ও সবজিসহ সেদ্ধ ডিম, বিভিন্ন প্রকার ফল, মিক্সড ফলের সঙ্গে টক দই এবং খেজুরও ভালো নির্বাচন অথবা ঘরে তৈরি হালিম ও ইফতারের মেনু হিসেবে রাখা যায়। এতে করে পাওয়া যায় ব্যালান্সড নিউট্রিশন। এসব খাবার শরীরে ধীরে শক্তি জোগায়, পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ রাখে এবং অতিরিক্ত তেল গ্রহণ কমায়।

সেহরির ক্ষেত্রেও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সেহরি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলা ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। তাই সেহরি সম্পন্ন করে ফজরের নামাজ আদায় করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা নড়াচড়া করে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত, এরপর ঘুমালে তা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী হয়।

সেহরিতে এমন খাবার পরিহার করা উচিত নয় যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে। চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা পদ, অতিরিক্ত ঝাল, চা ও কফি অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়াতে পারে। পরিবর্তে অল্প পরিমাণে ভাত বা রুটি, শাক-সবজি, ডিম, দুধ, মাছ বা মাংস গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে রান্নায় তেল-মসলার ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও তরল জাতীয় খাবার সেহরিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

যাদের পূর্ব থেকে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করে নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় ওষুধ সেবন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোজা পালনে সমস্যা হয় না।

রমজানে খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুষম, সহজপাচ্য ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ। অতিরিক্ততা পরিহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত জীবনযাপনই পারে রমজানে পরিপাকজনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখতে এবং ইবাদতের জন্য শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়