শিরোনাম
◈ প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্রমবাজার ◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০২:২৬ রাত
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্ব যখন আরও অশান্ত, তখনও সবচেয়ে নিরাপদ ৫ দেশ কোনগুলো? জানুন সেখানে জীবনের বাস্তব চিত্র

গত বছরের তুলনায় বিশ্ব আরও কম শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (বিশ্ব শান্তি সূচক) অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৯৯টি দেশে সার্বিক শান্তি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি পরিস্থিতির অবনতির ধারা টানা ১২ বছরে গড়িয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কয়েকটি দেশ নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

২০০৭ সালে সূচকটি তৈরি করা ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান স্টিভ কিলেলিয়া বিবিসিকে বলেন, 'বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতির অবনতি হলেও শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়েছে।'

সামরিক ব্যয়, চলমান সংঘাত, হত্যার হার, সামাজিক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তাসহ ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে ১৬৩টি দেশের অবস্থান মূল্যায়ন করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলোতে সাধারণত সহিংসতার হার কম, সামাজিক আস্থা বেশি এবং জীবনযাত্রার মান তুলনামূলকভাবে উন্নত।

নিরাপত্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, কী কারণে এই পরিবেশ বজায় থাকে এবং ভ্রমণকারীরা কীভাবে সেই অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, তা জানতে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ পাঁচটি দেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি।

২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে শীর্ষ ১০ দেশ
১. আইসল্যান্ড ২. নিউজিল্যান্ড ৩. সুইজারল্যান্ড ৪. স্লোভেনিয়া ৫. আয়ারল্যান্ড ৬. অস্ট্রিয়া ৭. পর্তুগাল ৮. সিঙ্গাপুর ৯. ফিনল্যান্ড ১০. জাপান

আইসল্যান্ড: ২০০৮ সাল থেকে আইসল্যান্ড এই সূচকের শীর্ষে রয়েছে। ২০২৬ সালেও দেশটি টানা ১৯তম বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে। এ বছর দেশটির স্কোর ২ শতাংশ উন্নত হয়েছে। এর পেছনে সহিংস বিক্ষোভ কমে যাওয়া এবং সীমিত সামরিকীকরণকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিজিট আইসল্যান্ডের প্রধান অডনি আর্নাসডটির বলেন, আইসল্যান্ডে শান্তি শুধু প্রকৃতির মধ্যে নয়, মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। সমতা, শক্তিশালী জনসেবা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বিষয়টি শুধু নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়রা সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধকেও বড় কারণ হিসেবে দেখেন। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানও এখানে ভূমিকা রাখে।

হোটেল রাঙ্গার মার্কেটিং ম্যানেজার এইরুন আনিতা গিলফাদটটির বলেন, আইসল্যান্ডের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটি বৈশ্বিক উত্তেজনায় তুলনামূলকভাবে কম জড়িয়ে পড়ে। বিশাল প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়, বিশুদ্ধ বাতাস এবং প্রচুর মিঠা পানি এখানকার জীবনযাত্রার মানকে সমৃদ্ধ করেছে।

পর্যটকদের জন্য আর্নাসডটিরের পরামর্শ, আইসল্যান্ড ঘুরতে গিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সময় কাটানো উচিত। প্রকৃতি ও জাদুঘরগুলো উপভোগ করলে দেশটির শান্ত পরিবেশকে আরও ভালোভাবে অনুভব করা যায়।

নিউজিল্যান্ড: গত বছর তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ এটি। চলমান সংঘাতের সূচকেও দেশটির স্কোর সবচেয়ে কম। অস্ত্র আমদানি কমে যাওয়ায় এ বছর দেশটির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে।

এনজেড গোল্ডেন ভিসার প্রতিষ্ঠাতা এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ওয়ারউইক উডলি বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চল থেকে দূরে থাকার কারণে ভূরাজনৈতিক জটিলতার অনেকটাই নিউজিল্যান্ড এড়িয়ে যেতে পেরেছে।

তবে তিনি শুধু ভূগোলকে নয়, সংস্কৃতিকেও কারণ হিসেবে দেখেন।

তার ভাষ্য, এখানকার মানুষ সাধারণত শান্ত স্বভাবের এবং অযথা বিরোধে জড়ানোর চেয়ে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বেশি পছন্দ করেন।

উডলি বলেন, নিরাপত্তা এখানে এতটাই স্বাভাবিক বিষয় যে মানুষ অনেক সময় সেটাকে আলাদাভাবে খেয়ালই করে না।

তিনি জানান, বন্দুক এখানকার দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়। ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর অস্ত্র আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে চেনে এবং খোঁজখবর রাখে।

তিনি বলেন, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও বনভূমি দেশটির যেকোনো জায়গা থেকেই সহজে পৌঁছানোর মধ্যে রয়েছে, যা জীবনযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

সুইজারল্যান্ড: গত বছরের পঞ্চম স্থান থেকে উঠে এসে ২০২৬ সালে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। কম অপরাধপ্রবণতা এবং দীর্ঘদিনের সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি দেশটির শক্তির অন্যতম ভিত্তি।

জেনেভাভিত্তিক লেখক ও এক্সিকিউটিভ কোচ কর্নেলিয়া চোয়ে বলেন, 'আমার মনে হয়, এখানকার মানুষ একে অপরের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত থাকে। এর ফলে এমন একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে মানুষ সাধারণত সঠিক কাজটিই করবে বলে বিশ্বাস করা যায়।'

এই আস্থা দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হয়।

চোয়ে বলেন, তিনি দুবার মানিব্যাগ ও ব্যাংক কার্ড হারিয়েছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই অপরিচিত ব্যক্তিরা সেগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছেন বা সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

তার ভাষ্য, শান্তি মানে মতপার্থক্যের অনুপস্থিতি নয়। বরং মতপার্থক্য নিয়েও একসঙ্গে ভালোভাবে বাঁচার পথ খুঁজে বের করার সম্মিলিত চেষ্টা।

স্লোভেনিয়া: প্রথমবারের মতো গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে স্লোভেনিয়া। কম সামরিক ব্যয় এবং উচ্চ জননিরাপত্তা দেশটির এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ইন্ট্রেপিড ট্রাভেলের ইস্টার্ন ইউরোপ অপারেশন্স ম্যানেজার জারনেজা জভার বিবিসিকে বলেন, 'স্লোভেনিয়ানরা সম্প্রদায়কে খুব গুরুত্ব দেয় এবং প্রকৃতির মধ্যে অনেক সময় কাটায়। আমার মনে হয়, এ কারণেই সমাজে এক ধরনের প্রশান্তি ও স্থিরতা তৈরি হয়েছে।'


তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা মানুষের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

জভারের মতে, স্লোভেনিয়ায় গেলে মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা ও চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই মুগ্ধ করবে।

আয়ারল্যান্ড: তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। সহিংসতার নিম্ন হার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে সীমিত সম্পৃক্ততার কারণে দেশটি উচ্চ স্কোর অর্জন করেছে।

ওয়েস্ট কর্কের নেটিভ হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা ডিডি রোনান বলেন, 'আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস মানুষকে কুসংস্কার ও বিভেদের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করেছে। একইসঙ্গে অন্যদের প্রতি উদার ও স্বাগত জানানোর গুরুত্বও শিখিয়েছে।'

তিনি এই আতিথেয়তার ঐতিহ্যের শিকড় প্রাচীন ব্রেহন আইনে খুঁজে পান।

আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার নীতিও দেশটির শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে। কারণ দেশটি বিদেশি যুদ্ধ বা সামরিক জোটে অংশ নেয় না।

রোনানের মতে, আয়ারল্যান্ডের এই শান্ত পরিবেশ অনুভব করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া। সেটা জঙ্গলে হাঁটা হোক বা উপকূলীয় কোনো অভিযানে অংশ নেওয়া। উৎস: ডেইলি স্টার।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়