শিরোনাম
◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও) ◈ ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো  ◈ ৬ শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ◈ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে ◈ পাঁচ সদস্যের সভাপতি মন্ডলীর নাম ঘোষণা ◈ বিশ্বকাপ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ, মে‌সি‌কে ছাড়াই হন্ডুরাসকে ২-০ গো‌লে হারালো আর্জেন্টিনা  ◈ একটি শিশুর ওপর নির্যাতন পুরো সমাজকে আহত করে: রামিসার রায়ে আদালতের বার্তা

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০১:১৬ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ভালো ব্যাংকও রক্ষা পায়নি, ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টির অবস্থার অবনতি, বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণের পাহাড়

কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক,  প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে। 

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সূত্র: টিবিএস

মাত্র তিন মাসে এই ৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে, মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত বকেয়া ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা (৩০.৬০ শতাংশ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ডিসেম্বর প্রান্তিকে অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ কম দেখিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে পরে অনেক গোপন খেলাপি ঋণ উদঘাটিত হয়েছে। এছাড়া নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপে থাকায় ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: ছয়টির মধ্যে চারটিরই আরও অবনতি

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৫.৮৫ শতাংশ।

গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জনতা ব্যাংকে। ২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ। 

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৬৮৮ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৮৪ কোটি টাকা ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ১১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপে বেসরকারি ব্যাংকগুলো

গত তিন মাসে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিক শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩০.১১ শতাংশ। 

বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৪টিতেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা অনেক ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। 

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৬৩ শতাংশ)। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

মূলধন সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ সময়ে সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২২ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ৬৬২ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৪০৬ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৩৯২ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

এছাড়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৯১৭ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭২৬ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ৪৫৩ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২১৮ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২১১ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৯৩ কোটি টাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩১ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেবল বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, মার্চ প্রান্তিকে বিশেষায়িত তিন ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিন মাসে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৩৪ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯৯ কোটি টাকা। 

এছাড়া বিদেশি এইচএসবিসি বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্টেট ব্যাংক অভ ইন্ডিয়ারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে ব্যবসার প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে কিছু বড় ঋণগ্রহীতা ক্রমবর্ধমানভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, কঠোর নজরদারির কারণে আগে গোপন রাখা খেলাপি ঋণগুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে। একইসঙ্গে ঋণ স্থগিতাদেশ ও বিলম্বে পরিশোধ সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো চাপে থাকা হিসাবগুলোকে আবার শ্রেণিকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে নগদ প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ঋণ মূল্যায়ন ও জামানতের অবমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। তাছাড়া ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়