শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ‌বো‌লিং‌য়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পাফর‌মে‌ন্সে আইসি‌সি র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ নাহিদ রানার ◈ শিগগিরই সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শিল্পখাতের ধীরগতি সত্ত্বেও ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫২ রাত
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লোডশেডিং-ডিজেল সংকটে শিল্পে ধাক্কা, উৎপাদন কমে বাড়ছে খরচ

জ্বালানি সংকট বড় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ফেলেছে শিল্পোদ্যোক্তাদের। বিদ্যুতের লোডশেডিং আর ডিজেলের সংকটে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে কমছে কারখানার উৎপাদন। বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।

উদ্যোক্তারা বলছেন, দিন যতই যাচ্ছে, লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত সপ্তাহে দিনে যেখানে বিদ্যুৎ থাকত ৮ ঘণ্টা, এখন সেখানে থাকছে ৪ ঘণ্টা। অর্থাৎ লোডশেডিং দ্বিগুণ হয়েছে। এই সংকট মেটাতে ভরসা একমাত্র জেনারেটর। কিন্তু জেনারেটর চালাতেও প্রয়োজনমতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকার আশুলিয়ার মোটেক্স ফ্যাশনের মালিক মোহাম্মদ মাসুদ করিম গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কারখানায় কাজ চলে ১০ ঘণ্টার মতো। কিন্তু তিন-চার দিন ধরে এই সময়ের মধ্যে ৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। কারখানা চালু রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। দিনে প্রয়োজন ২৫০ থেকে ৩০০ লিটার ডিজেল। কিন্তু ১০০ থেকে ১৫০ লিটার পেতেই জীবন বের হয়ে যাচ্ছে। তাই দিয়ে কোনোমতে দিন পার করছি।’

আশুলিয়া-গাজীপুরসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প এলাকায় ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে বলে জানিয়েছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ দুটোই বেড়েছে। আর পণ্য পাঠানোর খরচ আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।’

লোডশেডিংয়ের ফলে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ভুগছে বলে জানান তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ। তিনি বলেন ‘কারখানা চালু রাখতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কারখানাতে দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’

তৈরি পোশাকশিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী এক-দুই মাসে পোশাক রপ্তানি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে বার্ষিক রপ্তানি আয়ও বড় ধাক্কায় পড়তে পারে। উদ্যোক্তারা দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তা না হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান—তিন ক্ষেত্রেই বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

জ্বালানি তেলের সংকট ও চলমান লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিভিন্ন শিল্প এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরশু দিন আশুলিয়ায় দিনের বেলায় ৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর বা রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট। বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার কথা থাকলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার অধীনে থাকা কারখানাগুলোতেও প্রায় একই চিত্র। জানতে চাইলে বেপজার এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেপজা তো দেশের বাইরে নয়, এখানেও শোডশেডিং হচ্ছে।’ উৎস: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়