শিরোনাম
◈ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইতিহাস গড়া বাজেট, লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ◈ ৪৮ দলের মহারণ, আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের ◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০৮:২৪ রাত
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিরলে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন; ঠিকানা না থাকায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

এম এ কুদ্দুস, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতক এক ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক মানষিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, চিকিৎস্যা এবং সেবায় মা ও শিশু দু’জনে সুস্থ্য থাকলেও সঠিক ঠিকানার অভাবে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

এদিকে শিশুটিতে দত্তক নেয়ার জন্য অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে আবেদন করেছেন।

জানাগেছে, স্থানীয় এক নারীর সহায়তায় গত ৫ জুন-২০২৬ শুক্রবার সকালে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মানষিক ভারসাম্যহীন ওই নারী এক শিশু ছেলের জন্ম দেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবোধানেই রয়েছেন এই মা ও শিশু।

অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই নারী জানান, তাঁর নাম মিশু, বাবার নাম আসলাম, মহিলা মেম্বারের নাম দুলালী, তাঁর বাড়ী আত্রাই, সেখানে নদী আছে, স্বাস্থ্য ক্লিনিক আছে এবং বাবা আসলাম একজন ডাক্তার,বাবা আসলামের ভবানীপুর বাজারে ডেসপেনসারি আছে। এর বেশি সে আর কিছু বলতে পারেনি। তাকে লিখতে বললে সে তাঁর নাম মিশু লেখেন ও বাবার নাম আসলাম লেখার চেষ্টা করেন।

ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমলেক্সে নিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলার ১০ রাণীপুকুর ইউপি’র বরাহ নগর গ্রামের আব্দুল হালিমের স্ত্রী মোছাঃ রিতা বেগম জানান, গত প্রায় দশ দিন আগে এই অজ্ঞাত নারী গর্ভবতী অবস্থায় আমাদের বাড়ীর সামনে আসেন। আমি তাকে আমাদের বাড়ীতে আশ্রয় দেই। আমি তাঁর নাম, ঠিকানা জানতে তাঁর সাথে অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছি। তবে তিনি কোন কথা বা কোনকিছু আমাকে বলেননি। তাঁর প্রসব ব্যথা উঠলে আমি তাকে শুক্রবার সকালে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। শিশুটির নিরাপত্তার কারণে আমি মা ও শিশু দু’জনেরই দায়িত্ব নিতে চাই। যদি কোন দিন সে তাঁর সন্তানকে ফেলে পালিয়ে যায়, তাহলে আমি শিশুটির সামগ্রিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের সন্তান মনে করে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবো।

ওই মা ও শিশুর দেখভালের দায়িত্ব নিয়জিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সেবিকা জানান, আমাকে এই মা ও শিশুকে দেখভাল করার জন্য স্যার আমমাতে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি আমার সাধ্যমত তাদের দেখভাল করছি এবং তাঁর কাছ থেকে নাম ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করছি।

এব্যপারে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পিরকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ পার্থ জ¦ীময় সরকার বলেন, আমাদের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৫ জুন সকাল বেলা একজন মানষিক ভারসাম্যহীন নারী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে ওই নারীর সঠিক পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর কোন আত্মীয় স্বজন আমরা খুজে পাইনি। ওই নারী বর্তমানে আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং মা ও শিশু দু’জনই সুস্থ্য আছে। সে যেহেতেু মানষিক ভারসাম্যহীন। সে কারনে আমরা তাঁর ও তাঁর শিশুর পৃথকভাবে থাকা খাওয়া ও চিকিৎস্যার ব্যবস্থা করেছি। এ ক্ষেত্রে বিরল উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রাজুল ইসলাম জানান, গত ৫ জুন-২০২৬, শুক্রবার সকালে ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে এক অজ্ঞাত মহিলাকে রিতা নামের একজন মহিলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে যাবার পর ওই মহিলার পুত্র সন্তান প্রসব হয়। এব্যপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় একটি ডায়েরী করেন। সে হিসাবে থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে প্রভেশন অফিসার হিসাবে অবহিত করেন। এবিষয়ে আমরা উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড গতকাল  (রোবার) একটি জরুরী মিটিং করি। শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয় যে, যারা শিশুটিকে দত্তক নিতে চান, তারা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

তারপর ১৪ এবং ১৫ তারিখে আমরা যাচাই বাছাই করবো। যাচাই বাছাই করে যাকে আমরা উপযুক্ত মনে করবো তাকে আমরা ১৬ তারিখে বাচ্চাটি হস্তান্তর করবো। আর যদি হস্তান্তর করতে না পারি, উপযুক্ত কাউকে না পওয়া যায়, তাহলে আমাদের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজ কল্যান অধিদপ্তরে এই ধরণের শিশুদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান আছে। শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ছোটমনি নিবাস আছে। যদি উপযুক্ত কাউকে না পাই সেক্ষেত্রে বাচ্চাটিকে আমরা ছোটমনি নিবাসে প্রেরণ করবো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়